ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং কি

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং কি

আসসালামুয়ালাইকুম,  ফ্রেন্ডস আইটি পয়েন্ট এর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। পূর্ববর্তী  পোস্টে আমরা অনলাইনে ক্যারিয়ার ও ফ্রিল্যান্সিং এর পার্থক্য আলোচনা করেছি। আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং কি। চলুন জেনে আসি।
আমরা সবসময় চেষ্টা করি সঠিক, দীর্ঘমেয়াদি উন্নতি এবং ভালো মানের একজন দক্ষতাসম্পন্ন ব্যাক্তি গড়ে উঠার কথা ভেবে | এবং যথাসম্ভব সঠিক তথ্য দিয়ে আপনাদেরকে আসল বিষয়টা জানানোর, যাতে করে কেউ ভুল ধারনা নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তায় আর সাময়িক টাকা ইনকাম এর চিন্তায় এসে বিভ্রান্ত না হয়। আজকে আমরা আর একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করব।‍

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং

আমার অতিসামান্য অভিজ্ঞতা থেকে আমি কিছু কথা বলতে পারি যেমনঃ আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করে থাকে ভাই, চাচা, আংকেল, ভাতিজা আমি আউটসোর্সিং করতে চাই আবার অনেকে বলে আমি ফ্রিল্যান্সিং করতে চাই, তবে বেশির ভাগই বলে আমি আউটসোর্সিং করতে চাই। তখন আমি আসলে কি বলব ভেবে পাই না। উত্তর কি দিব? যে বা যারা জিজ্ঞেস করে থাকেন তারা হয়তো ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং কি এর ধারনাও রাখেন না, যার জন্য জানতে চায় যে
  • কিভাবে করব

  • আমাকে দিয়ে হবে কিনা

  • কতদিন সময় লাগতে পারে

  • কত টাকা আয় করতে পারবো ইত্যাদি ইত্যাদি।

যাই হোক আমি তাদের দোষ দিচ্ছি না, কারন আমাদের মধ্যে যারা অনলাইন প্রফেশন এ কাজ করে থাকেন তাদের মধ্যেও অনেকেই জানে না যে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং কি একই নাকি আলাদা দুটি বিষয়। আর যারা এর বাইরের তারা তো ধরেই নিয়েছে দুইটাই একই জিনিস, যেকোনো একটা বললেই হয়। তবে আমার ধারনা যারা এই ব্যাপারে ভালো জ্ঞান রাখে না তাদের বেশিরভাগের কাছেই অনলাইনে কাজ আউটসোর্সিং নামেই পরিচিত।

ফ্রিল্যান্সিং কি?

ফ্রিল্যান্সিংঃ ফ্রিল্যান্সিং এর মানে হচ্ছে মুক্ত পেশা বা স্বাধীন পেশা। সে হিসেবে কৃষক, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, এমনকি ভ্যানচালক চাচাও ফ্রিল্যান্সার। এমনকি ফ্রিল্যান্সিং বলতে শুধু অনলাইনে কাজ করাকেই বুঝায় না, অফলাইন, অনলাইন অথবা সব ধরনের স্বাধীন পেশাকেই বুঝায়।

অনলাইন জগতে ফ্রিল্যান্সিং

অনলাইন জগতে ফ্রিল্যান্সিংবলতে আমরা বলতে পারি যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনি অন্যের কাজ করে দিবেন এবং কাজের বিনিময়ে নির্দিষ্ট অর্থ পাবেন। ইন্টারনেটের ব্যবহার, প্রচার, প্রসার এর কারণে এই বিষয়টা ভৌগলিক সীমারেখার বাইরে চলে গেছে। যেমন আপনি বাংলাদেশে থেকেই অন্য যেকোনো দেশের অথবা দেশেই অন্যজনের কাজ করে দিতে পারেন।

আউটসোর্সিং

অপরদিকে আউটসোর্সিং হচ্ছে কোনো একটা মাধ্যম ব্যবহার করে নিজের কাজ অন্য কারো দ্বারা কোনো চুক্তির মাধ্যমে করিয়ে নেয়া হয়। এটি হচ্ছে সেইসব ফ্রিল্যান্সারদের কাজের উৎস, যেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের কাজ বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে বিভিন্ন মুক্ত পেশাজীবীদের কাছ থেকে ঠিকাদারী পদ্ধতিতে চুক্তিবদ্ধ করে মূল কাজটি সমন্বয় এবং সম্পন্ন করে এবং এটা একটা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া বিদেশি এবং দেশি ঠিকাদারি উভয় আউটসোর্সিং এর অন্তর্গত।
যেমন ধরুন আপনি কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে একটা প্রজেক্ট পেলেন তারপর আপনি আমাকে এবং এই রকম আরো কয়েক জনকে দিয়ে আপনার নেওয়া প্রজেক্ট এর কাজ করিয়ে নিলেন। এক্ষেত্রে আপনি আউটসোর্সার, আপনি করলেন আউটসোর্সিং আর আমি ফ্রিল্যান্সার, আমি করলাম ফ্রিল্যান্সিং।
তাহলে আমরা এই যতসামান্য আলোচনা থেকে বুঝতে পারলাম যে
আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং শব্দ দুটি আমরা একই জিনিস বুঝলেও, অর্থ এবং কার্যগত পার্থক্য রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) বলতে, মুক্ত বা স্বাধীনভাবে কাজ করা আর আউটসোর্সিং (Outsourcing) বলতে নিজের কাজ কোন একটা মাধ্যমে অন্যকে দিয়ে করিয়ে নেয়া।
ইনশাল্লাহ পরবর্তী আলোচনায় আমরা কথা বলব অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে আমাদের কি ধরনের যোগ্যতা দরকার, একাডেমিক হিস্টরি কেমন থাকা উচিত ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *