গুগল অ্যাডসেন্স কি? গুগল অ্যাডসেন্স থেকে কিভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়?

গুগল অ্যাডসেন্স কি? গুগল অ্যাডসেন্স থেকে কিভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়?

আসসালামু আলাইকুম, ফ্রেন্ড’স আইটি পয়েন্ট (FriendsITpoint) এর পক্ষ থেকে আমি মোঃ সোহাগ ইসলাম আপনাদের সবাইকে জানাই স্বাগতম। পূর্ববর্তী পোস্টগুলোতে আমি এসইও(SEO) এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আমি আপনাদের গুগল অ্যাডসেন্স কি? এবং  গুগল অ্যাডসেন্স  এর মাধ্যমে কিভাবে অর্থ উপার্জন করা যায় এই বিষয়টি  নিয়ে আলোচনা করবো। তো চলুন শুরু করা যাক।

 

গুগল অ্যাডসেন্স কি(What is Google AdSense)?

গুগল অ্যাডসেন্সঃ প্যাসিভ ইনকাম-সোর্স জেনারেট করার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি জনপ্রিয় পদ্ধতির নাম গুগল অ্যাডসেন্স। এটি মূলত গুগল দ্বারা পরিচালিত একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য বেশ জনপ্রিয় মাধ্যম এখন গুগল অ্যাডসেন্স। সাধারণত এই  মাধ্যম ব্যবহার করে ওয়েবসাইট,ব্লগ,অ্যাপস স্টোর এবং ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও মনিটাইজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা যায়। অনলাইন বিশ্বে বিষয়টি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

 

গুগল অ্যাডসেন্স এর কাজ কি?

গুগল অ্যাডসেন্স এর কাজঃ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য প্রচার প্রচারণার জন্য বিজ্ঞাপন দেখানোর প্রয়োজন পরে। আমরা প্রতিনিয়ত ব্যবসা বাণিজ্য প্রচারণার জন্য এসব বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকি। যেমনঃ রাস্তা ঘাটে, দালান কোঠার দেয়ালে আমরা অনেক ধরনের লিফলেট, ব্যানার, বিলবোর্ড ইত্যাদি দেখতে পাই। আবার আমরা যখন টেলিভিশন দেখি তখন বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখার সময় মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। সাধারনত এসব করা হয় একটি প্রতিষ্ঠানের প্রচার ও প্রচারণার জন্য।

গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দাতারা তাদের  প্রতিষ্ঠানের পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। আর পাবলিশাররা মূলত সেই বিজ্ঞাপনগুলোকে তাদের ওয়েবসাইট, ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল, অ্যাপস স্টোরে দেখিয়ে প্রচার প্রচারণার কাজে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যেই একটা উইন উইন সিচুয়েশন  সৃষ্টি হয়। ওয়েবসাইট, ব্লগ,ইউটিউব চ্যানেল, অ্যাপস স্টোরে যখন ভিজিটর আসে তখন তারা বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখে এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিজ্ঞাপন গুলিতে ক্লিক ও ভিউ করে। ক্লিক ও ভিউ এর উপর ভিত্তি করে গুগল অ্যাডসেন্স কর্তৃপক্ষ তখন আপনাকে কিছু টাকা পে করে।

 

গুগল অ্যাডসেন্সের সূচনা কবে থেকে?

গুগল অ্যাডসেন্সের সূচনাঃ গুগল অ্যাডসেন্স এর শুভ সূচনা হয় ২০০৩ সালের ১৮ই জুন। পৃথিবীখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগলের আয়ের অন্যতম উৎস আসে এই গুগল অ্যাডসেন্স এর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষের পাশাপাশি আমাদের বাংলাদেশের অনেক মানুষ এখন ঘরে বসে গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে অর্থ ইনকাম করে নিজের জীবিকা নির্বাহ করছে। দিন যত এগুচ্ছে প্রযুক্তি তত উন্নত হচ্ছে। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন ঘরে বসেই তারা বৈদেশিক রেমিটেন্স নিজেদের একাউন্টে নিয়ে আসতে পারছে। দিন দিন গুগল অ্যাডসেন্স এর নিয়ম নীতির পরিবর্তন হচ্ছে। এজন্য সময়ের সাথে সাথে আমাদের আপডেট থাকাটা অনেক জরুরি । যদি আমরা গুগল অ্যাডসেন্স থেকে প্যাসিভ ইনকাম জেনারেট করতে চাই।

 

অ্যাডসেন্স এর জন্য অ্যাপ্লাই করবো কিভাবে?

অ্যাডসেন্স এর জন্য অ্যাপ্লাই যেভাবে করবেনঃ আমরা শুরুতেই আলোচনা করেছিলাম যে গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে হলে আমাদের অবশ্যই একটি ওয়েবসাইট,ব্লগ, বা ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে। এগুলির যেকোনো একটি আপনার থাকলে আপনি অনেক দূর এগিয়ে আছেন। এরপর আপনি গুগল অ্যাডসেন্সের ওয়েবসাইটে গিয়ে অ্যাডসেন্স একাউন্ট এর জন্য সাইন আপ করে সেভ অ্যান্ড কন্টিনিউ বাটনে ক্লিক করুন। বেস আপনার কাজ আপাতত শেষ হয়ে গেল। মনে রাখবেন, প্রথম বারে আপনার একাউন্ট একটিভ নাও হতে পারে বরং একাধিক বার অ্যাপ্লাই করা লাগতে পারে। সেজন্য যখন আপনি গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য অ্যাপ্লাই করতে যাবেন তার আগে গুগল অ্যাডসেন্স এর সকল শর্তগুলি ভালভাবে মেনে এরপর অ্যাপ্লাই করতে যাবেন। এরপর গুগল সেই ইনফরমেশন গুলোকে ভালোভাবে যাচাই বাছাই করে কিছু দিনের মধ্যে আপনার ই-মেইলে জানিয়ে দিবে যে আপনার ওয়েবসাইট,ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেলটি গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য Accepted নাকি Rejected । এক্ষেত্রে গুগল সাধারনত ৭-১০ দিন সময় নিয়ে থাকে। একটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে যে একাউন্ট অ্যাকটিভ হওয়ার পরেই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের কোড লাগিয়ে বিজ্ঞাপন শো করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন শুরু করা সম্ভব।

 

অ্যাডসেন্স পাবার শর্তসমূহ কি কি?

  • অ্যাডসেন্স প্রোগ্রাম নীতিগুলি মেনে চলতে হবে।
  • ওয়েবসাইট,ব্লগ অথবা ইউটিউব চ্যানেল এর বয়স মিনিমাম ৬ মাস পুরনো হতে হবে। এক মাসের মধ্যেও সম্ভব যদি আপনার মধ্যে সেই রকম ডেডিকেশন থাকে এবং আপনি যদি ভালোভাবে ওয়েবসাইট,ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেলটি অপটিমাইজ করতে পারেন।
  • ব্লগিং ওয়েবসাইট এর ক্ষেত্রে মিনিমাম ৩৫-৪০ টি ইউনিক পোস্ট থাকতে হবে।
  • বিভিন্ন রিসোর্স থেকে ধারনা নেওয়া যেতে পারে তবে সেক্ষেত্রে কপি পেস্ট করা যাবে না। ইউনিক ভাবে পোস্ট গুলি লিখতে হবে।
  • ওয়েবসাইটটি লাইভ, লোডিং এবং নেভিগেটে সহজ হওয়া উচিত।
  • ল্যান্ডিং পেজ সিম্পল রাখতে হবে।
  • সাইট লোডিং টাইম ৩ সেকেন্ডের মধ্যে রাখতে হবে।
  • সর্বোপরি অ্যাডসেন্স কোড সঠিক জায়গায় বসাতে হবে।

 

অ্যাডসেন্সের পলিসি সমূহ কি কি?

  • নিজের ব্লগের বিজ্ঞাপনে ক্লিক না করা
  • Paid Traffic বা Clicking ব্যবহার না করা
  • IP Address পরিবর্তন বা গোপন করে বিজ্ঞাপনে ক্লিক না করা
  • অন্যকে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে উৎসাহিত না করা
  • ভুল ক্লিক এবং ইম্প্রেশন না করা
  • ক্লিক করা বা দেখার জন্য উৎসাহ না দেওয়া

 

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে উপার্জন বাড়ানোর কৌশলসমূহঃ

  • ওয়েবসাইট বা ব্লগের লোডিং স্পিড বৃদ্ধি করা
  • গুগল অ্যাডসেন্স ছাড়া অন্য সকল বিজ্ঞাপন বাদ দেয়া
  • কোয়ালিটি কন্টেন্ট লেখা
  • কনটেন্ট নিয়মিত পাবলিশ করা

 

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে মাসে কত টাকা ইনকাম করা যায়?

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে মাসিক ইনকামঃ  মোটামুটি অনলাইনে যারা কাজ করে অর্থ উপার্জন করছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছে। আপনার ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্সের বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনি কত উপার্জন করতে পারবেন গুগল অ্যাডসেন্স তা নির্ধারণ করে দেয় সিপিসি বা কষ্ট পার ক্লিক পদ্ধতিতে। এটা মূলত নির্ভর করে আপনার কিওয়ার্ড এর সিপিসি বা কষ্ট পার ক্লিক এর উপর। এক্ষেত্রে ব্লগ পোস্টে বা ওয়েবসাইট এর কোন পেজের বিজ্ঞাপনে ক্লিক পরলেই নির্দিষ্ট পরিমাণ ডলার বা সেন্ট আপনার গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টে চলে আসবে। এক্ষেত্রে একটি বিষয় আপনি হয়তো মনে মনে ভাবছেন আচ্ছা ক্লিক পরলে ইনকাম আসবে বুজলাম। কিন্তু বিজ্ঞাপনে একটি ক্লিক পরলে কত ইনকাম করা যায়। আসলে এটি নির্ভর করে আপনার ওয়েবসাইট এর সিটিআর এর উপর। অর্থাৎ ক্লিক থ্রু রেট এর উপর। বুঝতে একটু কষ্ট হচ্ছে তাইতো। চলুন উদাহরন এর মাধ্যমে বিষয়টি বুঝতে চেষ্টা করি। যদিও গুগল টাকা পে করার ক্ষেত্রে কি-ওয়ার্ড  এর সিপিসি এর উপর নির্ভর করে তার পরেও আমি এখানে সিম্পল ভাবে কিছুটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। ধরুন আপনার ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্স এর বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আপনি অনুমতি পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইট এর কোন পেজে আপনি গুগল অ্যাডসেন্স এর কোড বসিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। এখন আপনার ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন দেওয়া ওই পেজে যদি শতকরা ১ জন মানুষ প্রতিদিন ক্লিক করে তাহলে আপনার ক্লিক থ্রু রেট ১%।  এক্ষেত্রে গুগল আপনাকে একটি ক্লিক এর জন্য ০.২৫ সেন্ট পে করে। অর্থাৎ যদি আপনার ওয়েবসাইট এর ওই পেজটি প্রতিদিন ৮০০ বার দেখা হয় এবং ৮ বার ক্লিক পরে তাহলে গুগল আপনাকে ০.২৫*৮=২ ডলার পে করে। আশাকরি আপনারা সহজেই বুঝতে পেরেছেন। এখন হয়তো ভাবছেন ইনকাম এত কম। আসলে আমি মনে করি ইনকাম অনেক ভাল। তার কারন হল আপনার ওয়েবসাইটে তো একটি পেজ এবং পোস্ট থাকবে না। অনেকগুলো পেজ থাকবে এবং অনেকগুলো পোস্ট থাকবে। আপনার শুধু দরকার ওয়েবসাইটে অরগানিক ভিজিটর বাড়ানো।

 

বিজ্ঞাপনে ক্লিক ছাড়াও ইম্প্রেশনের মাধ্যমে আয় করবেন যেভাবেঃ

চলুন আরেকটি বিষয় নিয়ে কথা বলি। আপনারা ইতিমধ্যে হয়তো ভাবছেন আপনার ওয়েবসাইট এ অনেক অরগানিক ভিজিটর আসছে কিন্তু তারা যদি আপনার গুগল অ্যাডসেন্স এর বিজ্ঞাপনে ক্লিক না করে সেক্ষেত্রে তো ইনকাম হবে না, তাইতো। আসলে বিষয়টি এমন না। গুগল এক্ষেত্রে একটি সমাধান রেখেছে তার পাবলিশার দের জন্য। আপনার গুগল অ্যাডসেন্স এপ্রুভ হওয়া ওয়েবসাইটে যদি ভিজিটর অনেক বেশি থাকে এবং বিজ্ঞাপনে ক্লিক না পরে তার পরেও আপনি ইনকাম করতে পারবেন। শুনতে ভাল লাগছে তাইতো। হ্যাঁ এটাই সত্যি।

এক্ষেত্রে আপনি সিপিএম অর্থাৎ কস্ট পার ইমপ্রেশন পদ্ধতিতে উপার্জন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার উক্ত ওয়েবপেজ টিকে যদি প্রতিদিন ১০০০ বার ভিজিট করা হয় সেক্ষেত্রেও আপনি ১০০০ বার ভিজিট করার জন্য ১ ডলার করে ইনকাম করতে পারবেন। আর যদি প্রতিদিন ৫ হাজার বার ভিজিট করা হয় সেক্ষেত্রে আপনি ৫ ডলার ইনকাম করতে পারবেন কোন রকম বিজ্ঞাপনে ক্লিক ছাড়া। আমি আশা করি আপনারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। এভাবে আপনি প্রতি মাসে (৩০X৫) =১৫০ ডলার ইনকাম করতে পারবেন। এর পাশাপাশি আমি মনে করি আপনারা এতগুলো ভিজিটরের মাধ্যমে কিছু হলেও ক্লিক পাবেন এবং ইনকাম করতে পারবেন।  

 

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে টাকা তোলার প্রক্রিয়াসমুহঃ

গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থের পেমেন্ট মাসে একবার করা হয়। পুরো মাস জুড়ে আপনার উপার্জিত অর্থ জমা করা হয় এবং পরবর্তী মাসের শুরুতে ভালোভাবে হিসাব নিকাশ করে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট এর ব্যালেন্স পৃষ্ঠায় প্রেরন করা হয়। গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ যদি কোন কারনে হোল্ড-এ না থাকলে, তাহলে সাধারনত মাসের ২১-২৬ তারিখের মধ্যে আপনাকে পেমেন্ট ইস্যু করা হবে।

এখন চলুন পেমেন্ট সেটিংস কিভাবে করব তা জেনে নেওয়া যাক।

  • সবার প্রথমে আমাদেরকে গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট এ লগইন করতে হবে।
  • এরপর গুগল অ্যাডসেন্স এর পেমেন্ট সেটিংস অপশনে গিয়ে অ্যাকাউন্ট এর যাবতীয় বিষয় ধাপে ধাপে ফরম-ফিলাপ করতে হবে।
  • আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর বিস্তারিত ইনফরমেটিভ তথ্য প্রবেশ করার পূর্বে সকল ইনফর্মেশন যাচাই বাছাই করে নিতে হবে যাতে কোন ভুল না থাকে।
  • আপনি যদি ওই সকল ইনফরমেশন আপনার অর্থ প্রদানের প্রাথমিক ফর্ম করতে চান সেক্ষেত্রে প্রাথমিক অর্থপ্রদানের পদ্ধতি হিসাবে চেকবক্সটি নির্বাচন করুন।
  • সবশেষে আপনাকে সেভ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

পেমেন্ট মেথড যোগ করার পর আপনার কাজ মোটামুটি শেষ। এরপর ১০০ ডলার বা তার বেশি ইনকাম  হলে তা আপনার অ্যাকাউন্টে চলে আসবে। জানুয়ারি মাসে যদি আপনার ১০০ ডলার বা তার বেশি হয় তবে তা ফেব্রুয়ারির ২০ থেকে ২৬ তারিখের মধ্যে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

এক্ষেত্রে আরেকটি  বিষয় জেনে রাখা ভাল। পাবলিশাররা মূলত ডলার থেকে টাকাতে কনভার্ট করার সময় ব্যাংকের ওই দিনের বিনিময় মূল্য পেয়ে থাকেন। অর্থাৎ ডলার রেট ওঠানামা করলে টাকার অংকও ওঠানামা করে।

 

গুগল অ্যাডসেন্স নিয়ে কাজ করতে প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহঃ

  • ওয়েবসাইট এর জন্য ডোমেইন বা নাম
  • ওয়েব হোস্টিং
  • ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট এর জন্য (ওয়ার্ডপ্রেস অথবা জুমলা)সিএমস(CMS) যা সম্পূর্ণ বিনামুল্লেই পাওয়া যায়।
  • এবং একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট।

আপনি চাইলে ফ্রীতেই blogger.com এ ওয়েবসাইট বানিয়ে মনিটাইজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। তবে আমি পারসোনালি রিকমানডেড করব আপনারা ডোমেইন, হোস্টিং ক্রয় করে ওয়েবসাইট বানিয়েই গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য অ্যাপলাই করুন। এক্ষেত্রে আপনি অনেক সুযোগ সুবিধা পাবেন।

এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, আমি এই পোস্টে ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে গুগল অ্যাডসেন্স এর কথা বলেছি। আপনি চাইলে ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজ করে অর্থ ইনকাম করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার এসব উপকরণের প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র জিমেইল অ্যাকাউন্ট ছাড়া।

 

গুগল অ্যাডসেন্স পাবলিশারদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যঃ

সিপিসি(CPC), সিপিএম(CPM), সিটিআর(CTR), পিপিসি(PPC) কি?

সিপিসি(CPC): সিপিসি এর পূর্ণরূপ হল কষ্ট পার ক্লিক। গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয়ের সবথেকে ভাল পদ্ধতি হল সিপিসি।ভিজিটর তার প্রয়োজন অনুযায়ী যদি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে তাহলে আপনি সিপিসি অর্থাৎ কষ্ট পার ক্লিক পদ্ধতিতে ইনকাম করতে পারেন। এক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে , কোন প্রকার অসুদপায় অবলম্বন করা যাবে না। যেমনঃ নিজেই নিজের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা। পাবলিশাররা  নিজের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা অ্যাডসেন্স নীতির বিরুদ্ধে। গুগল আমাদের থেকে অনেক বেশি স্মার্ট। গুগল ধরতে পারলে আপনার  অনেক কষ্টের একাউন্টটি বাতিল করে দিতে পারে। তাই নিজের রিলেটিভদের মাধ্যমে কখনো বিজ্ঞাপনে ক্লিক করাবো না।  সবসময়  অরগানিক ভিজিটর নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

সিপিএম(CPM): Cost Per Thousand Impression এর সংক্ষিপ্ত রুপ হল সিপিএম। গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয়ের আর একটি উপায় হল সিপিএম। অর্থাৎ প্রতি এক হাজার বার কোন পোস্ট, পেজ, ব্লগ ভিউ এর জন্য গুগল আপনাকে টাকা পে করবে।

সিটিআর(CTR): Click Through Rate এর সংক্ষিপ্ত রুপ হল সিপিসি(CPC) । আপনার ওয়েবসাইটে  ভিজিটর কত শতাংশ বিজ্ঞাপনে ক্লিক করল তাই সিটিআর অর্থাৎ ক্লিক থ্র রেট। সাধারনত সিটিআর ২-৫% হলে ভাল হয়। ক্লিক থ্রু রেট ১৫% এর বেশি হলে অ্যাকাউন্ট বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ২-৫% দিয়েও ভাল ইনকাম করা যায় যদি ভাল সিপিসি কি-ওয়ার্ড দিয়ে ব্লগ পোস্ট সাজানো যায়।

পিপিসি(PPC): PPC-Pay Per Click এর সংক্ষিপ্ত রুপ হল পিপিসি(PPC) । যারা বিজ্ঞাপনদাতা তাদের  উপর গুগল এই মেথড ফলো করে। গুগল যেসব বিজ্ঞাপন ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা চালাবে সেসব বিজ্ঞাপনের জন্য বিজ্ঞাপন দাতাদের কাছ থেকে কত টাকা নিবে তা এই পিপিসির মাধ্যমে নির্ধারণ করে।

 

বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্স

বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্সঃ প্রথমেই বলেছি, Google Adsense শুরু করার পর থেকে যতই দিন যাচ্ছে ততই তাদের নীতিমালা উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে। এরই অংশ হিসাবে এখন আপনি গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে উপার্জন করতে ইংরেজি ভাষায় ওয়েবসাইট তৈরিতে বাধ্য নন। বাংলা ভাষায় তৈরি করা ওয়েবসাইট নিয়েই আপনি গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে উপার্জন করতে পারবেন। তবে হ্যাঁ, জেনে রাখবেন বাংলা ভাষায় তৈরি করা ওয়েবসাইটে আপনি শুধু বাংলাদেশিদেরই ভিজিটর হিসেবে প্রত্যাশা করতে পারবেন। সব দেশের মানুষকে ভিজিটর হিসেবে প্রত্যাশা করতে পারবেন না। বিষয়টি ঘুরিয়েও বলা যায়, যা আপনার ভালো লাগবে। আসলে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ওয়েবসাইট তৈরিও যেমন সুবিধা আবার তুলনামূলকভাবে অন্য দেশের ভিজিটর পাওয়ার চেয়ে দেশি ভিজিটর পাওয়াটাই সহজ। আপনি যদি আপনার বাংলা ব্লগ সাইটে অধিক পরিমাণ ভিজিটর পেতে চান তাহলে আপনাকে সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক বেশি জোর দিতে হবে।

 

তো আজকে এই পর্যন্তই। Google AdSense নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে, আমাদেরকে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।

5 thoughts on “গুগল অ্যাডসেন্স কি? গুগল অ্যাডসেন্স থেকে কিভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়?

  1. Greetings I am so excited I found your weblog, I really found you by accident,
    while I was researching on Digg for something else, Anyways I am here
    now and would just like to say thank you for a marvelous post and a all round enjoyable blog (I also love the theme/design), I don’t have time to go through it all at the moment
    but I have saved it and also included your RSS feeds, so when I have time I will
    be back to read a lot more, Please do keep up the superb
    job.

  2. Thanks a bunch for sharing this with all folks you really
    recognise what you’re speaking approximately! Bookmarked.
    Kindly additionally visit my web site =). We can have a hyperlink change arrangement among us

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *