আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে

আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে

আসলামুআলাইকুম, Blog Academy  তে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। মহান আল্লাহর রহমতে  আশা করি আপনারা সবাই ভালোই আছেন। আজকের এই লেখায় আপনি জানতে পারবেন আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে এবং তার পরিচয় এছাড়াও জানতে পারবেন বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার এর জনক সম্পর্কে। তো চলুন এবার শুরু করা যাক।

আজকের এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে আমরা বিজ্ঞানের নানান কল্যাণকর আবিস্কারের সাহায্য ছাড়া চলতে পারিনা। আর আজকের বিজ্ঞানের এই আবিস্কারের মধ্যে এক অসাধারণ আবিস্কার হল কম্পিউটার। বর্তমান বিশ্বে বহুল প্রচলিত ইলেকট্রিক যন্ত্র হচ্ছে কম্পিউটার।

কম্পিউটার চিনে না বা দেখেননি এমন ব্যাক্তি খুজে পাওয়াটা খুবই কস্টকর।যা পাল্টে দিয়েছে মানুষের জীবন ও সাথে সাথে পাল্টে দিয়েছে পৃথিবীর ধরন। কম্পিউটারের জনক কে তাই আজ আমরা পাল্টে দেওয়া কম্পিউটারের সেই বিষ্ময়কর আবিস্কার সর্ম্পকে নিচে যথাযথ আলোচনা করবো

 

কম্পিউটারের জনক কে?

প্রথম কম্পিউটার আবিষ্কারক বা কম্পিউটারের জনক হাওয়ার্ড অ্যাইকন কে বলা হয়। উইকিপিডিয়া, গুগল কিংবা কোনো বই পুস্তকের কোথাও হাওয়ার্ড অ্যাইকন সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। তাছাড়া কিভাবে তিনি কম্পিউটার আবিষ্কার করেছিলেন সেই সম্পর্কেও সঠিক কোন তথ্য পাওয়া সম্ভব হয় না। প্রকৃতপক্ষে কেন কম্পিউটারের জনক বলা হয় হাওয়ার্ড অ্যাইকন কে সেই প্রশ্ন অনেকের কাছে রহস্যময় এখনো।

প্রাগৈতিহাসিক যুগে গণনার যন্ত্র উদ্ভাবনের বিভিন্ন প্রচেষ্টাকে কম্পিউটারের ইতিহাস এর সুচনা হিসেবে ধারনা করা হয়। মানুষ একসময় প্রাচীন কালে সংখ্যা বুঝানোর জন্য ঝিনুক, নুড়ি, দড়ির গিট ইত্যাদি ব্যবহার করত। পরবর্তীতে গণনার কাজে বিভিন্ন কৌশল ও যন্ত্র ব্যবহার করে থাকলেও অ্যাবাকাস (Abacus) নামক একটি প্রাচীন গণনা যন্ত্রকেই কম্পিউটারের ইতিহাসে প্রথম যন্ত্র হিসেবে ধরা হয়।

আমি মনে করি হাওয়ার্ড অ্যাইকন এর কম্পিউটারের প্রাচীন ইতিহাসের সাথে কোন সম্পর্ক রয়েছে যার জন্য তাকে প্রথম কম্পিউটারের জনক বলা হয়ে থাকে।

কম্পিউটারের জনক কে
কম্পিউটারের জনক

আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে? 

বিজ্ঞানী চার্লজ ব্যাবেজকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়। বিজ্ঞানী চার্লজ ব্যাবেজ সর্ব প্রথম যান্ত্রিক উপায়ের মাধ্যমে সংখ্যা ও সারণী গণনা করার জন্য ১৮ ১০ সালে চিন্তা করেন একটি যন্ত্র আবিষ্কারের বিষয়ে। পরবর্তীতে চার্লজ ব্যাবেজ তার কল্পিত যন্ত্রটি  ১৮৩০ সালে  আবিষ্কার করেন।

কোন প্রকার বুদ্ধিমত্তা ছাড়া শুধু মাত্র গণনার কাজ করতে পারত সেই সময় তার আবিস্কারিত যন্ত্রটি। মূলত বিজ্ঞানী চার্লজ ব্যাবেজ আবিস্কারিত যন্ত্রটিকেই গণ্য করা হয় আধুনিক কম্পিউটরের প্রথম সংস্করণ হিসেবে। কিন্তু তিনি এই যন্ত্রটি পরিপূর্ণ ভাবে তৈরি করে যেতে পারে নি তার আর্থিক সামার্থ না থাকায়।

হাওয়ার্ড অ্যাইকন এর পরে চার্লস ব্যাবেজ প্রথম কম্পিউটারের আধুনিক ভার্সন তৈরি করেন সংখ্যা ও সারণী গণনা করার মাধ্যমে, যার ফলে চার্লস ব্যবেজকেই আধুনিক কম্পিউটারের জনক হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

বিজ্ঞানী চার্লজ ব্যাবেজ জন্ম গ্রহন করেন ২৬শে ডিসেম্বর, ১৭৯১ সালে এবং মৃত্যু বরন করেন ১৮ই অক্টোবর, ১৮৭১ সালে। একজন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন চার্লস ব্যাবেজ।

 

চার্লস ব্যাবেজ কে কেন আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়?

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ যার ইংরেজী নাম Charles Babbage গণিত বিষয়ক হিসাবের নিমিত্তে উন্নত ধরনের ডিফারেন্স ইঞ্জিন তৈরির আংশিক কাজ করেন ১৮২২ সালে।

কিন্তু ডিফারেন্স ইঞ্জিনের চেষ্টা ব্যর্থ হন তিনি অধিক পরিমাণ যান্ত্রিক সরঞ্জাম নিখুঁতভাবে তৈরি করা সম্ভব না হওয়ায়। এরপর তিনি  অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামক যান্ত্রিক কম্পিউটার তৈরির প্লান করেন ১৮৩৩ সালে এবং তৈরি করেন ইঞ্জিনের নকশা।

চার্লস ব্যাবেজ আধুনিক কম্পিউটার এর জনক
আধুনিক কম্পিউটার এর জনক কে? চার্লস ব্যাবেজ

একজন স্বচ্ছল ব্যবসায়ী ছিলেন চার্লস ব্যাবেজের বাবা। তার বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে বাবার সম্পত্তির মালিক হন চার্লস ব্যাবেজ এবং নিজ করচে এই প্রকল্পে গবেষণা চালিয়ে যান তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। ব্যাবেজের বদ্ধমূল ছিল অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন তৈরির পরিকল্পনায় আধুনিক কম্পিউটারের ধারণা। যার কারনে আধুনিক কম্পিউটারের জনক চার্লস ব্যাবেজকে বলা হয়ে থাকে। 

 

ডিজিটাল কম্পিউটার এর জনক কে?

জন ভন নিউম্যান একজন হাঙ্গেরীয় বংশদূত ও মার্কিন গণিতবিদ ছিলেন। তাকে ডিজিটাল কম্পিউটারের জনক বলা হয়। জন ভন নিউম্যান কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় অপারেটর তত্ত্ব ব্যবহারের অগ্রদূত সেটতত্ত্ব জ্যামিতি, অর্থনীতি, প্রবাহী গতিবিদ্যা, যোগাশ্রয়ী প্রোগ্রামিং, কম্পিউটার বিজ্ঞান,পরিসংখ্যান সহ আরো অনেক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন।

তার এই অসামান্য অবদানের জন্য আধুনিক কম্পিউটারের মূল স্থাপত্যকে তাঁর নাম অনুসারে ভন নিউম্যান স্থাপত্য বলা হয়ে থাকে। 

সুপার কম্পিউটার এর জনক কে?

সুপার কম্পিউটার হলো পৃথিবীর সবথেকে দ্রুতগামী কম্পিউটার গুলো, যা খুব খুব এবং খুব দ্রুত ডাটা প্রসেস করতে পারে। বিশেষ গবেষণার ক্ষেত্রে যেমনঃ পদার্থবিদ্যা, নিউক্লিয়ার ফিউশন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়ার মতো গুরুত্বপূর্ন কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। জাপানের ‘ফুকাগুর কম্পিউটার’ কে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশীল সুপার কম্পিউটার হিসেবে ধরা হয়। কন্ট্রোল ড্যাটা কর্পোরেশন (সিডিসি) এর সেইমার ক্রে ১৯৬০ সালের দিকে সর্বপ্রথম সুপার কম্পিউটারের একটি ডিজাইন তৈরি করেন এবং তা পৃথিবীর সামনে তুলে ধরেন। তাই সেইমার ক্রে হচ্ছেন সুপার কম্পিউটারের জনক।

শেষ কথা

পরিশেষে বলা যায়, আজকের পোষ্টটিতে  ”আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে এবং কেন তাকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়” এই বিষয়টি নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আজকের পোষ্টটি পড়ে আধুনিক এবং বিভিন্ন কম্পিউটার এর জনক সম্পর্কে ভালো ধারনা লাভ করেছেন। কোন বিষয়ে  যদি জানার আগ্রহ থাকে তাহলে কমেন্ট বক্সে জানাবেন আমরা চেষ্টা করবো বিষয়টি  নিয়ে যথাযথ উত্তর করতে।

ধন্যবাদ

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.