অনলাইনে ক্যারিয়ার ও ফ্রিল্যান্সিং এর পার্থক্য

অনলাইনে ক্যারিয়ার ও ফ্রিল্যান্সিং এর পার্থক্য

আসসালামুয়ালাইকুম, ব্লগ একাডেমি এর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম।। এর আগে আমরা অনলাইনে ক্যারিয়ার এর অসুবিধা এবং সুবিধাসমূহ আলোচনা করেছি। আশা করি আপনারা কিছুটা উপকৃত হয়েছেন এবং এটাও আশা করছি যে অনালাইনে ক্যারিয়ার এর সুবিধা এবং অসুবিধা সম্পর্কে আপনারা কিছুটা অবগত হয়েছেন। আজকে আমরা আর একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করব।‍ এটি হল অনলাইন ক্যারিয়ার ও ফ্রিল্যান্সিং এর পার্থক্য সম্পর্কে।
আমরা সবসময় চেষ্টা করি সঠিক, দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির কথা ভেবে, এবং যথাসম্ভব সঠিক তথ্য দিয়ে আপানাদেরকে আসল বিষয়টা জানানোর, যাতে করে কেউ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত হয়।

আলোচনার বিষয়ঃ অনলাইনে ক্যারিয়ার ও ফ্রিল্যান্সিং এর পার্থক্য

প্রথমেই ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আলাপ করি, বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং বলতে আমরা যা বুঝি তা হল অনলাইন কোন মার্কেটপ্লেস থেকে ঘরে বসে স্বাধীনমত কাজ করে টাকা ইনকাম করা, এটা যতসামান্য ঠিক আছে কিন্তু পুরোপুরি ঠিক নয়। ফ্রিল্যান্সিং এর বিস্তারিত এবং সঠিক মানে খুজতে গেলে আমরা বুঝতে পারি যে, এর মানে হচ্ছে মুক্ত পেশা বা স্বাধীন পেশা।
সে হিসেবে কৃষক, ব্যাবসায়ী, আইনজীবী, এমনকি রাস্তার মোড়ের ফুচকাওয়ালাও ফ্রিল্যান্সার। কারন তারা স্বাবলম্বী, কারো অধীনে চাকরি করে না, তারা নিজের কাজ নিজেই করে এবং চাইলেই তারা তাদের সময়মত কাজ করতে পারে, তবে এক্ষেত্রে সময়ের গুরুত্ব না দিলে উন্নতি আশা করা যায় না। আমি আপনাকে সময়ের গুরুত্ব দিয়েই কাজ করতে বলছি।
কিন্তু এইযে ব্যবসায়ী, কৃষক, ফুচকাওয়ালা এরা সবাই কোন অর্থে ফ্রিল্যান্সার এটা বুঝাতে চেয়েছি। আমাদের দেশের বেশিরভাগ তরুনেরই নিদিষ্ট কোন লক্ষ্য নেই। পড়াশোনা শেষ করে কি করবে তারা জানে না। চাকরি করবে না স্বাধীন পেশায় যাবে সেটাও ঠিক করতে পারে না।

আমার মতে স্বাধীন প্রতিটি পেশা সেটা ব্যবসা, কৃষি, শিল্প ইত্যাদি যাই হোক না কেন, সব কিছুতেই ভালো করা সম্ভব।

 

আমাদের পেশা সংক্রান্ত ধ্যানধারণা পরিবর্তিত হতে শুরু করে ঔপনিবেশিক শাসনামল থেকে। ব্রেইন ওয়াশ করে আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করে দিয়েছিল ইংরেজরাই। বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সৃজনশীল কাজগুলো করার কোনো ক্ষমতাই আমাদের নেইএরুপ ধ্যান ধারনার সৃষ্টি হতে শুরু করে ঐ ঔপনিবেশিক শাসনামল থেকেই। তখন থেকেই আমরা উদ্যোক্তা হবার প্রবনতা হারিয়ে ফেললাম।
নিজেদেরকে শুধুমাত্র চাকরিজীবী ভাবতেই স্বাছন্দ্যবোধ করতে শুরু করলাম। এখন এমন একটা পরিস্থিতি যে চাকরি পেলেই যেন সোনার হরিণ পেয়ে যাই আমরা। অর্থাৎ চাকরি করা আমাদের প্রথম পছন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্যই আমদের দেশে উদ্যোক্তা খুব একটা তৈরি হয় না। অবশ্য দিন দিন এই সকল ধ্যান ধারনার পরিবর্তন হচ্ছে। মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন।
এখানে আমি চাকুরিজীবিদের ছোটো করে কথা বলছি না, যারা চাকরি করে তারা অবশ্যই আমাদের অর্থনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে কিন্তু সবাইকে যে চাকুরিই করতে হবে এমন না। যারা নিজেকে মানসম্পন্ন মনে করেন এবং কর্মসংস্থান তৈরী করার মত মানসিকতা রাখেন তারা অবশ্যই এ ব্যপারে ভাববেন।

ফ্রিল্যান্সিং বলতে শুধু অনলাইনে কাজ করা বুঝায় না, অফলাইন, অনলাইন অথবা সব ধরনের স্বাধীন পেশাকেই বুঝায়।

 

ফ্রিল্যান্সিং
ফ্রিল্যান্সিং

 

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর মধ্যেকার পার্থ্যক্য গুলো আলোচনা কয়রা হয়েছে পূর্ববর্তী ব্লগে।

এবার আসি অনলাইনে ক্যারিয়ার এর ব্যপারে

অনলাইনে ক্যারিয়ার বলতে আমরা সাধারনত বুঝি ইন্টারনেট কানেকশন এর মাধ্যমে বাসায় অথবা অফিসে বসে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান, অন্য কারো কাজ করা, বা নিজের বিভিন্ন কাজ যেকোন জায়গায় বসেই অনলাইনে করা, এবং এটাকে ফুলটাইম হিসেবে বেছে নেওয়া, সেই অনুযায়ী কাজ করাকেই বুঝি।
আর একভাবে বলা যায় অনলাইন ক্যারিয়ার হল এমন যে, কোনও কাজ যা আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে করার পরিবর্তে বাড়ি বা দূরবর্তী অবস্থান থেকে কাজ করতে পারেন। প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট সংযোগের উন্নতি অব্যাহত থাকায় অনলাইন জব আরও বেশি সহজলভ্য হয়ে উঠছে। এটাকে রিমোট জব ও বলা হয়।
এর আরো ভাল সংজ্ঞা আছে , যাই হোক আরো ভালো করে জানতে আপনাকে আরো পড়ালেখা করতে হবে। (সেটা গুগল কিংবা উইকিপিডিয়া অথবা বই পড়ে)
অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়া এ যুগে আর অসম্ভব নয়। অসংখ্য সফলতার রেকর্ড আছে। কাজেই আমার, আপনার পক্ষেও অসম্ভব কিছু না, তবে লেগে থাকতে হবে কচ্ছপের মত , লেগে থাকার ব্যাপারে অন্য কোন সময় আলোচনা করব ইনশাল্লাহ।
অনলাইনে ক্যারিয়ার করার জন্য বিভিন্ন ধরণের উপায় আছে। কিন্তু আমরা সঠিক ভাবে জানিনা কি কি ধরণের কাজ করা হয় অনলাইনে। কিন্তু এর পর ও লক্ষণীয় ব্যাপার হল, অনেকেই আছেন যারা কোনো কাজ সম্পর্কে সামান্য ধারণা নিয়েই অনলাইনে নেমে যান আয় করতে, যেটা একেবারেই অনুচিত এবং নিজের ও দেশের জন্য একপ্রকার ক্ষতিকর।
অনলাইনে ক্যারিয়ার
অনলাইনে ক্যারিয়ার
যদিও আমি নিজেকে গাইডলাইন দেওয়ার মত যোগ্যতাসম্পন্ন কখনোই মনে করছি না, তবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আমাদের কি কি সুযোগ আছে, কিভাবে শুরু করা যায় এইগুলা নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে। ইনশাল্লাহ।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা যা বুঝলাম তা হল যে, অনলাইন ক্যারিয়ার এর একটি অংশকে ফ্রিল্যান্সিং বলা যায় আবার, অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সিং বলতে অনলাইন ক্যারিয়ার এর একটা অংশ বুঝায় কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং বলতে শুধু যে অনলাইন বুঝায় তা নয় বরং অনলাইন অফলাইন দুইটাই হতে পারে।

পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই, আমাদের এই পোস্টটি যদি আপনাদের সামান্য তম উপকারে আসে তাহলে আমাদেরকে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *