ব্র্যান্ডিং কি এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

ব্র্যান্ডিং কি এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

আসসালামু আলাইকুম, ফ্রেন্ড’স আইটি পয়েন্ট (FriendsITpoint) এর পক্ষ থেকে আপনাকে  জানাই স্বাগতম। আশাকরি আপনি ভালো আছেন। পূর্ববর্তী পোস্টগুলোতে আমরা ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং, অনলাইন ক্যারিয়ার ইত্যাদি বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেছি। আপনি চাইলে দেখে নিতে পারেন। আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ ব্র্যান্ডিং কি এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?। তো চলুন শুরু করা যাক।

 

ব্র্যান্ড কি?

ব্র্যান্ডঃ ব্র্যান্ড কথাটির সাথে আমরা কমবেশি সবাই মোটামুটি পরিচিত। যেমনঃ ওয়াল্টন, স্যামসাং,ইজি, টেকনো, ইত্যাদি প্রত্যেকটি এক একটি ব্র্যান্ড। আমেরিকান বাজার সমিতির মতে, ব্র্যান্ড হল এমন একটি নাম বা শব্দ বা অন্য কোন বৈশিষ্ট্য যা একজন বিক্রেতার প্রোডাক্ট বা পণ্য বা সেবা সমুহকে অন্যান্য বিক্রেতার প্রোডাক্ট বা পণ্য বা সেবা সমূহ থেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করে।

 

ব্র্যান্ডিং কি?

ব্র্যান্ডিংঃ সহজ ভাষায় যদি বলি তাহলে ব্র্যান্ডিং হচ্ছে কোন কিছুর নির্দিষ্ট  একটা পরিচয়। “কমডিটি উইথ আইডেন্টিটি” এর অপর নাম হচ্ছে ব্র্যান্ডিং। যেখানে কমডিটি হচ্ছে পণ্য বা সেবা আর আইডেন্টিটি হচ্ছে পরিচিতি।  অর্থাৎ কাস্টমার বা ক্রেতার কাছে একটি পণ্য বা সেবার ইউনিক আইডেন্টিটি বা পরিচিতি তৈরি করাকেই ব্র্যান্ডিং বলে।

 

ব্র্যান্ডিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ব্র্যান্ডিংয়ের গুরুত্ব: ব্র্যান্ডিং আপনার প্রতিষ্ঠানে ভালো কর্মী পেতে সাহায্য করবে। একটি প্রতিষ্ঠানের সামাজিক মূল্যবোধ তৈরি হয় এই ব্র্যান্ডিং এর মাধ্যমে। ব্র্যান্ডিং একটি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের এমন একটি বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে ঐ প্রতিষ্ঠানে মানুষের কাজের আগ্রহ বেড়ে যায়। একবার কোন প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ডিং হলে গেলে অল্প সংখ্যক প্রোডাক্ট বা পণ্য বা সেবা বিক্রি করার মাধ্যমে পর্যাপ্ত পরিমাণ মুনাফা অর্জন করা যায়। এক্ষেত্রে কাস্টমার আপনার পণ্য বা সেবার কোয়ালিটিকে প্রাধান্য দিয়েছে। অনেক বড় বড় ব্র্যান্ড কোম্পানি আছে যাদের কাছ থেকে আমরাও মাঝে মাঝে প্রোডাক্ট বা পণ্য বা সেবা কিনতে পছন্দ করি। আপনার প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ডিং হলে কাস্টমার আপনার পণ্যের প্রতি পুলকিত হবে।  সুতরাং যেকোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্র্যান্ডিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

 

ব্র্যান্ডিং এর সুবিধাসমূহ কি কি?

  • প্রতিষ্ঠানকে মানুষের কাছে আলাদাভাবে উপস্থাপন করা যায়।
  • আপনার প্রোডাক্ট বা পর্ণ বা সেবাসমূহকে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কম্পিটিশনে আলাদা অবস্থান দেয়।
  • দক্ষ কর্মী পেতে সহায়তা করে।
  • আর্থ- সামাজিক মূল্যায়ন বৃদ্ধি পায়।
  • কম সংখ্যক প্রোডাক্ট বা পণ্য বা সেবা সেল করার মাধ্যমে ও পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জন করা যায়।
  • কাস্টমার বা ক্রেতার কাছে ঐ প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার গ্রহন যোগ্যতা বেড়ে যায়।
  • নতুন কোন পণ্য আসলে সেগুলির লঞ্চ দ্রুত ট্র্যাক করে
  • বিশ্বাসযোগ্যতা  বাড়ায়
  • কর্মীদের কাজ করার উৎসাহ বেড়ে যায়।

 

ব্র্যান্ডিং এবং মার্কেটিং এর মধ্যে পার্থক্যঃ

ব্র্যান্ডিং এবং মার্কেটিং এর মধ্যে তেমন একটা পার্থক্য না থাকলেও এই বিষয় দুটি  একটি আরেকটির সাথে অপ্রতভাবে জড়িত।   ব্র্যান্ডিংও এক প্রকার মার্কেটিং। তবে গতানুগতিক মার্কেটিং পদ্ধতি নয়। কোন প্রোডাক্ট বা পণ্য বা সেবার মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে, প্রোডাক্ট কিনতে কাস্টমারদেরকে আগ্রহী করানো হয়। মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য বা সেবাসমূহকে মানুষের কাছে এমন ভাবে উপস্থাপন করে যে তাদের পণ্য গুলি সবার সেরা এবং গুনগত মান সম্পন্ন। অপরদিকে কোন ব্র্যান্ড কখনই এভাবে তাদের প্রতিষ্ঠানদের প্রোডাক্ট বা পণ্য বা সেবাসমূহের ব্র্যান্ডিং করবে না। ব্র্যান্ড তার কাস্টমারদেরকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করে বিভিন্ন বৈশিষ্টের মাধ্যমে। যেমনঃ তাদের সার্ভিস কেমন, তারা তাদের কাস্টমারদেরকে কি দিচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এক্ষেত্রে ব্র্যান্ডকে কখনও তাদের প্রোডাক্ট বা পণ্য বা সেবাসমূহকে কিনতে কাস্টমারকে বলতে হয় না। ব্র্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে  কাস্টমাররা  নিজেরাই আকৃষ্ট হয়ে তাদের কাছে আসে প্রোডাক্ট বা পণ্য বা সেবা ক্রয় করতে।

কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি। এখন চলুন কিভাবে পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং করা যায় সে  সম্পর্কে জানি।

 

পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং

কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং বিষয়ে আমরা প্রায় সময় শুনি। অপরদিকে আমরা কখনও ভাবি না যে আমাদের পার্সোনাল লাইফে ব্র্যান্ডিং এর প্রয়োজনীয়তা আছে। আমরা সাধারনত কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের ভালো গুন গুলোর কথা যখন শুনি, তখন ঐ কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট আমরা ক্রয় করি। এ থেকে আমরা কি বুঝলাম বলেন তো? কাস্টমারদের কাছে তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি পায়। আচ্ছা প্রতিষ্ঠানের কথা বাদ দিয়ে চলুন পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এর কথা চিন্তা করি। আপনার ভালো দিকগুলো যদি সঠিক উপায়ে মানুষের কাছে জানানো যায় তাহলে তাদের কাছে আপনার গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়বে। সবাই আপনার কাজ, আগ্রহ, সামর্থ্য ও যোগ্যতা সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারবে।

 

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া যেমনঃ Facebook, Twitter, Linkedin,Instagram ইত্যাদি ছাড়াও আরও অন্যান্য সামজিক মাধ্যম  পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষকরে Linkedin কথা বলা যায়। এই সামাজিক ওয়েবসাইটটি প্রোফেসনাল ব্যক্তিবর্গের জন্য উপযুক্ত জায়গা। এই ওয়েবসাইটে সুন্দরভাবে গুছিয়ে, বলা যায় সিভির মত করে একজন ব্যক্তির সকল ইনফর্মেশন রাখা যায়। যেমনঃ ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মপ্রতিষ্ঠানের নাম, কাজের ধরন, বিশেষ কোন অর্জন ইত্যাদি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায়। অনেক প্রতিষ্ঠান লিংক- ডিন থেকে তাদের সঠিক কর্মী নিয়োগ করে থাকে। তাই সঠিক উপায়ে লিংক- ডিন প্রোফাইলটিকে অপ্টিমাইজ হবে। লিংক- ডিনের পাশাপাশি ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম,টুইটার ইত্যাদি ওয়েবসাইটে নিজের সকল ইনফর্মেশন ভালোভাবে অপটিমাইজ করে রাখলে ক্যারিয়ারে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা থাকে।

 

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমে নিয়মিত পোস্ট করা

নিজের ব্র্যান্ডিং করতে চাইলে আপনাকে নিয়মিত বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতে হবে। আপনার যে বিষয়টিতে ভালো দক্ষতা আছে সেই বিষয়টি  আপনার  অডিএন্সের কাছে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে হবে পোস্টের মাধ্যমে। বর্তমান সময়ে ফেসবুক সম্পর্কে শোনেননি এমন মানুষ খুজে পাওয়া যাবে না বললেই চলে। এই সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত পোস্ট করতে হবে।

 

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে আলোচনা করা

নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য আপনি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে যুক্ত হতে পারেন। গ্রুপে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। মন্তব্য করতে পারে। আপনি ইচ্ছা করলে সেখানেও নিজেকে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন।

 

এমন পোস্ট দিতে হবে যেটা সবার কাজে আসে

পোস্ট লিখার সময় আপনাকে একটা বিষয় মাথায় রাখতে যেন আপনার লিখা পোস্ট অন্যদের উপকারে আসে। তাহলেই কেবল আপনাকে মানুষ অনুসরণ করবে। আপনি আপনার অডিয়েন্সের মতামত জানতে পারেন যে তারা কোন বিষয়ে জানতে বেশি আগ্রহী। এজন্য তাদেরকে প্রশ্ন করা যেতে পারে। শুধুমাত্র ঘোরাঘুরি, খাওয়াদাওয়া, আড্ডাবাজি নয় বরং কাজের পোস্ট নিয়মিত দেওয়া উচিত।

তো আজকে এই পর্যন্তই। ব্র্যান্ডিং নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে, আমাদেরকে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।

2 thoughts on “ব্র্যান্ডিং কি এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

  1. Wow, awesome blog format! How long have you been blogging for? you make running a blog look easy. The overall glance of your web site is magnificent, as neatly as the content material!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *