মেটা ও মেটাভার্স কি?

মেটা ও মেটাভার্স কি?

আসলামুআলাইকুম, Blog Academy  তে লিখছি আমি কামরুজ্জামান রিফাত, আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়, মেটা ও মেটাভার্স কি?

‘মেটাভার্স’ শব্দটি তথ্য ও প্রযুক্তি শিল্পের কল্পনার জগতে সর্বশেষ আলোড়ন তৈরি করা একটি শব্দ। মেটাভার্স  প্রযুক্তি বর্তমান

সময়ে আলোচিত উন্নত প্রযুক্তি সেবা, সকলের পছন্দের  বিখ্যাত ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মগুলো মেটাভার্সের  সুবিধা উপভোগ করার জন্য নিজেদের রিব্র্যান্ডিং করছে।

 

মেটাভার্স এক সময় গোটা প্রযুক্তি দুনিয়া শাসন করবে। আর এজন্য, সেই দুনিয়ায় নিজের আবস্থান শক্তিশালী করতে এখনই কোম্পানির নাম বদল করে মেটা রেখেছে ফেসবুক। এর পূর্বে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কোম্পানি অকুলাসও কিনে নিয়েছে ফেসবুক।

 

মেটাভার্স কি?

 

মেটাভার্স কি
মেটা ও মেটাভার্স কি

 

মেটাভার্স সম্পর্কে জানবার আগে চলুন জেনে আসি  সোশ্যাল মিডিয়া কি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিহাস

 

‘মেটা’ একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ ওপর বা পরে। মেটা এবং ইউনিভার্স শব্দদ্বয় একত্রে মিলিত করে মেটাভার্স শব্দটি পাওয়া যায়।

যার অর্থ দাঁড়ায়- পৃথিবীর বাইরের জগৎ। যেখানে স্বশরীরে উপস্থিতির বিপরীতে বাস্তবের মতো উপভোগ করা যাবে প্রায় সবকিছু।

 

ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ বলেন, এটি এমন এক ‘ভার্চুয়াল পরিবেশ’ তৈরি করবে যার মধ্যে আপনি প্রবেশ ও করতে পারবেন।

এখানে একে অপরে যুক্ত হয়ে ভার্চুয়াল সমাজ তৈরি হবে যেখানে মানুষ পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করতে পারে, কাজ করবে, খেলতে পারবে।

মার্ক জাকারবার্গ পৃথিবীতে একটা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন, যা একুশ শতকের একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বিশেষ করে ইন্টারনেটের একটা মাইলফলক।

 

জাকারবার্গের ভাষায়, “Metaverse is the Successor of Internet” ফেইসবুক ফেইসবুকই থাকছে শুধু ‘Meta’  নামে  একটা নতুন কোম্পানির আবির্ভাব হয়েছে।

মেটা

আগে ফেসবুক কোম্পনির সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতো, আর এখন সেই জায়গায় Meta মেজর ভূমিকা পালন করবে, তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে Facebook, WhatsApp, Instagram এর মতো  জনপ্রিয় ওনলাইন অ্যাপস গুলো। 

 

এটা কোনো বিশেষ ঘটনা না, ঘটনা হচ্ছে এই Meta কোম্পানি তৈরি করতে যাচ্ছে মেটাভার্স (Metaverse) নামে এক নতুন ভার্চুয়াল দুনিয়া। আমাদের ইউনিভার্স এর একটা প্যারালাল কপি হবে মেটাভার্স। 

 

এই মেটাভার্স তৈরিতে সহযোগী হিসেবে থাকছে বিশ্বের সব বড় বড় টেক কোম্পানি। যার নেতৃত্বে থাকছে মেটা (Meta)। সবাই মিলে নির্মান করতে যাচ্ছে এক ভার্চুয়াল দুনিয়া।

 

মেটাভার্স আসলে কি?

 

মেটাভার্স আসলে কী?
মেটাভার্স আসলে কী?

 

মেটাভার্সকে আপনারা ইন্টারনেটকে নতুনভাবে জীবন্ত করে তোলা অথবা অন্ততপক্ষে ইন্টারনেট থ্রিডিতে রুপান্তর করার একটি নতুন প্লাটফরম  হিসেবে ভাবতে পারেন।

 

জাকারবার্গ এর মতে মেটাভার্স  একটি ‘ভার্চুয়াল পরিবেশ’ যেখান হতে  আপনি শুধু স্ক্রিনে কোন কিছু দেখা ছাড়াও এটার ভেতরেও ঢুকে যেতে পারবেন। 

 

সাধারনত  এটিকে এক অন্তহীন আন্তঃসংযুক্ত ভার্চুয়াল কমিউনিটি ভাবা যায়। যেখানে ইন্টারনেট ব্যাবহারকারী মানুষের জন্য  নানা কাজ করা, খেলতে পারা, অগমেন্টেড রিয়েলিটি চশমা, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট, স্মার্টফোন অ্যাপ বা অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহার করে একে অপরের সাক্ষাত করার মত প্রযুক্তিগত উন্নত সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। 

নতুন প্রযুক্তি বিশ্লেষক ভিক্টোরিয়া পেট্রোক এর মতে, এতে অনলাইন মাধ্যমের অন্যান্য দিক, যেমন অনলাইন শপিং এবং সোশ্যাল প্লাটফরম রিলেটেড সকল কিছু সংযুক্ত হবে ।

 

ভিক্টোরিয়া পেট্রোকের মতে, ‘মেটাভার্স  যোগাযোগ প্রযুক্তির বিবর্তনের পরবর্তী ধাপ,আপনি আপনার শারীরিক জীবন যাপনের মতোই ভার্চুয়াল জীবন যাপন করবেন’ এবং যেখানে সকল  জিনিস  আবিরাম থাকবে , ডপেলগ্যাঞ্জার মহাবিশ্বে একত্রিত হবে  ।

 

এমন এক বিশ্বের কথা ভেবে দেখুন যেখানে একটি ব্রান্ড বা কোম্পানি তাদের নতুন মডেলের কোন পন্য তৈরি করলো তারপর সেই পন্যগুলোর অনলাইনে মার্কেটিং এর জন্য ওনলাইনে ছেড়ে দিল।

এবং একজন ক্রেতা হিসেবে আপনি বিশ্বের যেকোনো স্থান হতে সেটাও দেখতে পারলেন, এবং দেখার পাশাপাশি ওনলাইনে ব্যবহার করেও নিতে পারেন।

অথবা ভাবলেন বাসায় থেকেই  অনলাইন শপিং করবেন। ওনলাইনে শপিং প্লাটফরম এ শপিং করার  সময় একটি পোশাক পছন্দ হলো। এই পোশাকের একটি ডিজিটাল সংস্করণ গায়ে দিয়ে দেখার পরই আপনি পোশাকটা  কেনার জন্য অর্ডার দিলেন।

 

বিষয়টা হয়তো বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনী মতো মনে হচ্ছে। কিন্তু সত্যি হচ্ছে এটাই যে, এখন আর এসব কিছু  কল্পনার পর্যায়ে থাকছে না।

 

এ ধরনের প্রযুক্তিগত সুবিধা তৈরির কাজ এর মাঝে  শুরু হয়ে গেছে। এই সকল প্রযুক্তিগত সুযোগ সুবিধার জন্য  অনলাইনের ভার্চুয়াল জগতকে মনে হবে সত্যিকারের বাস্তব পৃথিবীর মতো।

 

মনে করেন,  ফেসবুকে  আপনার কিছু  বন্ধু সিলেট চা বাগানে বেড়াতে যাওয়ার অপূর্ব কিছু ছবি পোস্ট করেছেন। এখন তাদের পোস্ট করা ছবি গুলো ফেসবুকে দেখার সময় এই প্রযুক্তির কারণে মনে হবে আপনিও সেখানে তাদের মাঝেও  আছেন। আর যেই  প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন সুন্দর আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটবে তার নামই দেওয়া হয়েছে  মেটাভার্স। আর বলা হচ্ছে, ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ হবে এই মেটাভার্স প্রযুক্তি।

 

প্রযুক্তিবিদের মতে, মেটাভার্স এর জন্যই ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জগৎটাকে মনে হবে বাস্তব জগৎ যেখানে মানুষের যোগাযোগ ব্যাবস্থা হবে বহুমাত্রিক।

মেটাভার্স প্রযুক্তির দ্বারা শুধু  আপনি কোন কোন কিছু দেখতেই পাবেন না, সেগুলোর সাথে নিজেকেও জড়িয়ে ফেলতেও সক্ষম হবেন।

এটা সম্পূর্ন ভালো ভাবে বুঝার জন্য আপাতত যে সব প্রযুক্তি আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো থ্রিডি কিংবা নাইন ডি মুভি দেখা। আপনি যদি বিষটি আরো কিছুটা স্পষ্ট ভাবে বুঝতে চান তাহলে শখের বসে অথবা আগ্রহের কারনে দেখুন না একদিন নাইন ডি অথবা থ্রিডি একটা ভিডিও।

উদাহরণস্বরূপ একটা ভিডিও দেখে নিতে পারেন। 



 

কী কী করতে পারবেন মেটাভার্সে?

 

কী কী করতে পারবেন মেটাভার্সে

 

ভার্চুয়াল কনসার্টে যাওয়া, অনলাইনে ঘুরতে যাওয়া, শিল্পকর্ম দেখা বা সৃষ্টি করা কিংবা কেনা সব কিছুই  করতে পারবেন মেটাভার্সের দুনিয়ায়। করোনা বা এ ধরনের সকল মহামারির মতো পরিস্থিতিতে ঘরে বসে কাজ করার ধরনেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারবে মেটাভার্স।

 

এ জগতে সহকর্মীদের স্রেফ ভিডিওকলে দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে না কাউকে, কর্মীরা ভার্চুয়াল অফিসেও যোগ দিতে পারবেন।

 

কোম্পানিগুলোর জন্য হরাইজন ওয়ার্করুমস নামক সফটওয়্যার চালু করেছে ফেসবুক। এটি ব্যবহার করতে হবে ফেসবুকের অক্যুলাস ভিআর হেডসেট দিয়ে। যদিও এর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া খুব একটা ইতিবাচক নয়। 

 

অক্যুলাস হেডসেটের মূল্য ৩০০ ডলার বা তারও বেশি। যা মেটাভার্সকে করে তুলেছে ব্যয়বহুল। এর ফলে অনেকেরই নাগালের বাইরে চলে যাবে মেটাভার্স।

তবে যারা পয়সা খরচ করে এই হেডসেট কিনতে পারবেন, তারা বিভিন্ন কোম্পানির বানানো অ্যাভাটার ব্যবহার করে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ঘুরে বেড়াতে পারবেন। তবে কোম্পানিগুলো তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত করবে, তা এখনও ঠিক করা হয়নি। 

 

ফেসবুক ও মেটাভার্স

অনেক সমালোচক মনে করেছে ফেসবুক তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে চলমান বিভিন্ন দ্বন্দ্ব, বিষয়কে আড়াল করতেই নিজেদের  প্রতিষ্ঠান এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফেসবুক প্রতিষ্ঠাকারী  মার্ক জাকারবার্গ। 

 

মেটাভার্স কি শুধু একটি ফেসবুক প্রকল্প ?  

 

না মেটাভার্স শুধু ফেসবুকের একার প্রকল্প নয়। মাইক্রোসফট এবং চিপমেকার এনভিডিয়া কোম্পানিও মেটাভার্স নিয়ে কাজ করা কম্পানি গুলোর মধ্যে রয়েছে। 

 

‘আমরা মনে করি মেটাভার্স এ ভার্চুয়াল জগৎ এবং পরিবেশ তৈরিতে অনেক কোম্পানি তৈরি হচ্ছে, ঠিক যেমন করে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব  অনেক কোম্পানি নিয়ে কাজ করছে, এটা বলেছেন এনভিডিয়ার ওমনিভার্স প্ল্যাটফর্মের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড কেরিস। 

 

গেমিং প্ল্যাটফর্ম রোব্লক্স বড় অন্য একটি সংস্থা, যাদের কাছে মেটাভার্স এমন একটি জায়গা যেখানে লোকে নতুন নতুন কিছু শিখতে, কাজ, খেলাধুলা, নতুন কিছু সৃষ্টি করতে এবং সামাজিক যোগাযোগের লক্ষ লক্ষ থ্রিডি অভিজ্ঞতার মধ্যমে এক সাথে মিলিত হতে পারবে।

 

বিভিন্ন ভোক্তা ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান গুলো মেটাভার্স প্রযুক্তিগত সুবিধা পাওয়ার জন্য অন্যদের সাথে তাল মেলানোর চেষ্টা করছে। শুধুমাত্র ডিজিটাল যন্ত্রপাতি বিক্রি করার জন্য রোব্লক্স এর সঙ্গে ইতালীয় ফ্যাশন হাউস গুচি সহযোগিতা করেছে। মেটাভার্সের দিকে একটি প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কোকা-কোলা এবং ক্লিনিক ডিজিটাল টোকেন বিক্রি করেছে ।

 

মেটাভার্স শুধু একটি ফেসবুক প্রকল্প, এমন ভুল ধারনা হতে আমাদের দূরে থাকতে হবে।

 

আমাদের এই পোস্ট টি যদি আপনার সামান্য তম উপকারে আসে তবে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে আমাদের পুরো পোস্টটি পরার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.