আপনি কি করবেন আউটসোর্সিং নাকি ফ্রিল্যান্সিং

আপনি কি করবেন আউটসোর্সিং নাকি ফ্রিল্যান্সিং

আসসালামু আলাইকুম, আমি ফ্রেন্ড’স আইটি পয়েন্ট (FriendsITpoint) এর পক্ষ থেকে মোস্তাকিন মিঠুন। আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আপনি কি করবেন আউটসোর্সিং নাকি ফ্রিল্যান্সিং সেই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করবো।

অনলাইনে ক্যারিয়ার  গড়ার আগে যা ভাববেন

ধৈর্য ধরে এই পোষ্ট পড়ার পর আপনি মোটামুটি একটা ধারনা পেয়ে যাবেন যে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আপনার কি কি ক্ষেত্র থাকতেছে, আপনার সুযোগ কোথায় কোথায় আছে, আপনি কোন সেক্টর নিয়ে কাজ করতে চান, কোন বিষয়টা আপনার জন্য সহজ অথবা সুবিধাজনক হবে, আপনি কি করবেন আউটসোর্সিং নাকি ফ্রিল্যান্সিং ইত্যাদি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জানা যাবে। আর যদি ধৈর্য ধরে সময় নিয়ে পড়ার চিন্তা না থাকে তবে আপনার জন্য এই পোষ্ট নয়, এখান থেকেই চলে যেতে পারেন।

এই পোষ্ট এর মাঝে মাঝে আগের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ঐ বিষয়ের পোষ্ট এর লিঙ্ক দেওয়া আছে, যদি সেই ব্যাপারে না জানা থাকে তাহলে আগে সেইটা পড়েন তারপর নিচের দিকে পড়তে থাকুন। (লিং করা লেখা গুলা অন্য রংয়ের)

 

অনলাইনে ক্যারিয়ার

আপনারা যারা ইতিমধ্যে অনলাইনে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন তাদের জন্য লেখাটি উপকারী হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তবে যারা একেবারেই নতুন, আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে অনলাইনে ইনকামের কথা শুনে এই ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছেন, সহজেই মনে মনে হাজার হাজার ডলার ইনকামের কথা ভাবছেন, আগের চাকরী অথবা আগের কাজ সব বাদ দিয়ে অনলাইনে ইনকামের কথা চিন্তা করছেন তাদের জন্য কিছুটা তথ্যবহুল এবং উপকারী হবে বলে মনে করছি।


অনলাইনে ক্যারিয়ার এর অসুবিধা

যারা আমার অনলাইনে ক্যারিয়ার এর অসুবিধা সম্পর্কিত লেখাটি পরেছেন তারা ইতিমধ্যে জেনেছেন যে অনলাইনে ক্যারিয়ার করতে কি কি অসুবিধা আছে, তারপর ও প্রতিটি আলোচনায় এর বাধা বিপত্তি গুলো চলে আসে। তাই এই আলোচনায় ও সেই ব্যাপারে সামান্য কথা হবে।

আচ্ছা এবার আসি মুল আলোচনায়, ধরুন আপনি একজন চাকুরিজীবি, মোটামুটি একটা ভালো বেতনের চাকরী করেন, কিন্তু এতেও আপনার সন্তুষ্টি নাই। আপনার আরো অনেক অনেক চাই, আপনি চান যে আরো ভালো পরিমান একটা আয়ের মাধ্যম। চাকরিতে আপনার বসের আন্ডারে না থেকে আপনি নিজেই বস হিসেবে নিজেকে দেখতে চান এবং এই চিন্তা থেকে আপনি বিভিন্ন উপায় খুজতে থাকলেন তারপর কোনভাবে জানলেন অথবা দেখলেন যে আশেপাশের অথবা পরিচিত কেউ অনলাইনে আয় করছে।

দেখলেন সে আপনার বর্তমান চাকরির থেকে ভালো আয় করে, সে আপনার থেকে ভালো ছাত্র ও ছিলো না, আপনি নিজেকে তার থেকে মেধাবি ও বুদ্ধিমান বলেই জানেন, সে সহজেই সুয়ে, খেলে দিন কাটিয়ে ভালো আয় করছে(যদিও সেটা সাময়িক)। তার লাক্সারি লাইফস্টাইল দেখে, আপনি তার দিকে তাকিয়ে, ভালো করে না বুঝেই, ভালো করে না জেনেই, অথবা কোন ট্রেনিং সেন্টার এর আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন (৩ মাস কোর্স করে পরের মাস থেকে আয় করুন হাজার ডলার) দেখে সহজে আয়ের পথ হিসেবে আপনার বর্তমান চাকরী ছেড়ে দিয়ে ৩-৬ মাসের মধ্যে অনলাইনে ক্যারিয়ার এর দিকে ঝুকে পড়লেন, এর পর কি হয় জানেন?

অনলাইনে ক্যারিয়ার এর দিকে ঝুকে পড়লেন, এর পর কি হয় জানেন?

যারা জানেন তারা তো জানেনই, আর যারা জানে না তাদেরকে বলি, এর কিছুদিন যাওয়ার পর সে যখন বুঝতে পারে যে কোন কিছুই সহজ নয়, আমি ভালো করে না জেনেই যে কাজে এসেছি এটা কঠিন চ্যালেঞ্জ এর । তখন সে বুঝতে পারে যে আসলেই চাকরী ছেড়ে দেওয়াটা তার জন্য সঠিক ছিল নাকি ভুল, এটা সময়ের দাবি আমি বলছিলাম। এমন লোকের কথা যে ভালো করে না জেনে বুঝেই একটা সিন্ধান্ত নিয়ে ফেললেন।

আপনি ভাবছেন যে আসোলে কি এইরকম হয়? জ্বী হয়, আমি এমনো কাহিনি খুব কাছে থেকে দেখেছি যে কম্পিউটার এর বেসিক কিছুই জানে না অথচ আর একজনের দিকে তাকিয়ে  নিজের প্রতিষ্ঠিত চাকরী একেবারেই বাদ দিয়ে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সহজ পথ হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং কে বেছে নিয়েছে – এখনো ফলাফল শুন্য। অনেককে দেখেছি ইন্টারনেট কি সেটাও জানেনা তারপর ও দাবি করে বসে যে ভাই আমাকে শিখাবেন আমিও পারবো কি না, ইত্যাদি।

আপনি কি করবেন আউটসোর্সিং নাকি ফ্রিল্যান্সিং এটা ভাবার আগে আপনাকে আগে বেসিক বিষয়গুলি জানতে হবে। আপনি এই যুগে যদি এখনো ইন্টারনেট কি, গুগল কি সেটাও না জানেন তাহলে কিভাবে হবে? আমি বলছিনা যে আপনাকে দিয়ে একেবারেই হবে না, কিন্তু আপনি যে কাজ করতে চাইতেছেন সেটা আপনার সক্ষমতার ভিতরে কি না সেটাও চিন্তার বিষয়। একটা উদাহরন দিলে বুঝা যাবে, মনে করুন আপনি কখনো ২০ কেজি ধান কাধে নিয়ে দুই পা হাটেন নি, এখন আপনি যদি বলেন যে আমি ২ বস্তা(১৬০কেজি) ধান কাধে নিয়ে বাজার থেকে বাড়ি পৌছাবো সেটা আপনার পক্ষে আদৌ এত দ্রুত সম্ভব কি না সেটা ভেবে দেখতে হবে। এটা আপনার ভাবনার সময়।

বলছিলাম তাদের কথা যারা অন্যের দিকে তাকিয়ে, চলমান চাকরী বাদ দিয়ে কোনকিছু না জেনে না বুঝেই অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে চায়। 

আমি বলছি না যে অসম্ভব তবে এই ধরনের যারা দ্রুত এবং বর্তমান চাকরীর থেকে বেশি ইনকামের চিন্তা মাথায় নিয়ে দ্রুত সফল হতে চায় তাদের মধ্যে সফলতার হার অত্যন্ত কম।

যারা এইরকম কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে ইচ্ছুক যে, আর যাই হোক এর শেষ দেখেই ছাড়বো, এই খুব কম সংখক এর মধ্যে আমিও নিজেকে দেখতে চাই, তাদেরকে ওয়েলকাম!

আচ্ছা এখন বলি আরেক দল লোকের কথা, যারা অনলাইন ক্যারিয়ার কে ফুলটাইম হিসেবে বিবেচনা না করে পার্ট  টাইম  হিসেবে নিতে চাইছেন এবং চাকুরীর পাশাপাশি অনলাইনে একটা শক্ত অবস্থান তৈরির পরে অথবা এই ব্যাপারে ভালোভাবে জেনে বুঝে চাকুরী ছাড়ার কথা ভাবছেন তাদেরকেও ওয়েলকাম করতে আমার কোনো অসুবিধা নাই। আর যারা মনে করছেন যে আমাকে দিয়ে হবে না, তারা আপাতত এখান থেকেই পড়া শেষ করতে পারেন।

আমার লেখা গুলোতে সাধারনত সাবধান বানী(অসুবিধাগুলো) বেশি ফুটে তোলার চেষ্টা করি, যাতে যে কেউ হুট করে সিন্ধান্ত না নিয়ে বুঝে শুনে পা বাড়ায়। প্রথমেই নিরুৎসাহিত করে তারপর অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করছি , যারা এত দূর পর্যন্ত এসেছেন তাদেরকে স্বাগতম।

 

যারা অনলাইনে পার্ট  টাইম কাজ করতে চান তাদের উদ্দ্যেশ্যেঃ 

কিছু জনপ্রিয় টাইটেল

  • কোন কাজ না করে প্রতিদিন ৫০০ টাকা আয় করুন মাত্র কয়েক মিনিটে। 🙂
  • অনলাইনে পার্ট টাইম জব – প্রতিদিন ১ ঘন্টা সময় দিয়েই সপ্তাহে ২০০ ডলার আয় করুন :-O
  • বন্ধুদের সাথে Apps শেয়ার করে, অন্যদের ফোনে রেফারেল লিং দিয়ে এপ ইন্সটল করিয়ে নিজে ইনকাম করুন মাসে হাজার ডলার।
  • ইত্যাদি আরো অনেক ধরনের প্রচারনা আপনারা দেখে থাকবেন।

এইগুলা কোন কাজ না ভাই/বোন, এক প্রকার ভুয়া জিনিস। দেখা গেছে আপনার অনেক ফ্রেন্ড শত শত ডলার ইনকাম করেছে এইধরনের না জেনে বুঝেই সবকিছু শেয়ার বা অন্যান্য বেঠিক কাজ করে এবং তার ডলার টা ডলার হিসেবেই আছে, যেটা টাকা বানাইতে গেলে তারা বলে থাকে যে আগে ২০ ডলার বা ৫০ ডলার দিয়ে আমাদের রেজিস্ট্রেশন করুন, ইত্যাদি অনেক কারন দেখায় এবং আপনার সময় নষ্ট করে যা করছেন তা বৃথা যায়, এর ফলে অনেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে এর পর বলে অনলাইনে ইনকাম বলে কিছু নাই, সব ভুয়া।

যাই হোক যারা পার্ট টাইম অনলাইনে কাজ করতে চান তাদের জন্য একটু নিরাশা হলো যে পার্ট টাইম হিসাব করে আপনি কোনো দিকেই শক্ত ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারবেন না। আপনি যদি চাকুরি অথবা ব্যবস্যা করেন তাহলে আপনাকে সেদিকেই খুব ভালো ভাবে ফোকাস রাখতে হবে তাহলে আপনি সেখানে ভালো করার পসিবিলিটি বৃদ্ধি পাবে। তারপরেও যারা পার্ট  টাইম কাজ করে শুরু করতে চান তাদের হতাশ হবার কিছু নেই তাদের জন্যও রয়েছে সুযোগ, এর মধ্যে হলঃ

  • Blogging (পার্ট টাইম বা ফুল টাইম)
  • Online paid survey
  • Affiliate marketing
  • Content writing work
  • Online data entry job
  • Part-time photograph
  • Become an online seller
  • YouTube video creator

ইত্যাদি আরো আছে, এই ব্যাপারে অন্য কোন লেখায় বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো, আপনার খুব ইচ্ছা থাকলে এইগুলার ব্যাপারে যেকোন সময় গুগল করে জেনে নিতে পারেন।

যারা অনলাইনে ফুলটাইম ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদের উদ্দ্যেশ্যেঃ 

যারা অনলাইনে সম্পুর্ন ফুলটাইম ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদের সবার আগে যেই ব্যাপার টা বুঝা উচিত তা হল আপনি কি করবেন, আউটসোর্সিং নাকি ফ্রিল্যান্সিং। যদি আপনি এটা শুরুতেই বুঝতে পারেন তাহলে আপনার জন্য পথচলা সহজ হবে এবং বার বার প্লান পরিবর্তন করার ঝামেলায় পরতে হবে না।
এখন অনেকেই চায় ঘরে বসেই ইনকাম করতে আর আমাদের দেশের মেয়েরা এখন যেহেতু বাইরে খুব বেশি সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও অনুভব করে সেই থেকে অনেকেই চিন্তা করে অনলাইনেই ক্যারিয়ার গড়ার, সেক্ষেত্রে তাকে সাধারনত বাইরে যেতে হবে না এই ভেবে। এইটা ভালো চিন্তা আমার কাছে মনে হয়। আপনাকে স্বাগতম। কিন্তু এর আগে আপনাকে জানতে হবে আপনি কিভাবে কাজ করবেন, কি কাজ করলে আপনার জন্য সুবিধা হবে।

আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং (Outsourcing vs Freelancing) এর আলোচনা আগেও হয়েছে তাই এই ব্যাপারে আর আলোচনা করব না।

এমন যেকোনো কাজ যা কম্পিউটারে করা যায় এইরকম কাজ জানলে সেটা দিয়ে আপনি ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিংকরতে পারেন। ডাটা এন্ট্রি থেকে শুরু করে সফটওয়্যার তৈরি ও হতে পারে আপনার কাজ। ইন্টারনেট সম্পর্কে মোটামুটি ভালো ধারনা থাকতে হবে। অবশ্যই গুগল এবং ইউটিউবে প্রয়োজনীয় যেকোনো কিছু খোজ(search) করার যোগ্যতা থাকতে হবে অথবা যোগ্যতা তৈরি করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনার জন্য কাজের ক্ষেত্রগুলো অনেক, যেমনঃ

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত বহুল প্রচলিত এবং ব্যাবহৃত কাজগুলো

  • ডিজিটাল মার্কেটিং (বিস্তারিত জানার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাটাগরির লেখাগুলো পড়ুন)
  • ওয়েব ডিজাইন
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট (বিস্তারিত জানার জন্য ডেভেলপমেন্ট ক্যাটাগরির লেখাগুলো পড়ুন)
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন (ডিজাইন এর অনেক ক্ষেত্র আছে বিস্তারিত জানতে আমাদের ডিজাইন সম্পর্কিত ক্যাটাগরির লেখাগুলো পড়ুন)
  • ভিডিও এন্ড এনিমেশন (বিস্তারিত জানার জন্য গুগল করতে পারেন, এই ব্যাপারে আমাদের লেখাগুলো অতি শীঘ্রই পাবেন ইনশাল্লাহ)
  • সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট (বিস্তারিত জানতে গুগল করুন, আমাদের লেখাগুলো দেরিতে আসবে)
  • কন্টেন্ট রাইটিং (বিস্তারিত জানতে গুগল সার্চ করুন, এই ব্যাপারে আমাদের লেখাগুলো অতি শীঘ্রই পাবেন ইনশাল্লাহ)
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং( বিস্তারিত পড়তে গুগল করতে পারেন, আমাদের লেখা অতি শীঘ্রই পাবেন ইনশাল্লাহ)
  • ইত্যাদি আরও অনেক কাজ।

এর যেকোনো একটা বিষয়ের উপর ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনাকে যথেষ্ট সময় দিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জেনে তারপর এর উপর দক্ষতা অর্জন করে তারপর আপনাকে মাঠে নামতে হবে পুরাপুরিভাবে। এখান থেকে যেকোনো একটা বিষয়ের উপর ভালোভাবে দক্ষতা অর্জন করতে হলে আপনাকে ৬মাস বা ১/২/৩ বছর ও লাগতে পারে, এটা নির্ভর করবে আপনার শেখার আগ্রহ, শিক্ষার ধরন এবং আপনার ইচ্ছা শক্তি ও আপনার ধারনক্ষমতার উপর। তার মানে বুঝতেই পারছেন ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনাকে যেকোনো বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করতেই হবে।

অপরদিকে আপনি যদি আউটসোর্সিং করতে চান তাহলে এই সব বিষয় গুলোর উপরে আউটসোর্সিং করতে পারেন, এক্ষেত্রে আপনাকে সব বিষয়ের উপর পুরোপুরি দক্ষ হতে হবে এমন নয় তবে জিনিসগুলো সম্পর্কে আপনার স্পষ্ট ধারনা এবং এর দ্বারা কি কি কাজ হয়, কার কাজ কি সেইগুলা সম্পর্কে ভালো ধারনা রাখতে হবে অন্যথায় আপনি খুব বেশি ভালো করতে পারবেন না,  আউটসোর্সিং এর ক্ষেত্রে আপনাকে যদিও যেকোনো একটা নিদৃষ্ট বিষয়ে খুব দক্ষ হতে হবে না, তবে আপনাকে মার্কেটিং এর ব্যাপারটা অথবা কাজ পাওয়ার ব্যাপারটা খুব ভালো ভাবে জানতে হবে।

সাধারনত যারা আউটসোর্সিং(Outsourcing) করে তাদের মধ্যে বেশিভাগই হলো সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায়। তাই এক্ষেত্রে আপনার হাতে কাজ থাকতে হবে এবং সেই কাজ অন্যের দ্বারা করিয়ে নিতে গেলে আপনার দ্বারা অন্যকে পারিশ্রমিক দিতে হবে এতে সেই পরিমান ব্যায় বহন করতে হবে।

আউটসোর্সিং(Outsourcing) করার আগে আপনার যদি কিছু আগের অভিজ্ঞতা থাকে এবং আপনার নিয়মিত ক্লাইন্ট(যে আপনাকে কাজ দিবে) অথবা আপনি নিয়মিত কাজ জোগার করতে পারেন এবং অন্যের দ্বারা করিয়ে নিতে পারেন, আপনার যদি অন্যের সাথে যোগাযোগ এবং সম্পর্ক তৈরী করার সক্ষমতা ভাল থাকে তাহলে এটা আপনার জন্য আরো সহজ হবে।

কিছু প্রশ্ন ও উত্তরঃ

প্রশ্নঃ উপরের উল্লেখিত বিষয়গুলোর যেকোন একটা শিখে আমি কি আমার অনলাইন ক্যারিয়ার গড়তে পারব ?
উত্তরঃ অবশ্যই। উপরের উল্লেখিত কাজগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি বিষয়ের উপর আপনি যদি ভালো দক্ষতা অর্জন করতে পারেন এবং সময়ের সাথে আপডেট থাকেন তবে আপনার জন্য উজ্জ্বল ক্যারিয়ার অপেক্ষা করছে।

প্রশ্নঃ কাজ আমি কিভাবে পাবো অথবা কোথায় কাজ করব ?
উত্তরঃ কাজ শেখার পর আপনি নিজেই সহজে বুঝতে পারবেন যে, কোথায় গেলে আপনি কাজ পাবেন। কিভাবে কাজ করলে আপনার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারে। সামান্য বলি, বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস রয়েছে, যেখান থেকে আপনি কাজ পেতে পারেন চ্যালেঞ্জ এর মাধ্যমে। এছাড়াও আমাদের আইটি সেক্টরে দক্ষ লোক বলতে গেলে অনেক অনেক কম,আপনি চাইলে দেশীয় অথবা বিদেশি কোনো ভালো কোম্পানিতে ভালো অফারে রিমোট অথবা সরাসরি কাজ করতে পারেন।

প্রশ্নঃ নতুন হিসেবে আমার বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে। সিন্ধান্ত নিতে কারো সাহায্য প্রয়োজন, কি করব ?
উত্তরঃ আপনাকে নিয়ে ব্যবস্যা করবে না অর্থাৎ সঠিক গাইডলাইন দিতে পারে, এমন কাউকে খুজে বের করুন। যে এই ফিল্ডে দক্ষতার সাথে অথবা অনেকদিন ধরে কাজ করছে এমন লোকের কাছে পরামর্শ নিন, মনে রাখবেন আপনাকে নিয়ে, আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে সরাসরি ব্যবস্যা করবে না এমন লোক খুজে বের করুন, প্রয়োজনে তার সাথে আপনি সরাসরি কথা বলুন। আর যদি পরিবারের ভিতর কেউ থাকে তবে তার কাছ থেকে পরামর্শ/সহায়তা নিন। এভাবে কয়েক জনের কাছ থেকে পরামর্শ নিন, এতে আপনার জন্য জিনিসগুলা আরো পরিষ্কার হবে। এরপর তাদের কথা শুনে নিজে চিন্তা করে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। যেটা আপনার কাছে সঠিক মনে হবে।

পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই, আপনি কি করবেন আউটসোর্সিং নাকি ফ্রিল্যান্সিং এটা আপনাকেই সিধান্ত নিতে হবে। কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট(Comment) বক্সে প্রশ্ন করতে পারেন, সম্ভব হলে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব, ইনশাল্লাহ।

One thought on “আপনি কি করবেন আউটসোর্সিং নাকি ফ্রিল্যান্সিং

  1. অনেক সুন্দর আর তথ্যবহুল আলোচনা। সিদ্ধান্ত গ্রহনে অনেকখানি সহায়ক হবে আশা করছি।
    ধন্যবাদ মোস্তাকিন মিঠুনকে এত সুন্দর একটা আলোচনার জন্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *