সতেজ থাকার উপায়(Ways to stay fresh)

সতেজ থাকার উপায়(Ways to stay fresh)

আসসালামু আলাইকুম, ফ্রেন্ড’স আইটি পয়েন্ট (FriendsITpoint) এর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম।  পূর্ববর্তী ব্লগগুলিতে আমরা আলোচনা করেছি মানবদেহে খাদ্যের অবদান ও সুস্থ জীবনের জন্য যেসব খাদ্য গ্রহন করা উচিত এই সম্পর্কে। আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আমরা সতেজ থাকার উপায় সমূহ নিয়ে আলোচনা করবো।

সুস্থতার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করুনঃ

সারাদিন কাজ করতে গিয়ে নিজেকে সময় দিতে পারছেন না, এটা ঠিক হচ্ছে না। যে কাজের জন্য নিজের খেয়াল করতেছেন না, পরবর্তীতে দেখা যাবে নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য সেই কাজ বাধা হয়ে দাঁড়াবে একদিন। আরো স্পষ্ট ভাষায় বললে যে অর্থ উপার্জন এর জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন, নিজের শরীর এর যত্ন নিচ্ছেন না, একসময় সেই অর্থ নিজের শরীর সুস্থ করার পিছনে খরচ করবেন, এর থেকে ভালো হয় যদি শুরু থেকেই নিজের একটু খেয়াল করেন।

কথায় আছে সুস্থ দেহে সুন্দর মন। জীবনে বেচে থাকতে হলে আমাদের সতেজ থাকা খুবই প্রয়োজন। তখনই আমরা সতেজ থাকতে পারি , যখন আমরা সুস্থ থাকি। এ কারনে সতেজ থাকার পূর্ব শর্ত হলো নিজেকে সুস্থ রাখা। মহান সৃষ্টি কর্তার নিয়ামত গুলোর মধ্যে সুস্থতা হলো  একটি বড় ধরনের নেয়ামত। যদি আপনি কখনো কোন বড় ধরনের অসুস্থতায় ভুগেন, নিশ্চিত আপনি বুঝতে পারবেন সুস্থ থাকাটা আমাদের জন্য কতটা দরকারি।

 

আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, সতেজ থাকার কৌশল এ আলোচনার বিষয়বস্তুঃ  

১। কী কারনে আমাদের সতেজ থাকা প্রয়োজন?  

২। কী কী উপায় অবলম্বন করে আমরা সতেজ থাকতে পারি ?

৩। অতিরিক্ত গরমে কিভাবে সতেজ থাকা সম্ভব ?

৪। অতিরিক্ত ব্যস্ততার মাঝে কিভাবে নিজেকে সতেজ রাখবেন ?

৫। কি ধরনের খাবার খেলে সহজে সতেজতা অনুভব করা যায় ?

৬। অবসর সময়ে কিভাবে নিজেকে সতেজ রাখবেন? 

সুস্থ-সুন্দর দেহ কে না চায়? আমরা অধিকাংশ মানুষ সহজেই সুন্দর বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পরি। নিজেকে সতেজ রাখা হলো আমাদের এক প্রকার জৈবিক চাহিদা। আমাদের সবারই এটির বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। আপনার সু-স্বাস্থ রক্ষায় লেখাটি পড়ে উপকৃত হতে পারেন। ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন।

 

১। কী কারনে আমাদের সতেজ থাকা প্রয়োজন(Why do we need to stay fresh)?

সহজ একটি উদাহরনের মাধ্যমে বিষয় টি বোঝার চেষ্টা করি, 

মনে করেন আপনি বাজার থেকে একটি গাছ কিনে এনেছেন,উদ্দেশ্য হলো ,গাছটি কে বড় করে লাভবান হওয়া অথবা এর ফল আস্বাদন করা। কিন্তু গাছটির যত্ন নিলেন না, সঠিক ভাবে পরিচর্যা করলেন না। দিনের পর দিন যত্নের অভাবে, পানি দেওয়ার অভাবে গাছটি নিস্তেজ হয়ে পরবে। শেষ পর্যায়ে গাছটি তার সতেজতা হারিয়ে ফেলবে।

আমাদের রক্ত মাংসের শরীরটাকে গাছের সাথেই তুলনা করা যেতে পারে।

আপনি জীবনে অনেক কিছু করতে চান, পড়াশুনার ক্ষেত্রে সাফল্য, কর্ম জীবনে সাফল্য, ইত্যাদি। সেক্ষেত্রে আপনার বিশেষ ভাবে প্রয়োজন শারীরিক সুস্থতা এবং সতেজ থাকা। একজন সুস্থ মানুষ পরিবারের পাশাপাশি দেশের ও সম্পদ। কারন সুস্থ মানুষের দ্বারা অনেক কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব। বিপরিত ভাবে অসুস্থ মানুষ হলো দেশ ও  রাষ্ট্রের বোঝা স্বরূপ । 

এর অর্থ আমি অসুস্থদের অবহেলা করার কথা বলছি না। আপনি নিজেকে অসুস্থতার স্থানে কল্পনা করতে পারেন। তাহলে বিষয়টি আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

 

২। কী কী উপায়ে আমরা সতেজ থাকতে পারি(what ways can we stay fresh)?

সতেজ থাকা বলতে শুধু শারীরিক সুস্থতা কে বোঝায় না, সতেজতা বলতে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাকেও বোঝায়। শরীর সুস্থ থাকলে মন ও ভালো থাকে। কথায় আছে বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়। আপনি অসুস্থ থাকলে ও সুস্থ হওয়া সম্ভব । কিন্তু মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরলে সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়। আপনাকে সুস্থ থাকতে হলে , আপনার নিজেকেই মানসিক ভাবে শক্তি যোগাতে হবে। 

তাই শরীর সুস্থ থাকলেই মন ভালো রাখা সম্ভব।  এর জন্য আপনাকে বেশি কষ্ট  করতে হবে না। সুবিধা মত একটি রুটিন বানিয়ে তা নিয়মিত অনুসরনের মাধ্যমে সতেজ ভাবে আপনি আপনার দিন শুরু করতে পারেন। 

কথা না বাড়িয়ে চলুন  জেনে আসা যাক কী কী উপায়ে আমরা সতেজ থাকতে পারি। 

  • ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করা। যেন পর্যাপ্ত পরিষ্কার বাতাশ ও সূর্যের আলো  থেকে ভিটামিন ডি গ্রহন করতে পারেন।  এছাড়া সকালের বাতাশ মস্তিস্ক ও চোখ সতেজ রাখে।
  • প্রতিদিন সকালে খালি পেটে  পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা । ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হওয়ার পর খালি পেটে পানি পান করলে সহজে পেটের অসুখ হয় না। এছাড়া গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় ।
  • প্রতিদিন সকালে হাটাহাটি/ব্যয়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন এতে করে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। 
  • সকাল সকাল গোছল করার অভ্যাস করুন। সকালে গোছল করলে সারাদিন আপনার ঝরঝরে অনুভুতি কাজ করবে। সতেজ থেকে আপনি আপনার কাজ গুছিয়ে করতে পারেন।
  • নির্দিষ্ট সময়ে আহার করা। চেষ্টা করবেন যেন খাওয়ার সময় একই থাকে। প্রতিদিন  নিয়মিত সময় খাবার খেলে আপনার পরিপাক তন্ত্র ভালো  ভাবে কাজ করবে। সতেজ থাকার জন্য এটি খুবই দরকারি।
  • শাকসবজি ও ফল। বিশেষ করে শশা । গরম কালে নিয়মিত ফল ও শশা খাওয়ার ফলে ঘাম কম হবে, পিপাসা কম  লাগবে, ঘামের দুর্গন্ধ কম হবে।
  • গরম কালে ব্যাগে রাখুন রোজ ওয়াটার স্প্রে, অ্যালোভেরা জেল, ওয়েট টিস্যু জাতীয় জিনিস। যখনই  ক্লান্ত লাগবে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে, রোজ ওয়াটার স্প্রে করে নিন বা জেল লাগিয়ে নিন। চেহারায় ক্লান্তি ভাব দূর হবে, সতেজতা ফুটে উঠবে।

সতেজ থাকতে যা যা করনীয়ঃ

  • জীবনের আনন্দ উপভোগ করার মাধ্যম হাসি, আনন্দ উপভোগ করুন এবং হাসুন। হাসলে মানুষকে সুন্দর দেখায়।
  • হালকা সুতি বস্ত্র পরিধান করুন। 
  • জুস অথবা লেবুর সরবত ঘন ঘন পান করুন।
  • খুব বেশি ঠান্ডা পানি পান করবেন না।
  • বাইরে গেলে রোদ থেকে বাচতে ছাতা এবং রোদ চশমা ব্যবহার করুন।
  • দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে ডাবের পানি খেতে পারেন। এর পাশাপাশি ডাবের পানি দিয়ে মুখ                               ও ধুয়ে নিতে পারেন। এতে ত্বকে সতেজতা ফিরে আসে। 
  • বেশি করে পানি যুক্ত হালকা খাবার খাবেন।
  • বাইরে রোদ থেকে এসে গোসল করে নিবেন। সকল ক্লান্তি কেটে যাবে। নিজেকে সতেজ অনুভব করবেন। 

সতেজ থাকতে যা যা করা বর্জনীয়ঃ

  • অতিরিক্ত রোদে অপ্রয়োজনে বাইরে যাবেন না।
  • পিপাসা লাগলে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি পান করবেন না।
  • শরীরে ঘাম শুকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • মদ বা কফি একেবারেই খাবেন না।
  • অতিরিক্ত প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। 

 

৪। অতিরিক্ত ব্যস্ততার মাঝে কিভাবে নিজেকে সতেজ রাখবেন(How to keep yourself fresh in the midst of extra busyness)?

সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমরা আমাদের কর্ম জীবনে জড়িয়ে পরি। ব্যস্ততার কারনে আমরা আমাদের নিজের যত্নের কথা ভুলে যাই। দৈনন্দিন জীবনে ব্যস্ত থাকার কারনে ইচ্ছা থাকলেও নিজেদের জন্য তেমন কিছুই করতে পারি না। এ সমস্যা টি থেকে মুক্তি পেতে হলে আপনাকে একটু চটপটে হতে হবে।

  • কাজের মাঝে ৩/৪ বার মুখ ধুয়ে হালকা ক্রিম অথবা পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। যেন আপনার সতেজ ভাবটি হারিয়ে না যায়, ক্লান্তির ছাপ মুখে পরতে দিবেন না।
  • খিদা পুষে রাখবেন না। নিজের সাথে টুকটাক খাবার , বিস্কুট, ফল,জুস রাখবেন। যেন অল্প সময়ে খেতে পারেন।
  • হাতের কাছে  সবসময় পানি রাখবেন। কিছু সময় পর পর পানি পান করতে পারেন।
  • চেষ্টা করবেন সব সময় পরিপাটি থাকার। তাহলে কাজে পূর্ণ মনোযোগ আসবে। 

 

৫। কি ধরনের খাবার খেলে  সহজে সতেজতা অনুভব করা যায়(What kind of food can be easily refreshed)?

নিজেকে সতেজ রাখার ক্ষেত্রে খাদ্য নির্বাচন  একটি গুরত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আপনি যে খাবার গুলো রাখতে পারেনঃ

  • তাজা ফল-মূল। 
  • শাকসবজি
  • সালাড
  • মধু
  • ডিম
  • জুস
  • চা

যে সকল খাবার এড়িয়ে চলতে হবেঃ

  • চর্বি জাতীয় খাবার।
  • অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া।
  • ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার।
  • লাল মাংস (গরু, ছাগল, মহিষ) সীমিত পরিমান খেতে পারেন।

৬। অবসর সময় নিজেকে কিভাবে সতেজ রাখবেন(How to keep yourself fresh in leisure time)?

অবসর সময়ে নিজেকে সতেজ রাখার কৌশল(Strategies to keep yourself fresh in leisure time): 

অবসর সময় কে কাজে লাগিয়ে আমরা নিজেদের সতেজ রাখতে পারি। দীর্ঘ সময়ের ক্লান্তি দূর করার জন্য নিচের দেওয়া টিপস গুলো  অনুসরন করতে পারি।

  • পর্যাপ্ত  পরিমান ঘুমানো। ঘূম ঠিক ভাবে না হলে আমাদের অনেক সমস্যা দেখা দেয়। চোখের নিচে কালো দাগ পরে, মুখে ব্রন দেখা দেয়, ত্বকের লাবন্যতা হারিয়ে যায় । তাই ত্বকের সজীবতা ধরে রাখতে অবসর সময় ঘুমিয়ে নিন।
  • সময় সুযোগ হলে কোন সুন্দর , প্রাকৃতিক স্থানে  ঘুরতে যাওয়া । ভ্রমনের মাধ্যমে আপনি নিজেকে নতুন ভাবে আবিষ্কার করতে পারবেন। ঘুরতে গেলে আপনার সব মানসিক সমস্যা দূর হয়ে যাবে । ফিরে এসে আপনি পাবেন সতেজ   অনুভুতি। 
  • অবসর সময়ে ব্যয়াম করা। ব্যয়ামের মাধ্যমে আপনার অলসতা কেটে যাবে। কাজের গতি আসবে। 
  • উপরের এসব কোন কিছু করতে ভালো না লাগলে , আপনার সখের কোন কাজ করতে পারেন, যা আপনাকে আনন্দ  দেয়।

যেমনঃ ছবি আঁকা, কবিতা লিখা, বই পড়া ইত্যাদি। এর দ্বারা ও আপনি সতেজ থাকতে পারেন।

সার-সংক্ষেপঃ যখন আপনি সতেজ থাকার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারবেন তখন আপনাকে সব কিছু ভালো লাগবে, সতেজতার মাধ্যমে আপনার বিরক্তিকর ভাব দূর হবে। সব কিছু প্রাণবন্ত মনে হবে। 

কোন কঠিন কাজ করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে। সতেজতা আপনাকে সাহায্য করবে ইতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গি তৈরি করতে। আপনি অনুভব করবেন, সুন্দর চোখে দেখ পৃথিবী কত সুন্দর।

 

সতেজ থাকার উপায় নিয়ে কোনো পরামর্শ থাকলে, আমাদেরকে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।

আপনাদের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আমার সংক্ষিপ্ত আলোচনা এখানেই শেষ করছি। ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে আমাদের পুরো পোস্টটি পরার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *