হলুদের উপকারিতা, হলুদের পুষ্টিগুন ও ব্যবহার

হলুদের উপকারিতা, হলুদের পুষ্টিগুন ও ব্যবহার

আসসালামু আলাইকুম, ফ্রেন্ড’স আইটি পয়েন্ট (FriendsITpoint) এর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। এর আগে আমরা আলোচনা করেছিলাম কাজুবাদাম, কালোজিরার উপকারিতা সম্পর্কে। আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ  হলুদের উপকারিতা, হলুদের পুষ্টিগুন ও ব্যবহার। চলুন জেনে আসি।

 

Table of Contents

ভূমিকা 

হলুদ আমাদের সবার কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটা মশলা হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিনের রান্নায় হলুদ ব্যবহার না করলে রান্নাটাই পরিপূর্ণ মনে হয় না। হলুদ রান্নায় কালার বা রং তো আনেই, এছাড়াও খাবারের স্বাদ বা ফ্লেভার বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও হলুদ খুবই প্রয়োজনীয় একটা জিনিস। তবে শুধুমাত্র রান্নার ক্ষেত্রেই নয়, হলুদের আরও নানা ধরনের গুণ আছে, যার বেশীরভাগই আমাদের কাছে অজানা রয়েছে।

রন্ধন কাজে রান্নাঘরে হোক কিংবা ত্বক পরিচর্যায়, আমাদের বহূল পরিচিত উপাদান হলো হলুদ। ছোটবেলা হতেই আমরা জেনে আসছি হলুদের নানান উপকারি গুনাগুন সম্পর্কে। ত্বকের সমস্যা, পেটের সমস্যা, সর্ব শরীরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সমান ভাবে কাজ করে চলেছে হলুদ। তাছাড়াও বিভিন্ন শুভক্ষেত্র,অনুষ্ঠানে হলুদের ব্যবহার আমরা সকলেই করে থাকি । যেমন বাড়িতে বিয়ে অনুষ্ঠান মানেই নতুন বর-বউ কে কাঁচা হলুদ বেটে তা মাখিয়ে মঙ্গল কামনা করা হয়।

 

কিন্তু   আমরা হলুদের সম্পর্কে এবার এমন কিছু জানবো যেগুলো আমরা হয়তো জানিনা কিংবা জানলেও সেসব ক্ষেত্রে হলুদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কি হতে পারে সেটা  সঠিক জানি না।

বর্তমান এ উন্নত আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে  প্রথম হতেই  নানা ধরনের ত্বক পরিচর্যাকারী ঔষুধ তৈরি করতে এবং স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করতে হলুদের ব্যবহার করছে । হলুদে অধিক মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ভাইরাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান সমূহ বিদ্যমান রয়েছে। হলুদের গুনগুত মান আরো বৃদ্ধি পেয়েছে এর মধ্যে উপস্থিত অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-আর্সিনোজেনিক উপাদানসমূহের উপস্থিতিতে। হলুদের বিদ্যমান এ উপাদানসমূহ শরীরকে ভেতর থেকে রোগ মুক্ত করে স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে। 

 

হলুদ কি? 

হলুদকে আমরা অলৌকিক ভেষজ বা ‘মিরাকল হার্ব’ বলে থাকি । হলুদকে  ভারতীয় জাফরান বা সোনার মশলাও বলা হয়। হলুদ একটি অন্যতম স্বাস্থ্যকর উপাদান। কারকুমিন হলো হলুদের সর্বাধিক শক্তিশালী উপাদান। যা আমাদের  স্বাস্থ্যের প্রায় সব কার্যকলাপকে বৃদ্ধি করে তোলে, তা শরীরের জয়েন্টের ব্যথা কমিয়েই হোক বা ডায়াবেটিসের চিকিৎসাই হোক। হলুদকে সব সময় রোগ প্রতিরোধকারী হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

 

হলুদ আপনার শরীরের জন্য কেন উপকারী? 

গাছের শিকড় হতে পাওয়া মসলা জাতীয় উপকারি উপাদান হলো হলুদ। বিশ্বের অনেক দেশে রন্ধন প্রক্রিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য উপাদান হলো হলুদ। তাছাড়াও চিকিৎসা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলুদ। হলুদের বৈজ্ঞানিক নাম কারকুমা লঙ্গা। হলুদে  রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৬, ফাইবার, কপার,আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম,পটাশিয়াম। হলুদ প্রধানত রান্নায় ব্যবহার হয় এবং ত্বক পরিচর্যা, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে হলুদ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাছাড়াও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে হলুদ। হলুদ স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতেও উপকারি ভূমিকা পালন করে থাকে। দীর্ঘকাল হতে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে।

 

আপনার স্বাস্থ্য রক্ষায় হলুদ উপকারী কেন ?

কারকুমিন হলো  হলুদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যৌগ।এই যৌগটি  প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে  এবং হলুদে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান গুলো ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, লিভারের সমস্যা সমাধান করে থাকে। যেমন,, হতাশা বা উদ্বেগের প্রতিকার করতে পারে, হজম ব্যবস্থার উন্নতি করে, সর্দি কাশি নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, ওজন হ্রাস করতে পারে, হৃদরোগের সমস্যা দূর হয়, ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে, আর্থারাইটিস এর ব্যথা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে, এইডস, ডায়াবেটিস প্রভৃতি রোগের চিকিৎসা করে, আলঝেইমার রোগের চিকিৎসা করে সমস্যার সমাধান করে, মূত্রনালীর সংক্রমণ কমাতে সহায়তা করে। এ ধরনের সব সমস্যার সমাধান ঘটায় হলুদ। 

 

হলুদের উপকারিতা :

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় হলুদ রাখলে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ঘটে। হলুদে  থাকা অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অ্যান্টি-ক্যান্সার বৈশিষ্ট্যগুলো শরীরের নানা রকম রোগের চিকিৎসায় এবং রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হলুদ মহামারী এবং ফ্রী রাডিক্যালস রোগের অবস্থা উন্নতিতে সাহায্য করে থাকে। তাছাড়াও হলুদ  ক্যান্সারজনিত কোষগুলোকে প্রভাব বিস্তার করতে বাধা প্রদান করে, এর  ফলে ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়। হলুদ বাত, মূত্রনালীর সংক্রমণ,ত্বকের ক্যান্সার নিরাময়, যকৃতের অসুস্থতা, সমাধান করে। দীর্ঘ সময় ধরে হলুদ খাদ্য তালিকায় ব্যবহার করলে হলুদের উপকার শরীরের লক্ষ্য করা যায়।

হলুদের  উপকারিতা গুলো নিচে দেওয়া হলঃ 

  • লিভারের পরিশুদ্ধিকরণ 
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে হলুদের ভূমিকা
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা 
  • ক্যান্সার প্রতিরোধ
  • ওজন কমাতে হলুদের ভূমিকা
  • প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদান
  • হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় হলুদের ভূমিকা
  • হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি
  • মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা
  • প্রাকৃতিক বেদনা নাশক
  • মাসিকের যন্ত্রণা কমাতে ভূমিকা
  • বাতের ব্যথা কমায়
  • প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক
  • সর্দি কাশি নিরাময়ে হলুদের ভূমিকা
  • ত্বকের জন্য হলুদের উপকারিতা
  •  ব্রণ দূরীকরণ
  • সোরিয়াসিস চিকিৎসায় হলুদ
  • বলিরেখা দূরীকরণ

 

হলুদের উপকারিতা গুলোর বিস্তারিত আলোচনাঃ


লিভারের পরিশুদ্ধিকরণ: 

লিভার মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গুলোর মধ্যে অন্যতম। লিভারের সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ একটি ভেষজ উপাদান হলো হলুদ। হলুদের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যা সকল প্রকারের লিভার রোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গবেষণায় পাওয়া যায় যে , হলুদে থাকা কারকুমিন উপাদানটি অক্সিডেটিভের বিরুদ্ধে লড়াই করে লিভারকে সুরক্ষা করতে পারে। হলুদে থাকা উপাদানগুলো যকৃতের আঘাত প্রতিরোধ করে থাকে এবং হেপাটিক স্বাস্থ্য উন্নতি ঘটায়।  অ্যালকোহলযুক্ত ফ্যাটি লিভার চিকিৎসায় কারকুমিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়াও হলুদে বিদ্যমান অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান গুলো যেকোনো ধরনের খাবার থেকে হওয়া সংক্রমণ আটকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন লিভারকে শক্তিশালী করে। এর ফলে লিভারের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যে সকল মানুষের ফ্যাটি লিভারের রোগ সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও স্বস্তি মেলে। হলুদের মধ্যে উপস্থিত উপাদানগুলো লিভারে আটকে পরা বর্জ্য পদার্থকে বের করে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে, যার জন্য লিভারের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। 

 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে হলুদের ভূমিকা:

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হলুদ একটি অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পর্যবেক্ষন করলে দেখা যায় প্রতিদিন যে সকল মানুষ সকাল বেলা খালি পেটে কাঁচা হলুদ খায়, তাদের দেহের ভিতরে এমন কিছু উপাদান এর মাত্রা বৃদ্ধি পায় যার ফলে  ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তাইতো ডায়াবেটিসের মতন মরণ ব্যাধি হতে রক্ষা পেতে দৈনিক খালি পেটে অবশ্যই কাঁচা হলুদ গ্রহণের অভ্যাস করতে হবে। অ্যান্টি ডায়াবেটিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করে হলুদে থাকা কারকিউমিন। কাঁচা হলুদ খেলে ইনসুলিন হরমোনের ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকে। যার জন্য রক্তের শর্করার পরিমান সঠিক থাকে এবং অগ্নাশয় সুস্থ থাকে। ডায়াবেটিস নিউরোপ্যাথি রোধ করতে হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন উপাদান সাহায্য করে। এছাড়া ডায়াবেটিসের সাথে যুক্ত বিভিন্ন রোগ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। হলুদ যেকোনো ধরনের প্রদাহ অথবা অক্সিডেটিভ চাপ ও নিয়ন্ত্রন করে। কারকিউমিন রক্তের গ্লুকোজের পরিমান হ্রাসই করে না, বরং রক্তের উচ্চ ফ্যাট ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এতে করে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ হয়ে যায়।

 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা:

মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হলুদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হলুদের মধ্যে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি, উপাদান গুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। হলুদ শরীরকে যে কোন প্রকার ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং খাদ্যনালী কে সুরক্ষিত রাখে। আমরা প্রতিদিন যে সকল খাদ্য গ্রহন করে থাকি তা সবসময় পরিচ্ছন্ন নাও থাকতে পারে। এর ফলে  অনেক সময় নানা জীবাণু আমাদের শরীরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। হলুদ গুঁড়ো বা কাঁচা হলুদ খাদ্যের তালিকায় দৈনিক  রাখলে  আমাদের খাদ্যনালীকে ঔ সকল ক্ষতিকারক জীবাণু সংক্রমণ হতে রক্ষা করবে এবং যে কোন প্রকারের ব্যাথার হাত থেকে মুক্তি প্রদান করে। প্রতিদিন যদি আমরা এক গ্লাস দুধে এক চামচ হলুদ মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করি সে ক্ষেত্রে এই সমস্ত সমস্যা থেকে সমাধান সহজেই মিলবে। এই হলুদ দুধে থাকা বিভিন্ন উপকারি উপাদান গুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যার ফলে কোন রোগ শরীরের প্রবেশ করতে পারে না এবং শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য রাখে। 

 

ক্যান্সার প্রতিরোধ:

পেট এবং ত্বকের ক্যান্সার রোগের প্রতিরোধ এবং সম্পূর্ণ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে হলুদ। হলুদে বিদ্যমান  প্রতিরক্ষাকারী উপাদানগুলো ক্যান্সারের জীবাণু শরীরে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। গবেষণায় পাওয়া যায়, হলুদে বিদ্যমান কারকুমিন যৌগটি ক্যান্সারের সম্ভাবনা শরীর থেকে হ্রাস করে এবং ক্যান্সারজনিত সকল জীবানু নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া কারকুমিন যৌগটি কেমোথেরাপি কার্যকর করে তোলে এবং এই প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্যকর কোষগুলো সুরক্ষিত হয়। শরীলে সুস্থতা রক্ষা করতে সহায়তা করে কারকুমিন। হলুদের বিদ্যমান যৌগটি প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোষের মৃত্যুকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। গবেষণায় পরিলক্ষিত কারকিউমিন প্রায় সকল ধরনের ক্যান্সারের কোষ গুলিতেই একই প্রভাব বিস্তার করে ।অগ্ন্যাশয়,প্রোস্টেট,এবং ফুসফুস ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এটি । এটি ক্যান্সারজনিত কোষ গুলিকে মেরে ফেলে স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে । বিভিন্ন গবেষণায়  পাওয়া যায় যে, যারা প্রতিদিন কাঁচা হলুদ খাদ্য তালিকায় রাখে তাদের প্রায় ৫৬ ধরনের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে এবং ক্যান্সারের কোষের বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান করে শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায্য করে।

 

ওজন কমাতে হলুদের ভূমিকা:

বর্তমানে ফাস্টফুড খাবারের আসক্তি বেশি হওয়ার ফলে, ওজন নিয়ে সকলেরই একটু চিন্তায় থাকে। তবে একটি সামান্য উপাদান প্রতিদিন খাদ্যের সাথে গ্রহণের ফলে আপনি আপনার ওজন কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। আর এই উপাদানটি আপনার রান্না ঘরেই সহজে পাওয়া তা হলো হলুদ। কাঁচা হলুদে উপস্থিত আন্টিওবেসিটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উপাদানগুলি শরীরের অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ জমতে দেয় না এবং মেটাবোলিজমের হার বৃদ্ধি করে যার জন্যে শরীরে বাড়তি মেদ জমার সম্ভাবনা কমে যায়। হলুদের উপস্থিত কারকিউমিন স্থূলতার সাথে সম্পর্কিত সকল ধরনের অস্বস্তি কে কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া এটি শরীরের বাড়তি ফ্যাট দূর করে দিতে সহায়তা করে। যারা নিয়মিত হলুদ গ্রহণ করেন তাদের শরীরে ফ্যাট কোষগুলি সহজে বাড়তে পারে না। মূলত হলুদে থাকা এনজিওজেনিক কার্যক্রমগুলো এই ফ্ল্যাট টিস্যুগুলো কমাতে সাহায্য করে। এগুলো শরীরের যে সকল টিস্যুগুলো ওজন বাড়াতে প্রধান ভূমিকা পালন করে তাদের দমন করে।

 

প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ:

হলুদে রয়েছে কারকুমিন যা প্রদাহ নিয়ন্ত্রন করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ঘটায়। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, হলুদ হাঁড়ের চিকিৎসা ছাড়াও শরীরের যেকোনো জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কারকিউমিন আর্থারাইটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে থাকে।

অস্টিওআর্থারাইটিস এর লক্ষণগুলি কমাতে হলুদের মধ্যে থাকা প্রদাহজনিত বৈশিষ্ট্যগুলো সহায়তা করে । তাছাড়া হলুদ খেলে হাঁটু ব্যথার প্রতিকারে সহায়তা পাওয়া যায়। বেশিরভাগ ধরনের পেশীবহুল ব্যথা সাড়াতে  হলুদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। হলুদের মধ্যে উপস্থিত অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদানগুলো শরীরকে সকল প্রকার প্রদাহজনিত জীবাণুর হাত থেকেও রক্ষা করে এবং,বাতের ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, পেটে ব্যাথার মত জটিল সমস্যা গুলোর সমাধান করে থাকে। 

 

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদান:

শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানগুলো উপস্থিত থাকে হলুদে, যা শরীরকে অ্যানিমিয়া রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। সাধারনত মেয়েদের ক্ষেত্রে অ্যানিমিয়া হওয়ার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। তাই মেয়েদের নিয়মিত  কাঁচা হলুদ খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  তাছাড়াও হলুদের মধ্যে রয়েছে  কারকিউমিন যা লোহিত রক্ত কণিকা রক্ষা করে থাকে এবং হলুদে থাকা আয়রন রক্তের আয়রনের ঘাটতি মেটায়।  শরীর থেকে সকল  ধরনের বর্জ্য দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে হলুদ। তাছাড়াও হলুদের মধ্যে বিদ্যমান থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদানগুলো সব ধরনের মাসিকের যন্ত্রণা দূর করে। এছাড়াও হলুদের উপকারি উপাদানগুলো ক্ষত নিরাময় এবং রক্তসঞ্চালন ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় হলুদের ভূমিকা:

সারা বিশ্বের প্রায় ৩১%  মানুষের মৃত্যুবরণের কারন হৃদরোগ যা সংখ্যায় ১৮ মিলিয়ন প্রায়। হলুদে উপস্থিত কারকিউমিন হৃদরোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। হলুদে বিদ্যমান  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলো ডায়াবেটিস জনিত হার্টের সমস্যা এবং কার্ডিও টক্সিসিটি সমস্যার সমাধানে সহায়তা করে। তাছাড়াও হার্টফেল এবং কার্ডিয়াক হাইপারট্রফির মতো সমস্যাগুলো সমাধান করতে সামর্থ্য রয়েছে হলুূদের। হলুদের উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানগুলো অনিয়মিত হার্টবিটকে প্রতিরোধ করে থাকে। গবেষণায় দেখা যায় যে , উচ্চ রক্তচাপের ফলে হার্ট অ্যাটাক সমস্যা হতে পারে। হলুদ এগুলোর প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে। হলুদ অতিরিক্ত করণারি সিনড্রোম রয়েছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে কারকিউমিন কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাকে হ্রাস করতে  সাহায্য করে। দৈনিক নিয়ম করে  কাঁচা হলুদ খাদ্য হিসেবে খেলে স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেকটা কমে যায়। কারন  কাঁচা হলুদের  বিদ্যমান অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্ট্রোকের পরবর্তী চিকিৎসায় অনেক উপকার করে থাকে। তাছাড়া কাঁচা হলুদ হার্টকে নানা রকমের  ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা প্রদান করে । তাই নিয়মিত খাদ্য তালিকায় হলুদ রাখার চেষ্টা করুন। 

 

হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি:

গ্যাস্ট্রিক আলসারের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন।  কারকিউমিনে উপস্থিত অ্যান্টি ইউলার কার্য-কলাপ তার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যকে উদ্ভূত করে থাকে। কারকিউমিনের অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এর প্রভাবে খাদ্যনালীতে থাকা প্রদাহ দূর হয় এবং কারকিউমিনে বিদ্যমান উপাদানগুলো  গ্যাস্ট্রো-সফেজিয়াল ডিজিজের চিকিৎসা করতে সাহায্য করে থাকে।

আলসারেটিভ কোলাইটিসের   চিকিৎসায়   হলুদের ভূমিকা রয়েছে।  হলুদ  হজমের ক্ষমতা বাড়িয়ে  লিভারের রোগ, প্রদাহজনিত পেটের রোগ, কোলোরেক্টাল ক্যান্সার রোগের প্রতিকার করতে পারে। গবেষণায় দেখা যায় যে , যে সকল মানুষ দৈনিক  হলুদ খায় তাদের হজমের সহায়ক পাচকরস এর ক্ষরণ বৃদ্ধি পায় । এর ফলে বদহজমের মত সমস্যার নিরাময় হয় । সেই সাথে গ্যাস অম্বল ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা হ্রাস পেতে থাকে । তাই  বলা যায় হজম ক্ষমতা কমাতে এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ইনফেকশন কমাতে কাঁচা হলুদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

 

মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা:

মানসিক  স্বাস্থ্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে হলুদ। আলঝেইমার রোগ আক্রান্ত রোগীদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটায় হলুদের মধ্যে বিদ্যমান কারকিউমিন। হলুদের কারকিউমিনে থাকা  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যগুলো এ ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে। আলঝেইমার এমন একটি  রোগ যা স্নায়ু কোষের কাজকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। আর কারকিউমিন এগুলোর সাথে লড়াই করে আলঝেইমার প্রতিরোধ করে। হলুদে বিদ্যমান অন্য একটি রাসায়নিক উপাদান হলো টিউমারন, যা মস্তিষ্কের কোষকে উদ্দীপ্ত করে। মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থতায় সহায়তা করে। কারকিউমিন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে  সাহায্য করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ইনসুলিনের গ্লুকোজ বৃদ্ধি করে ডায়াবেটিস নিউরোপ্যাথি প্রতিহত করে। এটা ছাড়াও গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে যে সকল ধরনের ডিপ্রেশনের সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে হলুদ। হলুদ  ডিপ্রেশন, হতাশা বা স্ট্রেস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার  করা হয়ে থাকে।  বিভিন্ন গবেষনায় দেখা গিয়েছে, হলুদে বিদ্যমান  কারকিউমিন হতাশার জন্য একটি অন্যতম নিরাপদ এবং প্রাকৃতিক চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। তাই মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায়  প্রতিদিন এক টুকরো করে কাঁচা হলুদ কিংবা হলুদের গুঁড়ো খাওয়া প্রয়োজন।

 

প্রাকৃতিক বেদনা নাশক:

প্রাকৃতিক বেদনানাশক উপাদান হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত হলুদ। হলুূদে উপস্থিত অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান গুলো যেকোনো ধরনের ব্যথা প্রতিরোধে সহায়তা করে। 

হাঁটুর ব্যথা, বাতের ব্যথা, নানান রকমের ব্যথার মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধানে  হলুদ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে । তছাড়াও পেটের সংক্রমণ বা পেটের ব্যাথা থেকেও শরীরকে সুস্থ রাখে হলুদ । আর্থারাইটিস সমস্যার সমাধানে ও হলুদের ভূমিকা রয়েছে । হলুদের মধ্যে উপস্থিত কারকিউমিন যৌগ উপাদানটি যেকোনো ধরনের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। হঠাৎ করে গুরুতর চোট আঘাত পেলেও ব্যাথা  কমাতে হলুদ সাহায্য করে। এছাড়াও যারা দীর্ঘ সময় ধরে বাতের ব্যথায় ভুগছেন তাদের জন্যও  হলুদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা হলুদ সব সময়  অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এজেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে। যা শরীরের সকল ধরনের হাড় ব্যথা কিংবা পেশীর ব্যথা কমিয়ে তুলতে  সাহায্য করে। দাঁতের ব্যথার নিরাময় ক্ষেত্রেও হলুদের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। আবার  অন্যতম আরো একটি  গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো সাইনাস। এক গ্লাস হলদি দুধ নিমেষে সাইনাস জনিত সমস্যার সমাধান করে।

 

বাতের ব্যাথা কমায়:

সকল রকমের ব্যাথা কমাতে হলুদের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । এক্ষেত্রে বাত ব্যথা, হাঁটুর ব্যথা সহ যে কোন ধরনের পেশিজনিত ব্যথা গুলোর নিরাময়ের  ক্ষেত্রে হলুদ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। হলুদের মধ্যে উপস্থিত  অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানগুলো শরীরের ভেতর থেকে ব্যথা কমাতে  সাহায্য করে। হলুদের  কারকিউমিন নামক  উপাদানটি যেকোনো ধরনের প্রদাহ কে হ্রাস করতে সহায়তা করে। যাদের হাঁটু ব্যথা, পেশীবহুল ব্যথা রয়েছে সেগুলি সমাধান করতে হলুদ  সহায়তা করে। হলুদ রক্তের মধ্যে অক্সিজেন প্রেরণ করে। যা পুরো  শরীরের  কোষে গুলোতে  পৌঁছে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি ঘটায় এবং শরীরের যেখানে যেখানে ব্যাথা সৃষ্টি হয়, সেখানে সঠিক রক্ত সঞ্চালনকরে।  রক্ত চলাচল সঠিকভাবে হওয়ায়   সকল  ধরনের ব্যথা বা ফুলে যাওয়ার মতন সমস্যাগুলির নিরাময় হয় । বাতের ব্যাথা এক ধরনের দীর্ঘ স্থায়ী ব্যাথা। হলুদ সঠিক ভাবে দৈনিক খেলে বাতের ব্যাথার কমে যাবে।

 

প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক:

হলুদের মধ্যে বিদ্যমান অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলো যেকোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই  ধ্বংস করতে পারে । নানান  রকমের  পেটের অসুখ কিংবা ত্বকের রোগের সমাধান পাওয়া যায় হলুদে । খাবারের সাথে  পেটে যদি কোন প্রকার  জীবাণু সংক্রমিত হয়, সে ক্ষেত্রে কাঁচা হলুদ খালি পেটে খেলে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়। কিংবা ত্বকের কোথাও  ক্ষত  কিংবা পোকামাকড়ের কারণে যদি জীবাণুর সংক্রমণ হয় তার ওপর হলুদ এবং গোলাপ জল  মিশিয়ে লাগানো গেলে তার নিরাময় পাওয়া যায়। হলুদের মধ্যে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলো রয়েছে বলে  ঐ সকল জীবাণুকে ধ্বংস করতে সহায়তা করে হলুদ। তাই দৈনিক সকাল বেলা খালি পেটে কাঁচা হলুদ খাওয়া উচিত। এটি শরীরকে সকল  ধরনের জীবাণু সংক্রমণের হাত  থেকে রক্ষা করবে। আমরা দৈনিক  যেসকল খাবার খেয়ে থাকি  তার মধ্যে থেকেও অনেক সময় পেটের ভেতর জীবাণু যেতে পারে। তাই খাবারের মধ্যে কাঁচা হলুদ বা হলুদ গুঁড়ো ব্যবহার করলে খাদ্যনালীকে ক্ষতিকর জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায় এবং খাদ্যনালীর প্রদাহের সম্ভাবনা কমে যায় ।

 

সর্দি কাশি নিরাময়ে হলুদের ভূমিকা:

বর্তমানে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে একটি সর্দি কাশি হলো একটিগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। ছোট থেকে বড় প্রায় সকলেই এই সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে।  কারো কারো এলার্জির কারণে আথবা শারীরিক কারণে বা জ্বরের কারণেও সর্দি-কাশি হয়ে থাকে । তবে এইসব সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায় হলুদের সহায্যে। হলুদের মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন যা যেকোনো ধরনের সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা কমাতে সহায়তা করে থাকে । তাছাড়াও কাঁচা হলুদ খেলেন আমাদের শরীরের অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি পায়, যা শরীরকে সর্দি-কাশির মতো রোগ জীবাণু হতে আরাম দেয়। কাঁচা হলুদে উপস্থিত  ভিটামিন সি সর্দি কাশি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাতে ঘুমতেন যাওয়ার পূর্বে  যদি হলুদ দুধ খাওয়া যায় কাশি সর্দি এবং সকল  ধরনের শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতার থেকে নিরাময় পাওয়া যায়।

 

ত্বকের জন্য হলুদের উপকারিতা:

সুন্দর,  উজ্জ্বল,ঝলমলে  ত্বক চায় না এমন মানুষ পাওয়া যাবেনা । আর ত্বকের যত্নে  হলুদ একটি অন্যতম উপকারি  উপাদান যা স্কিনের সব রকমের সমস্যায় ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া স্কিন বা ত্বকের রোদে পোড়া দাগ,, বলিরেখা,ব্রণের  দাগ কমাতেও  সহায়তা করে হলুদ। যেকোনো ধরনের স্কিন কেয়ার বাজারজাত প্রোডাক্টকে হার মানিয়ে দেবে হলুদের ব্যবহার।  দীর্ঘদিন নিয়ম করে  হলুদের ব্যবহার করলেই সে ক্ষেত্রে প্রভাব লক্ষ্য করা যাবে।

 

ব্রণ দূরীকরণ:

ব্রণ এবং ব্রণ কমে যাওয়ার পরেন ব্রণের  দাগ সব সময়  একটি অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। এমন  সমস্যায় মূলত যাদের তৈলাক্ত ত্বক তাদেরই অধিকাংশ ভুগতে হয়। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান হাতের কাছেই রয়েছে তা হলো হলুদ। মূলত যাদের ব্রণের সমস্যা রয়েছে  তাদের জন্য কাঁচা হলুদ একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। কাঁচা  হলুদে থাকা  অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদানগুলো ত্বককে যেকোনো ইনফেকশন  হতে রক্ষা করে। তা ছাড়াও ত্বকের  উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে কাঁচা হলুদ  সহায়তা করে। তাছাড়াও দৈনিক  হলুদ মেশানো দুধ খাওয়া গেলে  ত্বকের ভেতরের  টক্সিন বেরিয়ে যায় এবং  কোলাজেনের উৎপাদন  বৃদ্ধি পায় । যার জন্য ত্বকের গভীর থেকে উজ্জ্বল এবং প্রাণোচ্ছল দেখায় এবং বয়সের ছাপ কমে যায় । এসবের পাশাপাশি ব্রণের সমস্যা সমাধান  হয়। হলুদে বিদ্যমান অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রভাবগুলো ব্রণ সহ ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।  ব্রণের সাথে সম্পর্কিত প্রদাহ কিংবা লালচে ভাব দূর  করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে হলুদ। 

 

সোরিয়াসিস চিকিৎসায় হলুদ:

সোরিয়াসিস চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে  হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন। এবং অনয যেকোনো সমস্যায় ক্ষেত্রেও এটি  একটি কার্যকরী উপাদান। হলুদের মধ্যে থাকা অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যগুলো একজিমা,সোরিয়াসিস জাতীয় ত্বকের রোগগুলো দূর হতে সহায়তা করে।   হলুদের উপাদান গুলো অ্যান্টিবায়োটিক এর সাথে মিশ্রিত  হয়ে কারকিউমিন সোরিয়াসিস জাতীয় ত্বকের রোগের সমস্যার প্রতিকার করে থাকে।  হলুদের বিদ্যমান  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলো সব রকমের ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি রক্ত সঞ্চালনকে ত্বরান্বিত করে । হলুূদ  অন্যতম একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা মানুষের শরীরের এবং ত্বকের সমস্যা গুলোর সমাধান করতে পারে। ওষুধ দ্বারা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেলেও সোরিয়াসিস চিকিৎসায় হলুদ  ব্যবহার করলে  কোন রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়না। বরং প্রাকৃতিক উপায়ে হলুদ সকল প্রকার সোরিয়াসিস ও ত্বক জনিত সমস্যার সমাধান করে। 

 

বলিরেখা দূরীকরণ:

ত্বকের  ৩০ বছরের বেশি বয়স হলে ত্বকে বলিরেখা জানান দিতে শুরু হয়, যে বয়স বাড়ছে আর এটাই একজন মহিলার ক্ষেত্রে হতাশাগ্রস্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই ত্বকের  পরিচর্যার জন্য এখন  থেকেই হলুদের ব্যবহার শুরু করুন। কারন  হলুদের  উপস্থিত, অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি  এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান  গুলো বার্ধক্য প্রতিরোধে অর্থাৎ বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে।  তাছাড়া হলুদের মধ্যে বিদ্যমান কারকিউমিনের অ্যান্টি মুটেজেনিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন উপাদান রয়েছে, যা ত্বককে ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে সুরক্ষা দান করে এবং বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলোকে কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। 

 

 

হলুদের পুষ্টিগুন :

হলুদ আমাদের দেশ ছাড়াও  পুরো ভারতবর্ষের একটি জনপ্রিয় মসলা হিসেবে বহূল পরিচিত । হলুদ  রান্না ছাড়াও নানা রকমের উপকারি উপাদানের জন্য বেশ বিখ্যাত। আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রের  ওষুধ হিসেবে যুগ যুগ ধরে হলুদ  ব্যবহার হয়ে আসছে । হলুদে রয়েছে ওনেক পুষ্টি উপাদান  যেমন- ফাইবার, নায়াসিন, ভিটামিন বি৬, সি, ই, কে,কপার, ম্যাগনেসিয়াম,পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, কারকিউমিন। যা বিভিন্ন  রোগের প্রতিকারক ও প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে থাকে।

হলুদের পুষ্টিগুন গুলো সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো :

  • ১০০ গ্রাম কাঁচা হলুদের পুষ্টি উপাদান
  •  ক্যালরি=৩৩৪ গ্রাম
  • শর্করা=৬৪.৯ গ্রাম
  • প্রোটিন= ৭.৮৩ গ্রাম
  •  ফ্যাট=৯.৮৮ গ্রাম
  • ফাইবার=২১ গ্রাম
  •  ফোলেট=৩৯ আইইউ
  • নায়াসিন=৫.১৪ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন সি=২৫.৯ মিলিগ্রাম
  • ই=৩.১০মিলিগ্রাম
  • কে=১৩.৪ আইইউ
  • ক্যালশিয়াম=১৮৩ মিলিগ্রাম
  • আয়রন=৪১.৪২ মিলিগ্রান
  • জিংক=৪.৩৫ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস=২৬৮ মিলিগ্রাম
  • কপার=৬০৩ আইইউ 

 

হলুদের ব্যবহার :

এর মধ্যেই হলুদের নানা উপকারিতা সম্পর্কে আমরা জেনেছি এবার জানবো  কিভাবে খাদ্য তালিকায় হলুদের ব্যবহার করবো।

১) আমাদের  খাদ্য তালিকায় রাখা  বিভিন্ন শাক সবজি গুলো রান্না করার সময় এক চিমটে হলুদ দিলে,খাবারটি সুস্বাদু  হবে যেমন এতে খাবারটি পুষ্টিকরও হবে। 

২) আমাদের  খাদ্য তালিকায় থাকা সবুজ সালাদ তৈরী সময় তার ওপরে কিছুটা হলুদের গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। এতে সালাদের  গুণগতমান আরো বৃদ্ধি পাবে এবং সালাদগুলো  আরো পুষ্টিকর হয়ে উঠবে।

৩) রোজ রাতে খাবারে  স্যুপ খাচ্ছেন ডায়েট কন্ট্রোল  করার জন্য? তাহলে তো অনেক ভালো। সুপের মধ্যেই মিশিয়ে  নিন এক চিমটে হলুদ। এটা স্যুপকে আরো বেশি স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর করে।

৪) সকাল বিকেল  কিংবা সন্ধ্যেতে যে কোন ধরনের জুস তৈরি করতে একটু হলুদ মিশিয়ে খেলে এটি ত্বককে এবং ভেতর থেকে শরীরকে সুস্থ রাখে।

৫) শরীরের সুস্থতা আনতে  হলুদ চা তৈরি করে খেতে পারেন।

৬) নারকেল এবং দুধের সাথে হলুদ ভালো করে ফুটিয়ে নিয়ে অল্পপরিমান  মধু দিয়ে একটি সুস্বাদু পানীয় তৈরি করে খেলে তা শরীর কে সতেজ করবে এবং সুস্থও রাখবে।

৭)আপনারা যদি  কাঁচা হলুদ খেতে পারেন তা অনেক  ভালো স্বাস্থ্যের জন্য । কিন্তু  যদি কাঁচা হলুদ সরাসরি খেতে না পারেন তাহলে যেকোন খাবার প্রস্তুতির সময় তার মধ্যে এক চিমটি হলুদ গুড়ো মিশিয়ে দিন  এটি আপনার শরীরে সমানভাবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। 

 

উপসংহার :

এই ব্লগ পোস্টে হলুদ কি? হলুদের উপকারিতা, হলুদের পুষ্টিগুন, হলুদের ব্যবহার 

বিষয়গুলি নিয়ে যথাযথ বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি আমাদের এই ব্লগ পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের এই পোস্টটি পড়ে যদি আপনারা সামান্য পরিমানও উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে আপনাদের সকল প্রিয়জন যাদের জন্য হলুূদের উপকারি সকল বিষয়গুলো জানলে তারা সকলে উপকৃত হবেন তাদের কাছে শেয়ার করবেন। যদি হলুদের  উপকারিতা ও ব্যবহার  নিয়ে আপনাদের  মূল্যবান কোন পরামর্শ থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জানাবেন। আমাদের পূর্ববর্তী ব্লগ পোস্ট গুলো সম্পর্কে জানতে ভিজিট করতে পারন ব্লগ একাডেমীতে(Blog Academy)। ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *