বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী বক্তব্য [কয়েকটি নমুনা সহ]

বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী বক্তব্য [কয়েকটি নমুনা সহ]

আসলামুআলাইকুম, Blog Academy তে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য সাধারণত বছরে দুই একবার হয় তাই, এ বিষয়টি আমাদের সবসময় আয়ত্বে থাকে না। সেই কথা ভেবে, আমরা খুব সহজ ভাষায় আমাদের আজকের আলোচনায়  বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী বক্তব্য সম্পর্কে বলবো। তো চলুন জানা যাক বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী বক্তব্য এর খুটি নাটি উদাহরন সহ বিস্তারিত। আর হ্যা লেখার শেষে একটি ভিডিও উদাহরণ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে যা আপনাকে বেশ ভালো অনুপ্রেরণা দিবে, ইনশাল্লাহ। 

বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী বক্তব্য এর ভুমিকা কি?

একটি সুন্দর বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী বক্তব্য অনুষ্ঠান কে সকলের কাছে স্মরণীয় করে রাখে।

বিদায় বক্তব্য সুন্দর করে সাজিয়ে লিখে তা প্রদান করা একটি জটিল কাজ মনে হতে পারে। সঠিক সময়ে সঠিক শব্দ খুজে পাওয়া সহজ নয়, যদি না সেটা আপনার অভ্যাসে থাকে। 

একটি মার্জিত এবং সুন্দর উপায়ে আপনার অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত, আপনার সাথে জড়িত সকলকে ধন্যবাদ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দোয়া কামনা করা একটি কঠিন কাজ। তবে, আপনি এই ব্লগটি পড়লে খুব সহজে বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য সুন্দর সাবলীল ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারবেন। এবং খুব সহজে সেটা অন্যের সামনে উপস্থাপন করতে পারবেন, ইনশাল্লাহ।

আমরা এখানে বিদায়ী বক্তব্য কিভাবে সাজিয়ে লিখে উপস্থাপন করতে হবে তা বিভিন্ন ধাপে সাজিয়ে আলোচনা করেছি।

 

১ম অংশ: বিদায়ী বক্তব্যে কী বলবেন তা ঠিক করুন

  • আপনার বক্তব্য শুরু কি ভাবে করবেন তা স্থির করুন। আপনি যে  সংস্থা/স্বেচ্ছাসেবী/স্কুল/কলেজ/প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন সেখান থেকে আপনি যে অভিজ্ঞতা অর্জন  করেছিলেন তা মনে রাখবেন। এমনকি এমন কোনও স্থান শহর বা নগর  যেখানে আপনি দীর্ঘ সময় ধরে  বাস করেছেন।
  • সেই জায়গায় বা স্থানে  আপনার সাথে ঘটে যাওয়া সকল কিছুর বিষয়ে চিন্তা করুন এবং আপনি যেমন ভাবে  আপনার গল্পটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থাপন করবেন তার রূপরেখা তৈরি করুন। 
  • আপনি যে ভাবে এই ঘটনাগুলো নিয়ে বক্তব্য দিবেন তা  সম্পূর্ণ আপনাকে কাগজে নোট  করতে হবে না। তবে এমন সব বিষয়ে নোট তৈরি করুন যা আপনার সকল  কিছু মনে  করিয়ে দেবে এবং আপনাকে সবচেয়ে স্মরণীয় বিষয়গুলো উপস্থাপন  করতে সহায্য করবে।
  • এ সময়ে উপস্থাপনের কিছু কৌশল জেনে নিন এখান থেকে।
  • বিষয়গুলো নোট লেখার পরে, প্রশ্নবোধক ছোট ছোট বিবরণীগুলো মনে রাখার চেষ্টা করুন। এটি একটি মজার বা হৃদয় বিদারক বিবরণীও  হতে পারে – গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হ’ল সাধারণত এটি আপনার আবেগকে  দেখানোর সময় এটি প্রতিদিনের জীবন কেমন ছিল তার একটি  জানান দেয়।
  • একটি গুরুত্বপূর্ণ বা সমসাময়িক  বিষয় তুলে ধরুন। বিদায়ী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে সাধারণ সূচিপত্র হাসিখুশি শুরু হওয়া উচিত, তবে আপনি সেখানে কী শিখেছেন এবং কী কী মিস করেছেন এর কিছুটা অংশ যুক্ত করলে ভাল।
  • আপনি যা কিছুর  জন্য কৃতজ্ঞ সেগুলি এবং যে সময়টা  আপনাকে আপনি হয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল সেগুলি সম্পর্কে ভাবুন। আপনার জায়গাটি ছেড়ে যেতে কেন খারাপ লাগবে তা আসলেই মন থেকে ভেবে দেখুন। 
  • অন্যদের  সৌভাগ্যের জন্য শুভেচ্ছা কামনা করুন। যৌক্তিকভাবে, আপনি বিদায় জানাচ্ছেন, আপনার জায়গায় অন্য যে কেউ থাকবেন। যারা থাকবেন তাদের শুভকামনা জানান। সত্যি কথা বলুন এবং আসুন, দু’টো রসিকতা করা মন্দ নয় – যতক্ষণ না তারা এটা  খারাপ ভাবে গ্রহন না করে  থাকেন। আপনি নিজের জন্য যা আশা করেন তাও বলুন। 

 

২য় অংশ: বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য কিভাবে লিখবেন?

  • একটি  সংক্ষিপ্ত বিবরণ তৈরি করতে হবে। এবার আপনার হাতে বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হলে, এটিকে সংগঠিত করতে হবে সময় অনুযায়ী। যেন বিদায়ী বক্তব্যটি সুন্দর ভাবে প্রবাহিত হয় এবং উপস্থিত লোকেরা বিদায়ী বক্তব্য এর উক্তি গুলো অনুধাবন করতে পারে। 
  • এটি করার একটি ভাল উপায় একটি রূপরেখা তৈরি করা। রূপরেখায় থাকবে স্থান, ভূমিকা, পাঠ্যের মূল অংশ এবং উপসংহার।
  • আপনার বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্যের সম্পূর্ণ পাঠ্য বিষয়গুলো লিখে রাখার দরকার নেই। মূল মূল বিষয়গুলি কেবল লিখুন।
  • সহজ এবং সাবলীল ভাবে শুরু করুন। রসিকতা বা রসিকতা দিয়ে শুরু হওয়া বক্তব্য সহজেই উপস্থিত সকলের  দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এটি বিদায় অনুষ্ঠান  হিসাবে, লোকেরা খুব জটিল বা ভারী কিছু আশা করতে পারে। এমনকি  অনুষ্ঠানটি  হৃদয়বিদারক হলেও বক্তব্য অনেক মজাদার উপায়ে শুরু করুন। এইভাবে, আপনি একটি ভাল পরিবেশ তৈরি করুন, যেন তারা আপনাকে শুনেন।
  • আপনার প্রস্তুতকৃত কোনও উপাখ্যান বা বিবরণ  যদি খুব রশিকতার  হয় তবে এটি দিয়ে শুরু করুন!
  • একটি দার্শনিক উদ্ধৃতি বা প্রেরণাদায়ী বার্তা দিয়ে বক্তব্য  শুরু ভাল হতে পারে, তবে আদর্শ হবে  এটি শেষ পর্যন্ত  বক্তব্যের  বিভিন্ন  অংশে পাঠ করা।
  • বিদায়ী বক্তব্য এর মূল অংশটি লিখুন। এইখানেই আপনি ধারাবিবরণী গুলো  অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং যথাযথ হলে সেখানে ঘটে যাওয়া সমস্ত কিছু সংক্ষিপ্ত করে রাখবেন। আপনার কাছে সবকিছু কেমন এবং প্রত্যেকের  সাথে সম্পর্ক কেমন তা প্রকাশ করে  ঔসকল ব্যক্তি এবং নিজস্ব  অভিজ্ঞতা সম্পর্কে গল্পগুলো বলুন।
  • গল্প বলার সময়, অন্য কথা বলে সাধারণীকরণের চেয়ে বিশদ এবং উদাহরণ তুলে ধরাটা ভালো হয়।
  • বক্তব্যের উপসংহারে এমন কিছু  উপস্থিত থাকবে যাতে  উপস্থিত ব্যক্তিরা আজীবন মনে রাখবেন।
  • আপনার মাঝে সৃজনশীলতা থাকলে  আপনি বক্তৃতাটি এমন একটি বাক্য বলে  শেষ করতে পারেন যা আপনি পরিচয় পর্বে বলেছিলেন রসিকতা বা উপাখ্যানে সাথে সংযুক্ত করে।

৩য় অংশ: একটি বিদায় অনুষ্ঠানে বিদায়ী বক্তব্য প্রদান

বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য সহজ ভাষায় বলুন
বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য সহজ ভাষায় বলুন
  • প্রথমে নিজেকে অনুপ্রাণিত করুন যে আপনি পারবেন। বক্তৃতা পাঠ করা শুধু মাত্র  প্রথম ধাপ। আপনি  উচ্চস্বরে  জোরে জোরে  অনুশীলন করবেন। সব শেষে বক্তব্যের, ভাষা সবসময় ঠিক রাখ যায়, সেটা খেয়াল রাখবেন।
  • সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি প্রদান করে এমন অংশগুলি রিহার্সেল করুন এবং বক্তব্যকে সুন্দর গুছালো করতে পারে এমন পরিবর্তনগুলির নোট  তৈরি করুন বক্তৃতার সময়।
  • আয়নার সামনে দাড়িয়ে  অনুশীলন করুন যে আপনি নিজের বক্তব্যকে নষ্ট না করে কাগজ থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য দিতে পারেন কিনা।
  • দরকার হলে আপনার কোনও বন্ধুকে সামনে দাড়িয়ে ওর সাথে কথা বলার অনুশীলন করুন এবং তাদের আপনাকে একটি মন্তব্য প্রদান করতে বলুন।
  • ছোট ছোট নোট করুন, আপনার বক্তব্য বলার  মতো বেশি কিছু থাকলেও, এবং আপনি যে জায়গা ছেড়ে  যাচ্ছেন সে সম্পর্কে আবগত  হওয়ার জন্য অনেক আবেগ থাকলেও এটি কন্ট্রোল করুন। মনে রাখবেন, লোকদের অবশ্যই এখনও কাজে ফিরে আসতে হবে, বা দিনের অন্যান্য দিনের কাজগুলিতে মনোযোগ দেওয়া উচিত। পর্যাপ্ত পরিকল্পনা সহ, একটি শক্তিশালী এবং সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেওয়া সম্ভব।
  • ৫/৮ মিনিটের বক্তব্যই যথেষ্ট। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, আপনি দশ মিনিট সহ্য করতে পারেন। এর চেয়ে বড় বিষয়, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তৃতাগুলো হয় বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানগুলিতে।
  • আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলুন। প্রকাশ্যে কথা বলার সময় অনেকেই নার্ভাস হন। এটি আপনার হতে যাতে না ঘটে তার জন্য বেশ কয়েকটি কৌশল রয়েছে। বক্তব্যটি বেশ কয়েকবার রিহার্সাল করুন এবং সবার কাছে পৌঁছানোর আগে নিজেকে প্রস্তুত করুন।
  • আপনার ভুল হতেই পারে মনে রাখবেন। এর জন্য প্রস্তুতি নিন, এবং এটি নিয়ে চিন্তিত হবেন না। নিজেকে হাসি খুশি রাখুন এবং আপনার বক্তব্য থামাবেন না। শ্রোতারা এতে আপনাকে ভুল মনে করবে না।
  • আপনার বক্ত্যব্য মনোযোগ দিয়ে শুনবে এমন লোকদের প্রতি মনোযোগ দিন। আপনার লক্ষ্য  এমন সব লোকের দিকে নিয়ে যান যারা হাসছেন, মাথা ঝাঁকিয়েছেন এবং চোখের যোগাযোগ করছেন। তাদের শক্তি আপনার আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে তুলবে।

এসব কাজ করতে আপনার দৈন্দিন কাজের পাশাপাশি সময় বের করতে হবে। সময়ে ব্যাবস্থাপনার কৌশল গুলো জেনে নিস খুব সংক্ষেপে টাইম ম্যানেজমেন্ট এর উপর লিখিত ব্লগ পড়ে।

পরামর্শ

যদি সন্দেহ হয়, তাহলে একটি ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখুন। লোকেরা ভাল জিনিসগুলি তাদের চলে যাওয়ার অনেক পরেও মনে রাখবে। যারা ভাল আমেজে আছেন এবং আপনাকে ভুল ভাববে না কেবল তাদের সাথে কৌতুক করুন।

বিদায়ী বক্তব্য সবসময় ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখুন

 

 

নিচে নমুনা সরূপ একটি স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী বক্তব্য তুলে ধরা হলো:

 

“বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, মঞ্চে উপস্থিত প্রধান অতিথি এবং আমার শ্রদ্ধেয় সকল শিক্ষক ও আমার সামনে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীদের  আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক সালাম এবং শুভেচ্ছা জানাই।

অত্যান্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলতে হচ্ছে আজ আমাদের বিদায় অনুষ্ঠান। যদিও আমরা মনে করি এটা একটা বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা  মাত্র। কারণ মন থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। 

অনেক দিন ধরে আমরা এই প্রতিষ্ঠানে  শিক্ষা গ্রহণ করছি এবং এই প্রতিষ্ঠানের সকল  শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ আমাদেরকে বিভিন্ন বিষয় অত্যান্ত দক্ষতার সাথে পড়িয়েছেন তা আমাদের মনে থাকবে সারা জীবন । 

এজন্য আমরা আপনাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ। কিন্তু ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও আমাদেরকে আজ অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। আজ শিক্ষাজীবনের একটি অধ্যায় সমাপ্ত। পরের আরেকটি নতুন অধ্যায়ে পা রাখার উদ্দেশ্যে আমরা বিদায় নিচ্ছি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন ভবিষ্যতে শিক্ষাজীবনে আরো উন্নতি করে দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারি।

আমরা এখানে দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে আপনাদের অনেক শাসন-বাড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এই শাসন সাময়িক বিরক্তিকর মনে হলেও এখন এই শেষ মুহূর্তে বুঝতে পারছি এটা আমাদের জন্য কতটা প্রয়োজন ছিলো। তাই আমাদের কোনো আচরণের যদি কোনো শিক্ষক/শিক্ষিকা কষ্ট পেয়ে থাকেন, বা ছোট কিংবা বড় কোনো ভুল করে থাকি তাহলে আমাদেরকে ক্ষমা করবেন। সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে আমি বিনীতভাবে ক্ষমার আবেদন প্রার্থী।

যাই হোক, বিদায়ী মুহূর্তে আর বেশি কিছু বলতে চাই না, এই প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক/শিক্ষিকাবৃন্দের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আমি আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি। – ধন্যবাদ সবাইকে।

 

একটি মাদ্রাসার বিদায় অনুষ্ঠানের ভিডিও বক্তব্য

 

উদাহরণ হিসেবে এই বোন এর ভিডিও বক্তব্যটি দেখে অনুপ্রেরণা নিতে পারেন।

 

নিচে নমুনা সরূপ একটি কলেজের বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য তুলে ধরা হলো বিদায়ী ছাত্রদের জন্য:

 

“বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, আমার সামনে উপস্থিত আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, এই  কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ স্যার সহ আমার  অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা মহদয় এবং আমার সামনে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীদের  ভাই-বোনদের আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং সালাম জানাই। 

 

“যেতে হবে বহুদূর ! তাই এই বাঁধন ছাড়া 

বিরহ ভরা মনে, বইছে হাসির কাদন।

তাই আজ ছেড়ে চলেছি  সকল মায়া সুসাশন,

সামনে দাড়িয়েছে তাই দিতে বিদায়ী ভাষণ ”

 

এই বিদায় শব্দটি যেন আরো কোন তিন অক্ষরের একটা  মাত্র শব্দ নয়, হ্যাঁ সত্যিই  এ যেন বুকের উপর একটা পাহাড় চেপে পড়া। 

আজ দঃখ ভারাক্রান্ত মনে বুঝতে পারছি বিদায়ের ক্ষণ কি, এর গভীরতা কতটা ব্যাথাময় । আজ এমন একটি সময় যে সময়ে এ বিদায় দিতে হচ্ছে আমাদের প্রাণপ্রিয় বড় ভাই-বোনদের। ভুলে যেতে হবে তাদের স্নেহের শাসন আর ভালোবাসায় দিনগুলো। 

বাস্তবতার কাছে আজ আমাদের  হার মানতে হচ্ছে। যাদের পদ-চারণায় এই কলেজ প্রাঙ্গন পেয়েছিল নি:শ্বাস  আজ তাদের কে বিদায় দিতে হবে।

 

“যেতে নাহি দিতে চাই,তবু যেতে দিতে হয়” 

 

এই বাক্যের কাছে নতি স্বীকার করে আজ আপনাদের বিদায় দিতে হবে,জীবনের তাড়নায়,আর সামনে এগুনোর পথে প্রশস্ত করতে,ভাইয়া-আপুরা আমরা আপনাদের ভালোবাসায় সিক্ত।জানিনা কতটুকু সন্মান দিতে পেরেছি আপনাদের ,যদি মনের অজান্তে কখনো কষ্ট দিয়ে থাকি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আমাদের। সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে আমি বিনীতভাবে ক্ষমার আবেদন প্রার্থী। 

আর আপনাদের  জন্য আনেক অনেক  দোয়া, শুভ কামনা এবং ভালোবাসা রইলো । – ধন্যবাদ সবাইকে।”

 

তাহালে বন্ধুরা আজকের এই ব্লগটি  থেকে আমরা শিখলাম বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য প্রদানের ধাপ এবং বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য নমুনা সম্পর্কে। আমার এই ব্লগটি যদি আপনাদের  কাছে ভালো লাগে এবং কিছু শিখতে পারেন তাহালে নিচের কমেন্ট বক্সে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রকাশ  করবেন এবং কোন প্রকার প্রশ্ন থাকলে করবেন।

ধন্যবাদ পুরো ব্লগটি  মন দিয়ে পরবার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *