কম্পিউটারের ব্যবহার এবং কি কি কাজে ব্যবহার হয়

কম্পিউটারের ব্যবহার এবং কি কি কাজে ব্যবহার হয়

আসলামুআলাইকুম, Blog Academy এর পক্ষ হতে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন।আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় : কম্পিউটার কি কি কাজে ব্যবহার হয়, কিংবা কম্পিউটারের বিভিন্ন ব্যবহার। লিখছি আমি কামরুজ্জামান রিফাত কম্পিউটারের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করছি। তো চলুন এবার শুরু করি।

 

কম্পিউটারের ব্যবহার মূলত শুরু হয় গণনা যন্ত্র হিসাবে এবং জটিল অংক ও হিসাব কসার কাজে সাহায্য করার জন্য।বর্তমান মানব জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে এর ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে।

কম্পিউটার ছাড়া উন্নত ব্যবস্থাপনা,উৎপাদন,গবেষণা,টেলিযোগাযোগ, প্রকাশনা কল্পনা করা যায় না।কম্পিউটারকে ব্যবহার করা যায় সকল কাজে সকল স্থানে।

মুলত মানুষ তার কাজের উন্নয়নের জন্য কম্পিউটারকে কাজে লাগায়। কম্পিউটারের ব্যবহারে নির্ভর ও গতিশীল হয়ে পড়ে প্রতিটি কাজ। তাই প্রতিনিয়ত কম্পিউটারের ব্যবহার বেড়েই চলছে।

 

Table of Contents

কম্পিউটার (Computer) কি?

কম্পিউটার (Computer) এমন একটি ইলেকট্রনিক গণনাকারী যন্ত্র যা তথ্য গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপন করে। ব্যবহারকারী কোনো ডেটা বা উপাত্ত কম্পিউটারে সরবরাহ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে  কম্পিউটার কাজের ফলাফল প্রদান করে ।

কম্পিউটারেরও নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে বিভিন্ন যন্ত্রের মতাে। উল্লেখযােগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলােঃ–

  • দ্রুতগতি(High speed)
  • নির্ভুলতা(Correctness)
  • সূক্ষ্মতা(Accuracy)
  • বিশ্বাসযােগ্যতা(Reliability)
  • ক্লান্তিহীনতা(Dilligence)
  • স্মৃতিশক্তি(Memory)
  • স্বয়ংক্রিয়তা(Automation)
  • যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত(Logical Decision)
  • বহুমুখিতা(Versatility)
  • অসীম জীবনীশক্তি(Endless Life)

 

কম্পিউটারের উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো

দ্রুতগতি(High speed)

বৈদ্যুতিক সিগন্যালের দ্বারা সব কাজ করে তাই কম্পিউটার খুব দ্রুতগতিতে কাজ করতে পারে।কম্পিউটার ব্যাবহার করে এক সেকেন্ডে কয়েক কোটি যােগ করে ফলাফল প্রদান করা যায়।ন্যানােসেকেন্ড,পিকোসেকেন্ড ইত্যাদি হলাে কম্পিউটারে সময়ের একক।

 

নির্ভুলতা(Correctness)

কম্পিউটার এমন একটি মেশিন যা দিয়ে মানুষের দেয়া সূত্র ও যুক্তির মাধ্যমে কম্পিউটার ফলাফল প্রদান করে।কখনও ভুল করে না কম্পিউটার।শতকরা ১০০ ভাগ কম্পিউটারের নির্ভুলতা।

 

সূক্ষ্মতা (Accuracy)

কম্পিউটারের স্মৃতিশক্তি অনেক বেশি।তাই অনেক ঘর পর্যন্ত নির্ভুলভাবে গাণিতিক ক্রিয়াকলাপ করতে পারে।এ কারণে কম্পিউটারের সূক্ষ্মতা অনেক বেশি ধরে নেয়া যায়।

 

বিশ্বাসযােগ্যতা(Reliability)

কম্পিউটার নির্ভুল ও সূক্ষ্মভাবে কাজ করে। কাজ করার জন্য কম্পিউটার মানুষের দেয়া নির্দেশ ব্যবহার করে। কম্পিউটার ভুল করে না কিন্তু মানুষ করে, এটা প্রমাণিত।

 

ক্লান্তিহীনতা(Dilligence)

কম্পিউটার একটি যন্ত্র।আর এ যন্ত্রের একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ক্লান্তিহীনতা।কম্পিউটার রাত দিন ক্লান্তিহীন,বিরক্তিহীন এবং বিশ্রামহীনভাবে কাজ করতে পারে।

 

স্মৃতিশক্তি(Memory)

কম্পিউটারের নিজস্ব স্মৃতিশক্তি (Memory) আছে। কম্পিউটারের মেমােরিতে নির্দেশ (প্রােগ্রাম), প্রয়ােজনীয় ডেটা এবং প্রক্রিয়াজাত ফলাফল (ইনফরমেশন) সংরক্ষিত করে রাখা যায়।

 

স্বয়ংক্রিয়তা(Automation)

কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে মানুষের পরিবর্তে কম্পিউটারকে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া আরাে অনেক ক্ষেত্রে যেমন, কল-কারখানায়, বিস্ফোরক গবেষণায় কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

 

ব্যবহারের বহুমুখিতা(Versatility)

বহুমুখী কাজে কম্পিউটারকে ব্যবহার করা যায়। কম্পিউটার একটি প্রােগ্রামনির্ভর যন্ত্র।যখন যে প্রোগ্রাম কম্পিউটারে লােড করা থাকে সে প্রােগ্রাম অনুসরণ করে কম্পিউটার কাজ করতে পারে।

 

অসীম জীবনসীমা(Endcess Life)

প্রােগ্রাম ব্যবহার করে কম্পিউটার চালানাে হয়। গােগ্রামের কোন নির্দিষ্ট জীবনসীমা নেই কিন্তু মানুষের জীবনের যেমন একটি নির্দিষ্ট সময় আছে।বছরের পর বছর সমান যােগ্যতায় একই মানে কাজ করে যেতে পারে মানুষের তৈরি প্রোগ্রাম।প্রােগ্রামের কোন মানের কমতি হয় না দীর্ঘদিন কাজ করার পরও।

 

কম্পিউটারের ব্যবহার
কম্পিউটারের ব্যবহার

আমাদের জীবনে কম্পিউটার এর ব্যবহারঃ

শিক্ষা, বিজ্ঞান গবেষণা, তথ্য যোগাযোগ, বিনোদন, ব্যবস্যা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই আজকাল কম্পিউটার এর ব্যবহার দেখা যায়। চলুন বিস্তারিত জেনে নেই।

 

  • শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার

বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতি আনতে কম্পিউটার এর ভুমিকা অপরিসীম। এখন প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষণযন্ত্র হিসাবে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। বিদ্যালয় থেকে স্কুল,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রয়োজনীয় সকল কাজ যেমন – অ্যাডমিট কার্ড,মার্কশীট, বিভিন্ন পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন,ইন্টারনেটের মাধ্যমে (ONLINE TEST) বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষা এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সব কাজে কম্পিউটার ছাড়া এখন কল্পনা করা সম্ভব নয়।

 

  • বিজ্ঞান গবেষণায় (Scientific Research)কম্পিউটারের ব্যবহার

গবেষণার কাজে কম্পিউটারের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ , এখন বিজ্ঞানীরা কম্পিউটার ব্যবহার করে যে কোনো জটিল গণনাকে অতি দ্রুত সম্পন্ন করেন খুব সহজে। বিজ্ঞানের ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ রিসার্চ ও ডেটা সঞ্চয় করে রাখতে কম্পিউটার অবদান অনস্বীকার্য।বিজ্ঞান গবেষণার কাজে যে সব কম্পিউটার ব্যবহার করা হয় সেই সকল কম্পিউটার গুলো অনেক উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন হয়ে থাকে।

 

  • তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় কম্পিউটারের ব্যবহার

বর্তমান সময়ে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করে বিভিন্ন উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট গুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে,যার জন্য আমরা বেতার ও টেলিভিশন প্রোগ্রামগুলো সরাসরি উপভোগ করতে পারি, অন্যদিকে  সহজ  ইন্টারনেট ,ই-মেল,ব্যবহার -এর ফলে  খুব কম সময়ের মধ্যে পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে খুব দ্রুত তথ্য পাঠানো বা যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে যা কম্পিউটারের সাহায্য ছাড়া কোনোভাবে সম্ভব নয়।

 

  • প্রকাশনার কাজে কম্পিউটারের ব্যবহার (Publication Work)

পুরাতন মুদ্রণ পদ্ধতিকে ছেড়ে নতুন করে  আধুনিক যুগে কম্পিউটার এর সাহায্যে ডেস্কটপ পাবলিশিং ( D.T.P) এর ব্যবহার করে খুব সহেজই সংবাদপত্র, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা,বই প্রকাশনার কাজে নতুন যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে।

 

  • বিনোদন ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার

বর্তমানে বিনোদন জগতে কম্পিউটার গুরুত্ব ভূমিকা পালন করছে, কেননা আজ প্রায় সকল মানুষ  কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ব্যাবহার করে  নানান রকমের গান,সিনেমা, নাটক এবং কম্পিউটার বিভিন্ন  গেমস খেলে বিনোদন উপভোগ করে থাকে। এছাড়া অধিক  ক্ষমতা সম্পর্ণ কিছু কম্পিউটারের মাধ্যমে অ্যানিমেশন ও স্পেশাল এফেক্ট-এর ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরণের চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং নতুন নতুন  কম্পিউটার গেমস তৈরি করা হয়ে থাকে।

 

  • ব্যবসা-বাণিজ্যে (Business) কম্পিউটারের ব্যাবহার

আধুনিক সময়ে কম্পিউটারের ব্যবহার ছাড়া ব্যবসা ও বাণিজ্য করা প্রায় অসম্ভব। বিজ্ঞাপন জগৎ থেকে শুরু করে আধুনিক ব্যাঙ্কিং সিস্টেমে ATM-এর ব্যবহার,সব জায়গায় এখন কম্পিউটারের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া শেয়ার বাজার,রেল ও বিমানের টিকিট বুকিং, অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম প্রভৃতি ক্ষেত্রে হিসাবপত্র রাখার কাজে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

  • প্রশাসনিক কাজে কম্পিউটার ব্যবহার

বিশ্বের সমস্ত দেশেরই অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক কাজে কম্পিউটার আজ অপরিহার্য্য। বিভিন্ন দেশ তাদের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে পর্যবেক্ষণ করতে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স করতে কম্পিউটারের সাহায্য নিতে হয়।

 

  • ডেটা প্রসেসিং (Data Processing)

ডেটা প্রসেসিং-এর অর্থ হল Row Data সঠিক ও অর্থপূর্ণ তথ্যে পরিণত করা, একেই ডেটা প্রসেসিং বলা হয়। বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য, গবেষণা ও বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষা থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে কম্পিউটারের সাহায্যে অর্থপূর্ণ ডেটা বা ইনফরমেশনে পরিণত করে।

 

  • আবহাওয়ার পূর্বাভাস গণনা করতে কম্পিউটারের ব্যবহার

বিজ্ঞানীরা যে সমস্ত কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট মহাকাশে প্রেরণ করে তা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে সুপার কম্পিউটারের মাধ্যমে। সেই সমস্ত সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করে ভূপৃষ্ঠ কৃত্রিম উপগ্রহগুলি নিয়ন্ত্রিত করার পাশাপাশী স্যাটেলাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলি বিশ্লেষণ করে এবং যথেষ্ট নির্ভুলভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়।

 

  • খেলাধুলার ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার

বর্তমানে বিভিন্ন খেলার মাঠে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন – ক্রিকেট খেলার মাঠে থার্ড আম্পায়ার কম্পিউটারের মাধ্যমে গণনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। এছাড়া ফুটবল, ক্রিকেট ও অনান্য গেম লাইভ ব্রডকাস্ট করার জন্য অনেক কম্পিউটার ব্যবহার করা হবে।

 

  • ডিজাইন ও শিল্প উৎপাদন ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার

বর্তমানে বিভিন্ন ধরণের ডিজাইন মূলক কাজ করা হয়ে থাকে কম্পিউটারের ব্যবহার করে যাকে CAD অর্থাৎ কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন বলা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের ম্যানুফ্যাক্টরিং কারখানায় যে সমস্ত পণ্য বা প্রোডাক্ট উৎপাদন করা হয় তার নকশা বানানো হয়ে থাকে যাকে CAM বা কম্পিউটার এইডেড ম্যানুফ্যাকচারিং।

এছাড়া বর্তমানে কম্পিউটার এর সাহায্যে থ্রিডি প্রিন্টিং এর আবির্ভাব ঘটেছে যা এই পদ্ধতি শিল্প-সামগ্রী উৎপাদন খুব কম সময়ে বেশি পরিমানে পণ্য বা প্রোডাক্ট উৎপাদন বিশেষ ভাবে সাহায্য করে।

 

শেষ কথা

 এই ব্লগ পোস্টে কম্পিউটার কি কি কাজে ব্যবহার হয় যথাযথ বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি আমাদের এই ব্লগ পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। যদি কম্পিউটার এর ব্যবহার বিষয় নিয়ে আপনাদের  মূল্যবান কোন পরামর্শ থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। আমাদের পূর্ববর্তী ব্লগ পোস্ট গুলো সম্পর্কে জানতে ভিজিট করতে পারন ব্লগ একাডেমীতে(Blog Academy  )। ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.