অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার অসুবিধা সমূহ কি কি?

অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার অসুবিধা সমূহ কি কি?

ইদানিং অনেক শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা গতানুগতিক চাকুরি, ব্যাবসা, স্বভাবিক ভাবে চলিত কাজ কর্ম বাদ দিয়ে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখে থাকেন। এরকম স্বপ্ন দেখা মানুষদের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেসব নতুন দিগন্তের সম্ভাবনা দুয়ার খুলেছে তার বিস্তৃতি অল্প পরিসরে বোঝানো রীতিমতো প্রায় অসম্ভব বিষয়।

আজকের আলোচনার বিষয় : অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার অসুবিধা সমূহ কি কি(What are the difficulties of building a career online)?

অনলাইনে ক্যারিয়ারঃ   অনলাইনে ক্যারিয়ার বলতে আমরা যা বুঝি,তা হলো ইন্টারনেট ব্যবহার করে আপনার কম্পিউটার এর সাহায্যে কোন পার্টটাইম অথবা ফুলটাইম চাকরি অথবা ব্যবসা অথবা অর্থ ইনকামের জন্য কাজ করা।
অনলাইনে ক্যারিয়ার প্ল্যাটফর্ম বা ক্ষেত্র আসলে অসংখ্য এবং অগণিত। ইন্টারনেট মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। মানুষ এখন অনলাইনে অর্থ আয়ের জন্য নানা কৌশল প্রয়োগ করছে। অনলাইনে আয়ের নানা পথও তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন নিত্য নতুন আইডিয়া নিয়ে অনেক উচ্চ শিক্ষিত মেধাবী ছেলে মেয়েরা ও অনলাইনে আসছে এবং নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র উদ্ভাবন করছে।
অনলাইনে ইনকাম করার বিভিন্ন সুযোগ থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতারণার মুখে পড়তে হতে পারে। অনলাইনে কাজ করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এই লেখনীতে আমরা অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার অসুবিধা সমূহ কি কি? এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, ইনশাল্লাহ।

১। প্রথম অসুবিধা হল অনলাইনে এত এত সেক্টর থাকতে কোন সেক্টর টা বেছে নিব আমার জন্য, এই সিন্ধাত্ব নিতেই অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়, যেটা ভালোভাবে বুঝার জন্য আগে এর উপর অনেক পড়ালেখা(অনলাইন ক্যারিয়ার বিষয়ক) করতে হয়। এবং না বুঝেই সিন্ধাত্ব নেওয়ার জন্য অনেকেই মাঝপথে গিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে হতাশায় ভুগে, ভাবতে থাকে যে হুদাই অনেক সময় নষ্ট করলাম, এরপর কেউ কেউ কাজ বন্ধ করে দেয়, কেউ কেউ আবার ফিরে আসে ভালো মানসিক শক্তি জোগার করে অথবা এই রকম কিছু।

কোন সেক্টর কেমন, কিভাবে কাজ করে, কোনটায় কাজ করলে কিরকম সুবিধা ও অসুবিধা আছে সেটা নিয়ে আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করব, ইনশাল্লাহ।

২। এবার আসেন সেক্টর সিলেকশন করার পর যে সমস্যা টা হয় সেটা হল আমরা কাজ ভালো করে না শিখেই বিভিন্ন অনলাইন মার্কেট এ একাউন্ট খুলে ফেলি যা একেবারেই ভুল, এর ফলে যা হয় তা হলো ভালোভাবে কোন কাজ শিখা হয় না, দক্ষতা অর্জন ও হয় না, উন্নতি অনেক দূরে সরে যায়। সে জন্য আপনাকে প্রথমত প্রচুর সময় ব্যায় করতে হয় নিজে কাজ শেখার জন্য যেটা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না, অনেকেই কাজ শেখার ধৈর্য না থাকার কারনে কিছু করতে পারে না, হারিয়ে যায় কোনকিছু করার আগেই।

৩। অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে বিভিন্ন প্রতারনার শিকার হয় অনেকেই, সবাই শুধু চোখে সহজে টাকা ইনকাম দেখে কিন্তু এর পিছনে যে কি পরিমান কাট-খড় পোড়াতে হয় তা দেখার চেষ্টা করে না, যার ফলে আমরা ভেবে বসি যে, সে(এমন দক্ষ কেউ যে অনলাইনে ইনকাম করে) যদি বেশি কাজ করে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারে তাহলে আমি অতি অল্প কাজ শিখে অথবা না শিখেই আপাতত কিছু ইনকাম করতে পারবো, যেটা ভুল ধারনা। অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা আপনাকে তাদের কোর্স করলেই ডলারপতি বানিয়ে দিবে, এই রকম সস্তা প্রলোভন দেখে আমরা হারিয়ে যাই টাকার ভুবনে।
এর মধ্যে আছে,
কোন প্লাটফর্ম থেকে আয় করবো বুঝতে না পারা। অনেকেই ক্যাপচা, ভিডিও দেখে আর্ন, এপ নামিয়ে আর্ন এই টাইপের ফালতু কিছু “কাজ” এর পিছনে সময় দিয়ে কিছু ইনকাম করে। আর তাই দেখে নতুনদের মধ্যেও এই টাইপের ধারণা সৃষ্টি হয় যে, এভাবে ক্যাপচা, ভিডিও দেখেও আর্ন করা যায়। এই ক্ষেত্রে অনেকেই এভাবে ইনকাম করার জন্য ভাল সাইট খুঁজে, যেখান থেকে এই টাইপের স্কিল বিহীন কাজ করে অনলাইনে ক্যারিয়ার দাঁড় করাবে। সাময়িক কিছু দেখা গেলেও ভালো ক্যারিয়ার অসম্ভব।

৪। এবার সব প্লান ঠিক করলেন, বুঝলেন যে কি করতে হবে, কিভাবে করতে হবে তাও বুঝলেন কিন্তু বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক ঝামেলায় পরতে হয়। যেমনঃ
ক) আপনার কাজের জন্য যে পরিমান সময় প্রয়োজন সেই সময় আপনি বের করতে পারেন না।
খ) কখনোই শুরু করা হয়ে উঠে না, বিভিন্ন ব্যাস্ততায় পার হয়ে যায়।গ) আপনার পরিবার থেকে অসম্মতি আসতে পারে, হয়তো আপনার পরিবার আপনাকে নিয়ে অন্য কিছু ভাবছে(ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংক্যার, শিক্ষক ইত্যাদি)। সেক্ষেত্রে আপনার ব্যাপার, আপনি কিভাবে কি করবেন।

এবার আসুন কাজ শুরু করার পরের যে সমস্যা গুলো

৫। আমাদের সমাজের বেশিরভাগ মানুষই জানে না কিংবা বুঝে না যে ঘরে বসে অথবা দেশে বসেই আন্তর্জাতিক মানের কাজ করা যায়, যার কারনে আপনার ক্যরিয়ার নিয়ে আপনি হয়তো চিন্তায় পরে যাবেন যে কিভাবে সমাজের মানুষকে বুঝাবেন আপনি কি করেন, এই জন্য সমাজের মানুষের বিভিন্ন অপ্রীতিকর কথাও শুনতে হতে পারে। বিয়ে করার ক্ষেত্রে গিয়ে সমস্যায় পরতে পারেন। যাই হোক এখন কিছুদিন হল এই ধরনের ব্যাপারে লোকজন একটু জানতে ও বুঝতে শুরু করেছে।

৬। যদিও আমরা প্রিয়জন, পরিবারের লোকজন এর সময় দেওয়ার জন্য অনলাইন ক্যারিয়ার বেছে নেই কিন্তু কাজ করার কারনে অথবা কাজের ব্যাস্ততার কারনে দিন-রাত সবসময় নিজের ঘরে নিজের কম্পিউটারে সামনেই বসে থাকতে হয়, যার কারনে নিজের ঘরে থেকেও পরিবার আত্নীয়স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরা, সোশ্যাল কোন প্রোগ্রামে উপস্থিত না হয়ে ধীরে ধীরে অসামাজিক খেতাব ধারণ করা ইত্যাদি। এর সমাধান আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করব।

৭। জব সিকিউরিটি(যেমন কোন প্রতিষ্ঠানের চাকরি অথবা সরকারী চাকুরির মত) নামক কোন নিশ্চয়তা অনলাইনে আসলে তেমন থাকে না। গতানুগতিক চাকরির ক্ষেত্রে যেমন সারা মাস আর যাই হোক অন্তত মাস শেষে একটা নির্দিষ্ট বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। কিন্তু অনলাইন ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে এই সুযোগ আসলে অনেক কম থাকে। তবে এই ক্ষেত্রে আপনি যদি আসলেই দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে আপনার যা ইনকাম আসবে তাতেই মাস শেষের চিন্তা করতে হবে না, ইনশাল্লাহ।

৮। অনলাইন ক্যারিয়ারের অসুবিধার মধ্যে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিটা অনেক বেশী।
ক) বেশিরভাগ রাত জেগে কার করতে হতে পারে, সে জন্য স্বাস্থগত অনেক সমস্যা তৈরি হয়।
খ) দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে কাজ করার ফলে চোখের এবং কোমরের সমস্যা হতে পারে। এছাড়া ঘর থেকে কম বের হওয়ার কারনে শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাবে পরতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *