ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গাইডলাইন । ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ার উপায়সমূহ কি কি?

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গাইডলাইন । ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ার উপায়সমূহ কি কি?

আসসালামু আলাইকুম, ফ্রেন্ড’স আইটি পয়েন্ট (FriendsITpoint) এর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আমরা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গাইডলাইন বা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ার উপায়সমূহ  নিয়ে আলোচনা করবো।

 

Table of Contents

প্রশ্নঃ প্রতিনিয়ত ৮-১০ ঘন্টা সময় freelancer হওয়ার জন্য যথেষ্ট, নাকি আরো বেশি সময় লাগবে, এতে আমি কত টুকু উন্নতি করতে পারবো? 

 

ফ্রিল্যান্সিং,আউটসোর্সিং,অনলাইন ক্যারিয়ার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা

প্রথম কথা হলো ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গাইডলাইন বা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ার উপায়সমূহ সম্পর্কে জানার পূর্বে  ফ্রিল্যান্সিং ( Freelancing ), আউটসোর্সিং ( Outsourcing ),অনলাইন ক্যারিয়ার এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনাকে স্পষ্ট ধারনা নিতে হবে। এরপর সিলেক্ট করতে হবে আপনি ফ্রিল্যান্সিং নাকি আউটসোর্সিং এ আগ্রহী হবেন। প্রথমে তথাকথিত ট্রেন্ড এ গা ভাসিয়ে সবাই যেদিকে হুমড়ি খেয়ে দৌড়ায় আপনি ও সেদিকে দৌড়াবেন না। কোনো একটা বিষয় জেনে বুঝে তারপর আগাবেন, এর ফলে আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।

ফ্রিল্যান্সিং খাতে মোটামুটি ভাল অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। দক্ষ পেশাদারদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে কোটি ডলারের। হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সার আছে ৫ লাখের ও অধিক।

ফ্রিল্যান্সিং সম্ভাবনাময় যেমন, তেমনি এ নিয়ে ভুল ধারণা আছে অনেক। অপরদিকে এই ভুল ধারনার কারনে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে নিয়মিত। মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদ।

Freelancing, Outsourcing,Online Career এই বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা পেতে আমাদের পূর্বের ব্লগ পোস্ট গুলি পড়ে আসতে পারেন।

 

১। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গাইডলাইন: এবার আসি আপনার প্রশ্নের মূল উত্তরে

যদি সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই কাজ করেন, তাহলে আপনি ৮-১০ ঘন্টা অথবা এর বেশি সময় ব্যয় করেও ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে সফল হতে পারবেন না। তবে হ্যা শিখতে পারবেন অনেক কিছু, পাশাপাশি এর সাথে একটি বর্তমান সময়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন বিষয় জড়িত, আর সেটা হল স্মার্ট ওয়ার্ক। বর্তমান সময়ে দ্রুত এবং স্মার্টলি কাজ করার বিকল্প কিছু নাই। আপনাকে যেমন দ্রুত আগাতে হবে তেমনি স্মার্টলি কাজও করতে হবে চারদিকে খেয়াল রেখে, অন্যথায় প্রতিযোগীতায় টিকে থাকা অনেক কঠিন হয়ে যাবে।

 

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার
ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার

 

২। কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করবেন বা পরিকল্পনা করবেন?

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়তে আপনাকে অনেক কিছু জানতে হবে। অনেক গবেষনা করতে হবে, জানার এবং বুঝার চেষ্টা করতে হবে। সেই গবেষনার প্রথম অংশ হলো, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসগুলো সম্পর্কে ভালভাবে জানার চেষ্টা করা। কি কি ধরনের কাজ হয়, কোন কাজগুলো বেশ জনপ্রিয়, কোন কাজের মার্কেট চাহিদা কেমন। আবার কোন কাজটা আপনার জন্য সুবিধা এবং আপনার কোন কাজটা পছন্দ সেসব কাজের একটা তালিকা তৈরি করে নিন।

গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে কিছু কাজ জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে।

সেই তালিকা থেকে কিছু কাজ আলাদা করে ফেলুন, যেমন আজ থেকে ৫ বছর পরে কোন কাজের চাহিদাটা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসগুলোতে বাড়তে পারে তা রিসার্স করতে হবে। কিভাবে রিসার্চ করবেন এটা গুগল করলে সহজেই পাওয়া যাবে, অথবা আপনি এই ব্যাপারগুলো নিয়ে পড়াশোনা করতে করতে আপনি নিজেই বুঝে যাবেন, ইনশাল্লাহ।
সেই তালিকা থেকে আপনার পছন্দের যে কোন একটি বিষয় নির্বাচন করুন কাজ করার জন্য।

 

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গঠনে ট্রেন্ডিং কিছু ফ্রিল্যান্সিং কাজের তালিকাঃ

বর্তমান সময় এবং সামনের দিনের কিছু জনপ্রিয় কাজের তালিকা থেকে আমি ১০ টি বিষয় তুলে ধরলাম, আপনি এসবের ব্যাপারে রিসার্চ করে জেনে নিতে পারেন, তারপর নির্ধারন করবেন কোনটা আপনার জন্য ভালো হয়।

১। ডিজিটাল মার্কেটিং (Digital Marketing)
২। আর্টিকেল রাইটিং (Article Writing)
৩। ওয়েব ডিজাইন (Web Design)
৪। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট (Web Development)
৫। গ্রাফিক্স ডিজাইন (Graphics Design)
৬। এন্ড্রয়েড এপ্স ডেভেলপমেন্ট (Android Apps Development)
৭। ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট (Virtual Assistant)
৮। ডাটা সায়েন্স এন্ড এনালাইটিক্স (Data science and analytics)
৯। ব্লগিং (Blogging)
১০। এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)

এছাড়াও আপনি দেখতে পারেন অনলাইনে ইনকামের সেরা ২০ টি উপায়

 

৩। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারঃ কাজ করার জন্য কাজ শেখা আবশ্যক

কাজ শেখার আগে অবশ্যই আপনাকে একটি বিষয় ধরে ধরে আগাতে হবে, না হলে কোনো কিছুই ভালোভাবে শিখতে পারবেন না, সে জন্য কাজ শিখতে গিয়ে আপনি কাজ শেখার পেছনেই সময় দিবেন, অন্য কিছু নয়। ইনকামের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ভালভাবে কাজ না পারা পর্যন্ত। মোটামুটি ধরনের কাজ শিখতে প্রায় ৬-১২ মাস সময় দিতে হবে, এর কম বেশি ও হতে পারে। যদিও এটা নির্ভর করে আপনার ক্রিয়েটিভি, আপনার কোয়ালিটি, আপনার কাজ শেখার আগ্রহ, আপনার ধারনক্ষমতা, সর্বোপরি আপনি যে কাজ করছেন তার উপর।
অবশ্যই কোনো প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ( ভালো মানের ) কোর্স করতে পারেন, তাহলে সহজ হবে বুঝতে এবং একটা ধারাবাহিক পর্যায়ে কাজ করতে পারবেন।

 

 

৪। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারঃ কাজ শেখার ক্ষেত্রে সাবধানতা/সতর্কতা

এখনকার সময়ে যে বিষয়গুলো বেশ ভাল করছে, সেই খাতের নাম ব্যবহার করে কিছু প্রতারক প্রতারণা করা শুরু করে।
বর্তমান সময়ে বেশ জমজমাট ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এর নামে ট্রেইনিং সেন্টার প্রতারণা।
দেখা যায় যে এখনকার বেশিরভাগ ট্রেনিং সেন্টার বা ট্রেইনার গুগল-ইউটিউব বা ভাল মেন্টরের কোর্স কপি করে।

যাই হোক ভাবনা আপনার, একটু ভাবুন, যে ব্যাক্তি ঐ কাজে নিজে সফল, সেই আপনাকে সফল হওয়ার গাইডলাইন দিতে পারে, এবং এটা আপনার জন্য সহজ ও বোধগম্য হবে। কিন্তু যে নিজেই জানেনা বা করেনা, সে কিভাবে আপনাকে শিক্ষা দিয়ে দক্ষ করার জন্য সহায়ক হবে?

ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় যে দুইটি বৈশিষ্ট্য অর্জন করা দরকার, তার অন্যতম একটি হল, ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকা এবং আর একটি জিনিস আপনাকে সবার থেকে এগিয়ে রাখবে সেটা হলো যেকোনো একটি জিনিস দেখেই শিখে নেওয়া অথবা নিজে থেকে বুঝে নেওয়া!

যদিও সেটা সবার ক্ষেত্রে সমান নয় তবুও এই বিশেষ গুনটা আপনাকে অনেক এগিয়ে রাখবে।

 

সাইবার ক্রাইমকে ফ্রিল্যান্সিং বলে চালিয়ে নেওয়া কিছু অসাধু ব্যক্তি

জেনে রাখা ভাল হবে যে, বাংলাদেশে বর্তমানে অনলাইনে অনেক সফল ব্যক্তিরাই ফ্রি-মেন্টরিং করছে।
একদল প্রতারক আছে, যেসব মানুষ কাজের কিছু জানে না তাদেরকে দিয়ে বিভিন্ন কাজ করিয়ে নিচ্ছে, এরা অবৈধ-সাইবারক্রাইমকে ফ্রিল্যান্সিং বলে চালিয়ে দিচ্ছে। যেমনঃ Facebook Fake Like, CAPTCHA entry, PTC (ySense,Clicksense), etc. এগুলো অবৈধ এবং পিওর সাইবার অপরাধ। ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে এইগুলার কোন যোগসূত্র নেই।

 

৫। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারঃ কাজ শেখা শুরু হয়ে গেলো এখন করনীয়

ফ্রিল্যান্সিং সহজ কিছু নয়, আবার একজন সফল ফ্রিল্যান্সার এর আয় ও কম নয়। কারন এর পিছনের গল্প আর কষ্টের কথা সেই জানে যে সফল হতে পেরেছে। কারন সফলতার পেছনের গল্পগুলাতে অনেক স্ট্রাগল থাকে। দিন রাত এক করে কাজ শেখা, টিউটোরিয়াল দেখা, কাজ প্রাক্টিস করা।  নিত্যদিন নতুন নতুন জিনিস সম্পর্কে অবগত হওয়া, ধৈর্য ধরে মাসের পর মাস লেগে থাকা। বন্ধু বান্ধবের আড্ডা থেকে দূরে থাকা, আত্নীয় স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার ও সময় হয় না। এইগুলা হলো একজন সফল ফ্রিল্যান্সার পিছনের গল্প।

  • কাজ শেখা হলে এবার আপনি কয়েকটি মার্কেটপ্লেস খুজে বের করুন।

মার্কেটপ্লেস এ একাউন্ট করার আগে সেই সম্পর্কে খুব ভালো ধারনা অর্জনের চেষ্টা করুন, অভিজ্ঞ কারো কাছে পরামর্শ নিন মার্কেটপ্লেস এর টার্মস এন্ড কন্ডিশন, রুলস গুলা ভালোভাবে জানার চেষ্টা করুন।

  • নিয়মিত শিখতে থাকুন

এখন আপনার নিয়মিত যে ব্যাপারটা শিখতে হবে এপ্লাই করতে হবে সেটা হলো সব থেকে গুরুত্বপূর্ন, আপনাকে জানতে হবে কিভাবে একটি ভালো এবং প্রফেশনাল মার্কেটপ্লেস একাউন্ট তৈরি করবেন? কিভাবে কাজের জন্য এপ্লাই করতে হবে? আপনার ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি করে বায়ারদের সাথে কিভাবে কথা বলবেন, ইত্যাদি বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ন।

  • কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ান

ধরে নিলাম আপনি নতুন ফ্রিল্যান্সার, এই জন্য আপনার পরিচিত অথবা অপরিচিত পুরাতন ফ্রিল্যান্সাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করুন, যারা অভিজ্ঞ তাদের হয়তো এত বেশি সময় নাই আপনাকে দেওয়ার তারপর ও আপনার প্রয়োজনে বার বার চেষ্টা করুন, কাউকে বিরক্তিকর প্রশ্ন করবেন না, ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করলে করতে পারেন, এবং আপনার যে বিষয় সম্পর্কে জানার দরকার তা সুন্দর করে গুছিয়ে তাকে সেন্ড করুন, আশা করি প্রফেশনাল এবং মানসিক ভাবে ভালো মানুষ সময় করে আপনার রিপ্লাই দিবে, একজনের কাছে না পেলে আরো কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন, আত্ম অহংকার ভুলে যান, আপনার প্রয়োজনে আপনি চেষ্টা করবেন। বেশ ভালো হবে আপনার নিজের এলাকার কোন সফল ফ্রিল্যান্সারের সাথে যোগাযোগ তৈরি করতে পারলে।

  • ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকুন

লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো, যেকোনো মার্কেটপ্লেস থেকে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুনদের অনেক বেশি ধৈর্য্য ধারন করে লেগে থাকতে হয়। কচ্ছপ যেমন কোন কিছু ধরলে আর সহজে ছাড়ে না, ঠিক তেমনি আপনিও শক্ত করে ধরুন। মনের মধ্যে একটা জেদ তৈরী করুন, আপনাকে দিয়ে হবে, সেই প্রত্যয়ে লেগে থাকুন, প্রতিনিয়ত নিজেকে আপডেট রাখুন।

 

৬। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারঃ যাদের জন্য এই মুক্ত-পেশা

  • যেসব ব্যক্তি ধৈর্য্য ধরে কাজ শেখার মত মানসিকতা রাখে ও ধৈর্য্য ধারন করে কাজ করতে পারে।
  • কমিউনিকেশন করার মত যোগ্যতা রাখে অথবা অর্জনের চেষ্টা করে যারা।
  • যারা শর্টকাটে টাকা আয় করার ধান্দা করে না, পরিশ্রম করে ইনকামের চেষ্টায় ব্রত।
  • যাদের শেখার প্রবনতা আছে।
  • অসৎ উপায়ে নয় সৎ পথে জিবিকা নির্বাহ করতে চায়
  • এই রকম আরো অনেক ভালো বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হয়।

 

৭। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারঃ যাদের জন্য এ পথে না আসাই ভাল

  • কাজের চেয়ে টাকাকে মূল্যয়ন করে বেশি।
  • সহজ এবং অল্প সময়ের মধ্যে হাজার হাজার ডলার আয়ের পথ খুজছেন।
  • চাকরি বা অন্য পেশার পাশাপাশি সাইড ইনকাম হিসেবে ভাবছেন তাদের জন্য একটু কষ্টকর ও সফলতার সম্ভাবনা কম।
  • যারা তথাকথিত ট্রেইনিং সেন্টারের লোভনীয় বিজ্ঞাপন ‘ঘরে বসে আয় করুন হাজার ডলার’ দেখে এই ফ্রিল্যান্সিং এর প্রতি আগ্রহী হয়েছেন, তারা কিছুদিন পর হতাশায় ভুগবেন এবং একটা নেগেটিভ ধারনা তৈরী হবে মনে।
  • ফ্রিল্যান্সিং কে অতিরিক্ত সহজভেবে আপনার বর্তমান পেশা ছেড়ে না আসাই ভালো।
  • পাশের কারো শো-অফ দেখে অনুপ্রানীত হয়ে ভালো করে খোজ খবর না নিয়েই এ পথে পা বাড়াবেন না। কারন যেমন সম্ভাবনা আছে তেমনি আছে হতাশা।

 

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার সম্পর্কে ভুল ধারনা

 

৮। ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে কিছু ভুল ধারনাঃ

  • ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং একই জিনিস।
  • ৯০০ টাকায় ২ মাস কোর্স করলেই পরের মাস থেকে হাজার হাজার টাকা আয়।
  • ট্রেইনিং সেন্টারে গেলেই সব শিখে ফেলব এবং ইনকাম হওয়া শুরু হবে
  • Facebook Fake Like, CAPTCHA entry, PTC (ySense,Clicksense), BET365 এগুলো ফ্রিল্যান্সিং!
  • এটা করা খুব সহজ, দৈনিক ৩-৪ ঘন্টা কাজ করলে মাস শেষে হাজার ডলার।
  • ফ্রিল্যান্সিং মানে এসইও, ওয়েব ডিজাইন।
  • এই সেক্টর আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডের শীক্ষার্থীদের জন্য, নন-আইটি বা বিজনেস অথবা অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছেলে মেয়েদের জন্য না।
  • ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আইটি রিলেটেড ফিল্ডেই কাজ করতে হবে।

 

আবারো কিছু গুরুত্বপূর্ন পরামর্শঃ

পারলে ট্রেনিং সেন্টার এর থেকে দূরে থাকুন, নিজে থেকে জানার এবং শেখার চেষ্টা করুন, অনলাইনে অনেক রিসোর্স বিদ্যমান।
আর যদি খুব প্রয়োজন হয় তাহলে ভেরিফাইড এবং অভিজ্ঞদের সাথে পরামর্শ নিন। এমন কোনো ট্রেনিং সেন্টার থেকে শিক্ষা গ্রহন করুন যেনো সময় এবং টাকা দুইটাই নষ্ট না হয়।
অল্প সময়ে অনেক টাকা আয়ের লোভ যারা দেখায় তাদের থেকে দূরে থাকুন।
পারলে কোনো অভিজ্ঞ টিমের সাথে কাজ করুন, অথবা টিম তৈরী করে কাজ করুন।
কাউকে জিজ্ঞাসা করার আগে নিজে থেকে ইন্টারনেট থেকে সমাধান খুজে বের করার চেষ্টা করুন। এই কাজটি করতে পারলে আপনি নিজে থেকেই অনেকদুর আগাতে পারবেন।

 

উপসংহারঃ

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গাইডলাইন। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ার উপায়সমূহ কি কি ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন, মূল কথা হলো আপনাকে প্রচুর জানতে হবে, ধৈর্য্য ধরে সময় দিয়ে কাজ শিখতে হবে, শর্টকার্ট কোনো উপায় নেই। নিজেকে সময়ের সাথে আপডেট রাখুন, জানার চেষ্টা করুন।

পরবর্তী পোষ্টে আলোচনার বিষয়বস্তু হতে পারে এমন ১০ টি জনপ্রিয় বিষয় যা আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে, ইনশাল্লাহ।

 

তো আজকে এই পর্যন্তই। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে, আমাদেরকে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। এই আর্টিকেলটি যদি আপনার সামান্যতম উপকারে আসে তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করতে ভুলবেন না। আপনার অনলাইন যাত্রা শুভ হউক। ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *