ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে(How does the internet work)?

ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে(How does the internet work)?

আসসালামুআলাইকুম। FriendsITpoint  এর পক্ষ থেকে  আমি মাসুদ রানা।  ইন্টারনেট সিরিজের দ্বিতীয় আলোচনায় আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমরা শুধুমাত্র ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে? সে সম্পর্কে হালকা কিছু জানার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। চলেন আল্লাহর নামে শুরু করা যাক।

প্রাসঙ্গিক পোস্ট নাম্বার : ২

ইন্টারনেট এর ব্যাবহার যে হারে দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে তাতে এটিকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য একটি ভাল বোঝাপড়া হওয়া দরকার। তাই নিচে এর সম্পর্কে হাল্কা ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় জানার চেস্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

ইন্টারনেট যেভাবে কাজ করেঃ

ইন্টারনেটের ঠিকানাঃ

ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত প্রতিটি কম্পিউটারের একটি নিজস্ব ঠিকানা থাকতে হবে। ইন্টারনেট ঠিকানাগুলি XXX.XXX.XXX.XXX আকারে হয়। এখানে XXX হতে হবে 0 – 255 যেকোনো সংখ্যা। এই ঠিকানাটি একটি আইপি (IP) ঠিকানা হিসাবে পরিচিত। যা প্রত্যেকটা কম্পিউটার কানেকশন এর জন্য আলাদা হয়। আইপি এর অর্থ ইন্টারনেট প্রোটোকল। যেমন ধরেন আপনার কম্পিউটারে আইপি 1.2.3.4 এবং অন্য কম্পিউটার আইপি 5.6.7.8 । এখানে আপনার কম্পিউটারের সাথে অন্য কম্পিউটারের সংযোগ স্থাপনকারী তৃতীয় মাধ্যমটি হচ্ছে ইন্টারনেট, আর আইপি গুলো হচ্ছে আপনার ঠিকানা। সুতরাং আপনি মনে করতেই পারেন যে আপনার কম্পিউটারটি ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত এবং আপনার একটি ঠিকানা রয়েছে। আইপি সম্পর্কে এভাবে জানার পর নিশ্চয়ই ডোমেইন সম্পর্কে কিছু দুষ্টু চিন্তাভাবনা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে । চিন্তার কিছু নাই আমরা ডোমেইন নিয়ে সামনে বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। আশা করি ঠিকানা কি তা বুঝে ফেলেছেন।

প্রোটোকল স্ট্যাকস এবং প্যাকেটঃ

একটি কম্পিউটার ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত অন্যান্য কম্পিউটারগুলিতে কীভাবে সংযোগ করে তা একটি উদাহরণ এর মাধ্যমে বুঝানো যাক। ধরা যাক আপনার আইপি ঠিকানাটি 1.2.3.4 এবং আপনি 5.6.7.8 কম্পিউটারে একটি বার্তা প্রেরণ করতে চান। আপনি যে বার্তাটি পাঠাতে চান তা হ’ল ”হ্যালো কম্পিউটার”। সাভাবিকভাবে চিন্তা করলে , বার্তাটি অবশ্যই আপনার কম্পিউটারকে যে কোনও ধরণের তারের সাথে সংযুক্ত করে তার উপরে প্রেরণ করতে হবে ।এক কথায় আমরা যা বুঝি তা হলো কোনো একটা মাধ্যম। ধরা যাক আপনি বাড়ি থেকে আপনার আইএসপিতে (Internet Service Provider) ডায়াল করেছেন এবং বার্তাটি অবশ্যই কোনো ফোন লাইনের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে। সুতরাং বার্তাটি বর্ণমালা পাঠ্য থেকে বৈদ্যুতিক সংকেতে অনুবাদ করে ইন্টারনেটে প্রেরণ করা হবে, তারপরে আবার বর্ণমালার পাঠ্যে অনুবাদ করে পৌঁছানো হয়। এটি কীভাবে সম্পন্ন হয়? এটি মুলত প্রোটোকল স্ট্যাক ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয়। প্রতিটি কম্পিউটারে ইন্টারনেটে যোগাযোগের জন্য একটি সাধারণত কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম (যেমন উইন্ডোজ, লিনাক্স ইত্যাদি) ব্যাবহার করা হয়। ইন্টারনেটে ব্যবহৃত প্রোটোকল স্ট্যাকটি দুটি বড় যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে, (টিসিপি অথবা আইপি) প্রোটোকল স্ট্যাক হিসাবে রেফার করা হয়।
তাহলে আমরা খুব সাভাবিকভাবে বলতে পারি 1.2.3.4 ঠিকানা থেকে আইএসপি এর মাধ্যমে পাঠানো ”হ্যালো কম্পিউটার” শব্দটি প্রথমে বর্ণমালা পাঠ্য থেকে বৈদ্যুতিক সংকেতে অনুবাদ করে এবং পরে তা আবার বর্ণমালা পাঠ্যতে অনুবাদ করে অপর প্রান্তে আইএসপিতে সংযুক্ত অন্য 5.6.7.8 ঠিকানায় পৌঁছে যায়।
যদি পাঠানো বার্তাটি দীর্ঘ হয় তবে বার্তাটি যে স্ট্যাক স্তরটি দিয়ে যায় সেগুলি বার্তাকে ছোট ছোট ডেটাতে বিভক্ত করে। ইন্টারনেটে, তথ্যগুলির এই অংশগুলি প্যাকেট হিসাবে পরিচিত। আশা করি এখন আপনি জানেন যে প্যাকেটগুলি কীভাবে ইন্টারনেটে একটি কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ভ্রমণ করে।

নেটওয়ার্কিং অবকাঠামোঃ

আসেন এবার খুব সাধারন ভাবে পুরা বিষয়টাকে আপনাদের কাছে তুলে ধরা যাক।
পুরা বিষয়টার জন্য প্রিয় বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক। আমরা সবাই পোস্ট অফিস এবং পোস্ট ম্যান সম্পর্কে অবহিত,আসুন দেখি পোস্ট অফিস কি ভাবে কাজ করে। ধরেন আপনি প্রেরক, আপনি কি করবেন?
আপনি প্রথমে একটা চিঠি লিখবেন,পরে এটি খামে ভরে যে ঠিকানায় পাঠাবেন সেই ঠিকানাটা খামের উপর সুন্দরভাবে লিখে একটা পোস্ট অফিস এ গিয়ে দাখিল করবেন বা জমা দিবেন। তারপর পোস্ট অফিস একজন পোস্ট ম্যান এর মাধ্যমে আপনার দেয়া সেই ঠিকানায় সেটিকে পৌঁছে দিবে যার ফলে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটার সমাপ্তি ঘটবে। ইন্টারনেট মুলোত এভাবেই কাজ করে, আসুন ব্যাখ্যা করা যাক।
এখানে আপনি চিঠিতে যা লিখেছেন তা হলো ডাটা। আপনি যে পোস্ট অফিস থেকে চিঠিটা পোস্ট করেছেন সেটা হল আপনার আইপি বা আপনার ঠিকানা। এই পোস্ট অফিস থেকে খামে দেয়া আপনার ঠিকানায় যে চিঠিটা পৌঁছে দেয় সে হলো পোস্ট মাস্টার আর এই পোস্ট মাস্টার ই হলো ইন্টারনেট এবং যে ঠিকানায় চিঠিটা পৌঁছানো হলো সেটা হলো আপনার সাথে সংযুক্ত আইপি অ্যাড্রেস বা ঠিকানা।
এখন কথা হলো এই ইন্টারনেট ব্যাবহার করতে হলে আগে আমাদেরকে ইন্টারনেটে অ্যাক্সেস করতে হবে। তাহোলে কথা হলো আমরা এখন কিভাবে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করতে পারি? আমরা মুলত ২ ভাবে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করতে পারি।
যথাঃ
১। অপটিক্যাল ক্যাবল এর মাধ্যমে (ওয়াইফাই, মডেম, ডায়াল আপ ইত্যাদি)যেটা মুলত সাবমেরিন ক্যাবল এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে সংযুক্ত। এর মাধ্যমে প্রায় ৯৯ ভাগ ডিভাইস ইন্টারনেটে সংযুক্ত।
২। স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে বাকি ১ ভাগ ডিভাইস ইন্টারনেটে সংযুক্ত।
এই বিষয় নিয়ে আমরা পরবর্তীতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

নিচে দেয়া ছবিটাতে আপনারা কিছুটা ধারনা পেতে পারেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ যদি কারো এই বিষয়ে আরও বেশি জানার ইচ্ছে থাকে তবে এই https://www.vox.com/a/internet-maps থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

উপস্থাপনাটি কিছুটা লম্বা হওয়ায় অন্য বাকি বিষয় গুলো নিয়ে পরের পার্ট এ আলোচনা করব।
পরের টপিক এ আমরা যা কিছু জানবোঃ
  • ১। ইন্টারনেটের মালিক কে?
  • ২।ইন্টারনেটের জন্য কেমন খরচ হয়?
  • ৩।Tier 1, Tier 2 এবং Tier 3 কি?
  • ৪।এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *